মেইন ম্যেনু

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে ব্যাপক ভাঙন

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। নদী সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বালিঘুগরী, ইটালী, সিমলা ও বাহুকা পয়েন্টে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। ১৫ দিনের ভাঙনে এরই মধ্যে চার গ্রামের প্রায় তিন হাজার হেক্টর আবাদি জমি, অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একদিকে ভাঙন, অন্যদিকে বর্ষায় গ্রামগুলো তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছে হাজার হাজার মানুষের। বালিঘুগরী পয়েন্টে ৩৬০ মিটার এলাকায় তিন মাস আগে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে জিওব্যাগ নিক্ষেপ এবং আট কোটি টাকায় বন্যাণিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি।

একদিকে ভাঙন, অন্যদিকে বর্ষায় গ্রামগুলো তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছে হাজার হাজার মানুষের। এসময় কেউ কেউ নিজেদের বাড়ির জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছিন। গত ১৫ দিন আগে একই স্থানে শুরু হয় ভাঙন, আর জিও ব্যাগগুলোও ভেসে যায় নদীগর্ভে। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাধের ৩৮০ মিটারসহ আশপাশের চার কিলোমিটার এলাকার অর্ধশতাধিক বসতভিটা ও বহু জমি বিলীন হয়েছে নদীতে। ভাঙন ক্রমশ বাড়লেও তা রোধে কোনো কাজ শুরু করেনি সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

বিলীন হওয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশ দিয়ে যাতে বর্ষা মৌসুমে শহরের পানি ঢুকতে না পারে সেজন্য শুধু বিকল্প বালির বাঁধ তৈরীর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু বর্ষায় এ বাঁধ কতটুকু কাজে আসবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ পাউবো কর্মকর্তারা। ভাঙ্গন মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় ভাঙনরোধে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় বালিঘুরঘুরি গ্রামের ময়েজ উদ্দিন (৭৫) জানান, নিজের চোখেই নদী ভাঙ্গন দেখলাম ১০-১২ বার। জীবন আর চলেনা। সহায় সম্বল যা ছিলো এবারের ভাঙ্গনে নদীতে চলে যাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, যমুনার পানি ডানতীরে আঘাত হানছে। একারনে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে যমুনার দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ১১-১৭ নম্বর প্যাকেজগুলোর কাজ হয়নি। তাই তাদের বাদ দিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নতুন করে টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।###






মন্তব্য চালু নেই