মেইন ম্যেনু

সোমবার সারাদেশে হরতাল

আগামী ২৯ ডিসেম্বর সোমবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। শনিবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হরতালের এ ঘোষণা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, গাজীপুরে জনসভা করতে না দেয়ার প্রতিবাদে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ২০ দলের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা, এই জোটের শীর্ষ নেতাদের ওপর মামলার প্রতিবাদে এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, খন্দকার মোশাররফ, নাসির উদ্দিন পিন্টুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এ হরতাল ডাকা হয়েছে।

শনিবার গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে ২০ দলের একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কথা ছিল, ওই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

তবে ১৫ ডিসেম্বর লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজাকার’ উল্লেখ করে বক্তব্য দিলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন।

তারেকের এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে আওয়ামী লীগ থেকে। তারেকের নামে প্রায় তিন ডজনের মতো মামলা হয় সারাদেশে। ছাত্রলীগ ঘোষণা দেয়- তারেক রহমান ওই বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাইলে গাজীপুরে খালেদা জিয়ার জনসভা প্রতিহত করা হবে। একইসঙ্গে ওই মাঠেই একই দিনে প্রতিবাদ সমাবেশেরও ডাক দেয় ছাত্রীগ।

বিএনপি ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি এমন ঘোষণার রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা যায় উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে গাজীপুর জেলায়।

বিএনপি তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ করে, জনসভা ভণ্ডুল করতেই পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগকে দিয়ে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

এরই মধ্যে গত বুধবার বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরাকে কেন্দ্র করে বকশিবাজার এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপি ও ছাত্রলীগ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ ছবি বিশ্বাসের ওপর হামলাও চালায় বিএনপির কর্মীরা। পুুড়িয়ে দেয়া হয় তার ব্যবহৃত গাড়িটি।

ছবি বিশ্বাসের ওপর হামলার ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাদী অভিযোগ আনেন, হত্যার জন্যই তার ওপর এ হামলা চালানো হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় হরতালের কর্মসূচি ঘোষণার আগে ২০ দলের মহাসচিব পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিক হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধের গাড়ি, সংবাদপত্রের গাড়ি, ফায়ার সার্ভিস হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।’

প্রসঙ্গ শিশু জিহাদ
শাহজাহানপুরে শিশু জিহাদের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্যের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তার বক্তব্যে জাতি হতাশ। স্বরাস্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য দুর্ভাগ্যজনক।’

শিশু জিহাদারে আত্মার মাগফিরাতও কামনা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।






মন্তব্য চালু নেই