মেইন ম্যেনু

হঠাৎ করেই স্তনে সমস্যা? জেনে নিন কি করবেন…

ব্রেস্টে লাম্প মানেই অনেকে মনে করেন নির্ঘাত ব্রেস্ট ক্যানসার হয়েছে। ভাবাটা অস্বাভাবিকও নয়। যে হারে ব্রেস্ট ক্যানসারের সমস্যা বাড়ছে নারীদের ভয় পাওয়ার কারণটা মোটেও হেলাফেলার কিছু নয়। তবে ব্রেস্টে লাম্প দেখা দিলেই যে মনে করবেন ক্যানসার হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। ব্রেস্টে লাম্প অনেকেই হঠাৎ আবিস্কার করেন। কিন্তু প্রশ্নটা হল লাম্প হয় কেন? এক এক বয়সে এক এক কারণে লাম্প হতে পারে। চলুন তাহলে ব্রেস্টে লাম্প হওয়ার কারণগুলো জেনে নিই।

১। বয়ঃসন্ধিতে স্তনে লাম্প ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা হতে পারে। এটা নিয়ে চিন্তার বিশেষ কোন কারণ নেই। এই লাম্প নিজে নিজেই চলে যায়।

২। অল্পবয়স্ক মহিলারা যারা (ব্রেস্ট ফিড করাচ্ছেন) ব্রেস্ট অ্যাবসেস সাধারণত যন্ত্রণাদায়ক ও লাল হয়। এই সমস্যায় সার্জন দেখিয়ে কারণ জানা ও চিকিৎসা জরুরি। প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে লাম্প অনেক কিছুই হতে পারে। সিস্ট থেকে শুরু করে বিনাইন টিউমার কিংবা ক্যানসার। মেনোপজের পড়ে স্তনে লাম্প দেখা দিলে টেস্ট করা জরুরি। কারণ এর থেকে ক্যানসার হতে পারে। তবে লাম্প দেখলেই সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। ডায়াগনসিসের ফল যাই বের হোক না কেন আপনার সচেতন হওয়া উচিত।

৩। প্রথমেই বলবো, হাইপার হবেন না। খেয়াল করে দেখুন স্তনের আর কোথাও বা বগলে আর কোনও লাম্প হয়েছে কি না। আর্মপিট লাম্প সাধারণ লিম্ফ নোড হয়। ভালো করে দেখুন স্তনের চামড়া আর নিপল আন্ডারলায়িং লাম্পের সাথে জুড়ে আছে কি না। থাকলে চিন্তার বিষয়। লাম্প নরম হলে চিন্তার কিছু নেই। খুব শক্ত হলে ডাক্তার দেখান।

৪। পিরিয়ডের সময় অনেক নারীরই ব্রেস্টে ব্যথা হয়। এটা কিন্তু ফাইব্রোসিস্টিক ডিজিজ। সামান্য ট্রিটমেন্টেই ঠিক হয়ে যেতে পারে। লাম্প নিয়ে যদি কোন সন্দেহ হয়, তা হলে সার্জনের পরামর্শ নিন।

এবার আসা যাক ব্রেস্ট ক্যানসারের কথায়। সাধারণত কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর চিহ্নিত করা যায়।

– একটা ব্রেস্টে ক্যানসার হলে অন্য ব্রেস্টেও ক্যানসার হতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

– অতিরিক্তি ধূমপান করলে বা এলকোহল পান করলে ব্রেস্ট ক্যানসার হতে পারে।

– ওবিসিটিও কিন্তু ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার অন্যতম কারণ।

তবে বয়ঃসন্ধি থেকে যদি কেউ মোটা হতে শুরু করেন এবং ৪০-৫০ বছরেও মোটা থাকেন, তাদের পোস্ট মেনোপজাল ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি। তবে ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়া পর্যন্ত আর অপেক্ষা করার তো কোন মানে হয়না। তাই আজ থেকেই নিজেদের সচেতন করুন। কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন। হেলদি খাবার খান। ধূমপান ও অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। ওজন কমিয়ে ফেলুন। তবে কমিয়ে ফেলা যথেষ্ট নয় সেটাকে সঠিক ভাবে মেইনটেইন করতে হবে। মাঝে মাঝেই নিজেই নিজের স্তন পরিক্ষা করুন।

নারীদেহের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হল স্তন। সুস্থ দেহের পাশাপাশি সুন্দর স্তনেরও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কর্মব্যস্ত জীবনে নারীরা নিজের দেহের প্রতি খুব কমই যত্ন নিতে পারেন। দেহকে সুস্থ রাখার সাথে সুগঠিত স্তন পেতে সঠিক ডায়েট, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম, প্রচুর পানি করা, মাঝে মাঝে নিজেই নিজের স্তন চেক করা প্রয়োজন। কিন্তু অনেক নারীর ক্ষেত্রেই নিজের দেহের প্রতি অযত্নের কারণে দেখা দেয় নানা সমস্যা এবং সাথে স্তনের আকারও নষ্ট হয়ে থাকে। তাই জেনে রাখুন কিছু বিষয় যেই কারণে স্তনের আকার নষ্ট হয়।

ভুল সাইজের ব্রা পরা

স্তনের সাইজ অনুযায়ী যদি সঠিক মাপের ব্রা না পরা হয় তাহলে তা স্তনের আকার নষ্ট হওয়ার জন্য দায়ী। তাই ব্রা কেনার সময় অবশ্যই দেখেশুনে সঠিক মাপের ব্রা কেনা উচিৎ। আবার অন্যদিকে ১৫ বছরের একটি গবেষণার পর ২০১৩ তে প্রকাশ করা হয়, যে সকল নারীরা কখনোই ব্রা পরেন নি তাদের স্তন যারা সবসময় ব্রা পরছেন তাদের থেকেও সুগঠিত।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খাওয়া

সর্বদা সুস্থ থাকার মূল মন্ত্রই হল পানি। ঠিক মতো পানি পান না করলে যেমন ত্বকের লাবণ্যতা নষ্ট হয়ে যায় ঠিক একই ভাবে স্তনের আকারও নষ্ট হয়ে থাকে। তাই সুস্থ থাকতে ও সুগঠিত স্তন পেতে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া উচিৎ নারীদের।

রোদের আলো থেকে স্তন রক্ষা না করা

আমরা জানি যে সূর্যের আলো আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এর থেকে বাঁচার উপায় হল সানস্ক্রিন। যদিও আমাদের দেশে নারীরা সানবাথ করেন না। কিন্তু তারপরেও অনেক নারীই খোলামেলা কাপড় পরে থাকেন। তাই অন্যান্য দেহের অন্যান্য অংশে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পাশাপাশি স্তনেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

ধূমপান ত্যাগ করতে হবে

দীর্ঘ ৮ বছরের একটি গবেষণার পর বলা হয়েছে যে স্তনের আকার নষ্ট হওয়ার পিছনে ধূমপান করা অন্যতম কারণ। ধূমপানের ফলে নারীর স্তনের টানটান ভাব নষ্ট হয়ে যায় এবং যার কারণে স্তন সুগঠিত থাকে না।

অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলা

আপনি যদি অতিরিক্ত ডায়েট করে থাকেন তাহলে তা স্তনের জন্য ক্ষতিকর। খুব বেশি ডায়েট করার জন্য দেহের চামড়ার সতেজ ভাব কমে যায় চামড়া ঝুলে পড়ে। এবং ওজন কমানোর পরে নারীদেহে সবার প্রথমে ওজন কমে স্তনের কারণ স্তনেই সবচেয়ে বেশি ফ্যাট থাকে।






মন্তব্য চালু নেই