মেইন ম্যেনু

চট্টগ্রামে সার্কিট হাউজে Food Safety: Consumer Perspectives’ ​ বিভাগীয় কর্ম​শালায় বক্তাগন :

সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন নিশ্চিত করতে হলে মুষ্ঠিমেয় ভেজালাকারীদের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে হবে

কিছু সংখ্যক অসৎ ব্যবসায়ী ও ভেজালকারীদের কারনে দেশে পুরো খাদ্য বিতরন ব্যবস্থা হুমকির সম্মুখীন। সরকারের নানামুখী তৎপরতার কারনে দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ন, খাদ্য বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে। সকলের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও সকল খাদ্য মানুষের উপযোগী হচ্ছে না। অনেক সময় না খেয়ে মানুষ মরছে না, আর খেলে মানুষ মরার উপক্রম হচ্ছে। অন্যদিকে খাদ্যে ভেজাল, অনিয়ম রোধ, স্বস্থ্য সম্মত কিনা তা যাদের নজরদারি করার কথা সেসমস্ত সরকারী নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলির নানামুখি দুর্বলাতার অযুহাতে প্রতিটি স্তরে স্তরে জনগন প্রতারিত ও ঠকছে। এ অবস্থায় মুষ্ঠিমেয় অসাধু ব্যবসায়ী ও ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ হিসাবে জাতির জনক বঙ্গবুন্ধর নির্দেশিত তাদের বিরুদ্ধে জাতির বিবেককে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তা না হলে আগামী প্রজন্ম একটি রুগ্ন, অসুস্থ, অকর্মঠ ও পঙ্গুতে পরিনত হবে। ২২ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে নগরীর সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ফুড সেফটি নেটওয়ার্ক (বিএফএসএন), কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে “Food Safety: Consumer Perspectives’ শীর্ষক কর্মশালায় বিভিন্ন বক্তাগন উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্তি কমিশনার(রাজস্ব) খলিলুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ সফিউল আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ আলাউদ্দিন মজুমদার, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডাঃ এম সরফরাজ খান চৌধুরী, FAO Food Safety Program-এর Chief Technical Advisor Dr. John Ryder, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও FAO Food Safety Program এর সিনিয়র ন্যাশনাল এডভাইজার প্রফেসর ডাঃ শাহ মুনির হোসেন। আলোচনায় অংশনেন বিএমএ চট্টগ্রামের সাবেক সাধারন সম্পাদক ডাঃ একিউএম সিরাজুল ইসলাম, সনাক চট্টগ্রামের সভাপতি প্রকৌশলী দেুলয়ার মজুমদার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইন্স্টিটিউট এর প্রধান বৈজ্ঞাািনকি কর্মকর্তা ডঃ মনোরঞ্জন ধর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহীন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশনের শিক্ষা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারপার্সন কাউন্সিলর রেখা আলম চৌধুরী, কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রেহেনা বেগম রানু, আঞ্জুমান আরা বেগম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের চট্টগ্রাম নগর সভানেত্রী ও কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, কাউন্সিল আফরোজা কালাম, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি সেতারা গফ্ফার চৌধুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ খান, দৈনিক বনিক বার্তার ব্যুরো প্রধান আলী হায়দার, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুজিবর রহমান, প্রশিক্ষন কর্মকর্তা আমিনুল হক, বাংলাদেশ রেস্তোর ও হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি সালেহ আহমদ সোলেমান, সাধারন সম্পাদক হাজী কামাল উদ্দীন তালুকদার, চন্দনাইশ উপজেলা সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আখতার চৌধুরী, রোটারী ক্লাব চট্টগ্রাম লেকসিটির চার্টাড প্রেসিডেন্ট খায়রুল বশর, জেলা আনসার কমান্ডার আজিম আহমেদ, ড্রিংকিং ওয়াটার এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক গৌতম চন্দ, ক্যাব চট্টগ্রামের উপদেষ্ঠা ফজলুল গনি মাহমুদ, বিএনসিসি এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশনের জন্নতুল ফেরদৌস, ইয়ুথ ভয়েজ এর সভাপতি কে এন এম রিয়াদ, নারী নেত্রী আবিদা আজাদ, জেসিকা পারভীন জেসী, সুফিয়া কামাল ফেলো সায়মা হক, রুবি খান, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সহ-সভাপতি আবদুল ওয়াহাব চৌধুরী, ক্যাব মহানগর এর সদস্য সচিব অজয় মিত্র শংকু প্রমুখ।

ক্যাব বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছবেরীর সঞ্চালয়নায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য এস এম নাজের হোসাইন, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানার পারু। কর্ম অধিবেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন FAO Food Safety Program-এর Chief Technical Advisor Dr. John Ryder, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড এর দেশীয় প্রতিনিধি আতাউর রহমান মিল্টন, ক্যাব কেন্দ্রিয় সমন্বয়কারী আহমেদ একরাম উল্লাহ।

সভায় বক্তাগন বলেন দেশের ভোক্তাগন এখন অনেক বেশী সচেতন ও সোচ্চার। এ ধারাকে আরো জোরদার করার জন্য সকল স্তরের ভোক্তাদেরকে আরো বেশী সংগঠিত করতে হবে। যে কোন পণ্য ও সেবা গ্রহনের পুর্বে দরদাম ও মান সম্পর্কে যাচাই করে কিনতে হবে। পণ্য ও সেবা গ্রহনের বিষয়ে গ্রাহকের পছন্দকে কোন ভাবেই যেন ব্যবসায়ীরা ব্জ্ঞিাপন, উপটৌকন ও বিষাক্ত ক্যামিকেল দিয়ে প্রবাভিত করতে না পারে জন্য আইনী প্রতিকার নিশ্চিত দরকার। বক্তাগন একতরফা ভাবে ব্যবসায়ী সংঠগনগুলির প্রতি পৃষ্টপোষকতা পরিহার করে ভোক্তা সংগঠনগুলির প্রতি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর দাবী জানানো হয়।

সভায় নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ প্রণয়নের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়। বিধিমালা প্রণয়নে ভোক্তা সংগঠনগুলির অংশগ্রহন নিশ্চিত করা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবী জানানো হয়। নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সাধারন জনগনকে সচেতন করার জন্য তৃনমুল পর্যায়ে আরো বেশী সচেতনতা কর্মসুচি জোরদার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষামুলক কর্মসুচি বাড়ানো, পাঠক্রমে নিরাপদ খাদ্য বিষয় অন্তভুক্তি, হোটেল রেস্তোরায় বাবুর্চিসহ পরিবেশনকারীদের প্রশিক্ষন প্রদান, কৃষক পর্যায়ে প্রশিক্ষন প্রদান, স্ট্রিট ফুড ভেন্ডারদের প্রশিক্ষন প্রদান, টিভি স্পট, নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মোবাইল এপস, এসএমএস দিয়ে নিরাপদ খাদ্য আইন বিষয়ে আরো বেশী সচেতনতা বাড়ানোর উপর সুপারিশ করা হয়।

কর্মশালায় চট্টগ্রাম বিভাগের সরকারী কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, নারী নেত্রী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবি, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিসহ ১১০জন অংশগ্রহন করেন।






মন্তব্য চালু নেই