মেইন ম্যেনু

সিফাত হত্যার রায়: রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অসন্তোষ

ইয়জিম ইসলাম পলাশ, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাত হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পরিবার ও বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে রায় শোনার পর তারা এ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের দেয়া এ রায়ে সিফাত আত্মহত্যা করেছে মর্মে স্বামী মো. আসিফ প্রিসলির ১০ বছরের কারাদ- দেয়া হয়েছে। আতœহত্যা প্ররোচনায় তাকে এ রায় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। সিফাতের শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

খালাসপ্রাপ্ত বাকি তিন জন হলেন সিফাতে শ্বশুর মো. হোসেন রমজান ও শাশুড়ি নাজমুন নাহার নাজলী এবং ময়নাতদন্তকারী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক জুবায়দুর রহমান। প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বর্তমানে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বে আছেন। আসামিদের মধ্যে মো. আসিফ কারাগারে আছেন।

আজ রায় শোনার পর সিফাতের পরিবার ও বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সিফাতের ছোট ভাই কে এম আসিফ-উল-ইসলাম পরিবারের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ রায়ে আমরা খুবই অসন্তুষ্ট। আমাদের ধারণা কোনভাবে এ রায়কে প্রভাবিত করা হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আমরা আপিল করবো।’

রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বিভাগের শিক্ষার্থী আলী ইউনুস হৃদয়, উজ্জ্বল সায়েম ও মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আসলে সিফাত আপু হত্যা মামলার রায় নিয়ে আমরা অসন্তষ্ট। রায়ে আমরা নায্য বিচার পাইনি। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে খালাস দেওয়া নিয়ে আমরা হতাশ।’

সিফাতের এক সহপাঠী গোলাম রাব্বনী বলেন, সিফাত হত্যা মামলার রায় নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা ছিল প্রধান আসামীর ফাঁসি এবং অন্যান্যদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হবে। কিন্তু আদালতের এ রায়ে আমরা অবাক হয়েছি। এর প্রতিবাদে আগামীকার মঙ্গলবার বিভাগের সামনে আমরা বিক্ষোভ সমাবেশ করব এবং উচ্চ আদালতে আপিল করব।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পা-ে বলেন, “সিফাতের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে ‘হত্যা’ হিসেবে অনেকটা প্রমাণিত হওয়ার পরেও এ ধরনের রায় আমাদের হতাশ করেছে। এ দ-ে আমাদের সন্তুষ্ট হওয়ার কোন কারণ নেই।”

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরের মহিষবাথান এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে ওয়াহিদা সিফাতের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার চার দিন পর ওয়াহিদার চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার রাজপাড়া থানায় সিফাতের স্বামী মো. আসিফ, শ্বশুর মো. হোসেন রমজান ও শাশুড়ি নাজমুন নাহার নাজলীকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহের প্রথমে ময়নাতদন্তকারী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক জুবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। মামলাটি পরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে স্থানান্তর করা হয়।

প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ডা. জোবাইদুর রহমান বলেন, ‘সিফাত আত্মহত্যা করেছেন।’ পরে ২০১৫ সালের ২১ জুন কবর থেকে সিফাতের লাশ তুলে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসক পুনরায় ময়নাতদন্ত করে জানান সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে।

গত বছর ২২ মার্চ নওগাঁ জেলা সিআইডি সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আহমেদ আলী আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ রায় দেন আদালত।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিষয়টি হত্যা না আত্মহত্যা সেটা নিয়ে পুলিশ নিজেই দ্বিধায় ছিল। প্রশ্নের সুরাহা না করেই পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।






মন্তব্য চালু নেই