মেইন ম্যেনু

‘সন্ত্রাসী দল’ বলায় কানাডা সরকারের দ্বারস্থ হতে পারে বিএনপি!

একটি মামলার রায়ে কানাডার ফেডারেল আদালত বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়ে কানাডা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের কথা ভাবছে বিএনপি। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকাস্থ কানাডিয়ান দূতাবাসে গিয়ে দুজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনাও করেছেন।

সেই সঙ্গে খোঁজ-খবর নিয়েছেন রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া মোহাম্মদ জুয়েল হোসেন গাজীর ব্যাপারেও। এমন তথ্য পাওয়া গেছে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে।

এর আগে ২৫ জানুয়ারি কানাডার ওই আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মূল্যায়ন করে রায় প্রকাশ করেন। এ খবর গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় কানাডাভিত্তিক অনলাইন সংবাদপত্র নতুন দেশ- এ। এর সূত্র ধরে ঢাকার কয়েকটি গণমাধ্যমেও খবরটি প্রকাশিত হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালেই নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন, কানাডার আদালতের রায়ে বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসেবে যে পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে তার পেছনে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের চক্রান্ত আছে।

সূত্রমতে, একই সময়ে ঢাকাস্থ কানাডার দূতাবাসে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। যদিও আমির খসরু জানান, প্রায় মাস খানেক আগের পাওয়া একটি মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নিতেই তারা দূতাবাসে গিয়েছেন।

দলীয় সূত্রমতে, কানাডার আদালতের রায়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বিএনপি। এক্ষেত্রে দলটির কয়েকটি টিম কানাডার প্রবাসী বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া জুয়েল হোসেনের বিস্তারিত বিবরণ সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে। আশ্রয় চাওয়া ব্যক্তির সন্ধান ঠিকঠাক পেলেই কানাডার উচ্চ আদালতে আপিল করার বিষয়টি নিয়ে ভাববে বিএনপি। আমির খসরু জানান, তার কাছে রায়ের কপি আছে। রায় পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তারা।

শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আমির খসরু বলেন, ‘এটা কোর্টের বিষয়। কানাডার সরকারের কাছে আমরা কিছু জানাব কি না, এ নিয়েও কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি। যে ব্যক্তি আবেদন করেছেন, তাকেও আমি চিনি না। ফলে, খোঁজ-খবর নিচ্ছি। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।’

দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছেন কানাডার ফেডারেল কোর্ট। একজন বাংলাদেশি নাগরিকের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করে দেয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদন নিষ্পত্তি করতে গিয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সিদ্ধান্তকে বহাল রেখে বিচারক এই মন্তব্য করেন। ফেডারেল কোর্টের বিচারক হেনরি এস ব্রাউন গত ২৫ জানুয়ারি ওই রায় দেন।

জুডিশিয়াল রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি, বিএনপির লাগাতার হরতাল এবং হরতালকে কেন্দ্র করে পরিচালিত সন্ত্রাসী তৎপরতা সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।






মন্তব্য চালু নেই