মেইন ম্যেনু

স্ত্রী বোন ও নিজের মেয়েকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি

রাজস্থানে সাধারণ মানুষের উপার্জন দিনে মাত্র এক ইউরো৷ দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা পেতে রাজস্থানের নাট এবং কাঞ্জর গোষ্ঠীর মানুষরা এগিয়ে গেছে পতিতাবৃত্তির দিকে৷ এর শিকার হচ্ছে শিশুরাও৷ ভারতের রাজস্থানে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক আসে৷ প্রাসাদ ছাড়াও বিভিন্ন রঙ-বেরঙের হাতের কাজ দেখে তারা মুগ্ধ হয়৷ কিন্তু এরপরেও রাজস্থান ভারতের দরিদ্রতম রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি৷

কাঞ্জর গোষ্ঠীর পুরুষরা খুবই কম অর্থ উপার্জন করে৷ বেশির ভাগ সময়ই তারা পতিতাদের ভাড়া দেয়ার কাজ করে৷ আর এসব পতিতা হচ্ছে তাদের স্ত্রী, বোন এবং নিজের মেয়ে৷ কাঞ্জর সম্প্রদায়ের মেয়েদের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে৷ বিবাহিত জীবন অথবা পতিতাবৃত্তি৷ সুরভী দয়াল দিলেন কষ্টকর একটি তথ্য,‘‘যখন এসব মেয়ের বয়স ১০ বা ১২ তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়া হয়, কে কী হবে৷ মেয়েটি যদি খুব চটপটে হয়, কথাবার্তায় ঝটপট হয়, দেখতে সুন্দরী হয় – তাহলে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পতিতাবৃত্তির দিকে৷ কিন্তু একটি মেয়ে যদি খুব লাজুক হয়, দেখতে সুন্দরী না হয় অথবা মেয়েটি যদি খুব মোটা হয় তাহলে তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়৷”

এভাবে গত কয়েক প্রজন্ম ধরে রাজস্থানের বেশ কিছু গোষ্ঠীর মেয়েরা পতিতাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত৷ অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকেই অনেকে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে৷ এর মূল কারণ হল, যেভাবেই হোক পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, টিকিয়ে রাখতে হবে৷ ইদানিং বেশ কিছু সংস্থা এগিয়ে এসেছে৷ এসব বাচ্চা মেয়েদের সাহায্য করতে চাইছে, বোঝাতে চাইছে যে পতিতাবৃত্তিই একমাত্র পথ নয়৷

মুম্বই’এর একটি এনজিও-র নাম সুমিত্রা ট্রাস্ট৷ এই সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজস্থানের প্রায় বারোশো মহিলা মুম্বইয়ে পতিতালয়ে কাজ করছে৷ আর এই পেশায় তারা প্রতিনিয়ত সম্মুখীন হচ্ছে একাকীত্ব, এইডস এবং অন্যান্য নানা ধরণের অসুখ-বিসুখের৷

পিংকি যদিও এখন আর যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করছে না, কিন্তু তার ছোট তিনটি বোন এবং তার ১৬ বছরের মেয়ে এই পেশায় কাজ করছে৷ বেঁচে থাকা, পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখাই মূল উদ্দেশ্যে৷ এরা সবাই কাঞ্জর সম্প্রদায়ের৷ রাজস্থানের প্রাচীন অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যে কাঞ্জর একটি৷ এছাড়া নাট সম্প্রদায়ও পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে৷

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছেন সুরভী দয়াল৷ নাট আর কাঞ্জর সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দিক, তাদের বেঁচে থাকা এবং সংগ্রাম হচ্ছে তাঁর গবেষণার মূল বিষয়৷ সুরভী দয়াল বললেন,‘‘অনেক অনেক আগেই থেকেই তারা এ ধরণের নাচ-গানের মাধ্যমে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করতো৷ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বিয়েতে তাদের ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হত নাচ-গানের জন্য৷ তাদের নির্দিষ্ট করে স্থায়ী কোন থাকার জায়গা ছিল না৷ তবে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় তাদের ‘অপরাধী’ হিসেবে দেখা হত৷ পুরো গোষ্ঠী অপরাধ করে বেড়ায় – এমন একটা ধারণা চালু করা হয়েছিল৷ সবাই সেটাই বিশ্বাস করেছিল৷ এরপর তারা বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে নাচ-গানের অনুষ্ঠান করা বন্ধ করে দেয়৷ বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল একেবারে হারিয়ে যায়৷ এর ফলে তারা পুরোপুরি পতিতাবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে৷”






মন্তব্য চালু নেই