মেইন ম্যেনু

শেষ চারে ব্রাজিল, কলম্বিয়ার বিদায়

জয় নিয়ে সেমিফাইনালে পাড়ি জমালো ব্রাজিল। আর ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আসা উজ্জিবীত কলম্বিয়ান শিবিরের স্বপ্ন ভঙ্গ হল এদিন সেলেকাওদের বীরত্বের কাছে। ব্রাজিলের বিজয় বাঁশির সাথে সাথে স্টেডিয়াম জুড়ে হলুদ রঙে সাজা ব্রাজিল সমর্থকরা উল্লাসে মাতল। উল্লাসে মাতল পুরো ব্রাজিলবাসী। শুক্রবার ফোরতালেজার এস্তাদিও গভার্নাদো প্যালাসিও এডারালডো ক্যাস্তাদো স্টেডিয়ামে ২-১ ব্যবধানে কলম্বিয়াকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিল নেইমাররা। আর একই সঙ্গে রদ্রিগেজদের বিদায় মঞ্চ রচিত হল ফোরতালেজায়।

সুন্দরতম শুরু বলতে যা বোঝায় এদিন সেরকম একটা যাত্রা দিয়েই শুরুটা হয় ব্রাজিলের। শুরুতেই গোল করে কলম্বিয়ান শিবির এলোমেলো করে দেয় সেলেকাওরা। প্রথমার্ধে জেমস রদ্রিগোজ-কোয়ার্দাদোদের স্কলারি যাদুমন্ত্রে বৃত্তবন্দি রাখে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ছন্দে ফিরার আভাস দিতেই আবারও দৃষ্টিনন্দন ফ্রি কিকে কলম্বিয়ান স্বপ্নে সমাধি রচনা করেন ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ডেভিড লুইস। তবে তারপরও খেলায় ছিল দোলাচল। পেনাল্টি গোলে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফিরে আসার আশাটা ধরে রাখে কলম্বিয়ানরা। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ের বন্দরে নৌকা ভিড়াতে সমস্যা হয়নি নেইমারদের। আর এই জয়ে স্বাগতিকদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আরও রঙিন হয়ে ধরা দিল এদিন। আর স্টেডিয়াম জুড়েও উল্লাস আর আনন্দ নেইমারদের প্রেরণা হয়ে থাকল শিরোপা জয়ের। সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে লড়তে হবে স্কলারি শিষ্যদের।

ম্যাচের ৬ মিনিটে থিয়াগো সিলভার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এসময় নেইমারের কর্নারে হেড নিতে ব্যর্থ হন ফ্রেড। কিন্তু ছোট ডি বক্সের বাঁ দিকে দাড়িয়ে থাকা সিলভা বল পেয়ে প্লেস করেন কলম্বিয়ার জালে। পিছিয়ে পড়েও আক্রমণ অব্যহত থাকে ব্রাজিলের। গোল পরিশোধের সুযোগ এসেছিল পেকারম্যানের শিষ্যদেরও। ১১ মিনিটেই কলম্বিয়া কোয়ার্দাদোর শটের দিক পরিবর্তন করে দেন ব্রাজিলের থিয়েগো সিলভা। তবে গোলরক্ষক অসপিনা হাল্কের দুর্দান্ত দুই শট আটকে না ব্যবধানটা প্রথমার্ধেই আরও বেড়ে যেত কলম্বিয়ানদের।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের হারটা বাড়িয়ে দেয় পেকারম্যান বাহিনী। আতঙ্ক ছড়াতে থাকে ব্রাজিলের বিপদ সীমারনায়। প্রতিআক্রমণ অব্যহত ছিল ব্রাজিলেরও। আর সেই সূত্র ধরে সাফল্য পায় সেলেকাওরা। ৬৯ মিনিটে ডেভিড লুইজের নেয়া ফ্রি কিকে বল কলম্বিয়ার জালে আশ্রয় নেয়। আর সেই গোলে অসহায় দর্শক হয়ে কলম্বিয়ার গোলকিপার অসপিনাকে হজম করতে হয় দ্বিতীয় গোল (২-০)।

তবে খুব দ্রুতই খেলায় ফিরে আসার আভাস দেয় কলম্বিয়া। ব্রাজিলের গোলরক্ষক জুলিও সিজার কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড বাক্কাকে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি কার্লোস ভেলাস্কো কারবাল্লো। আর খেলা শেষ হবার দশ মিনিট আগে সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন জেমস রদ্রিগেজ (২-১)। এই গোলে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার আশা জাগ্রত রাখে লস ক্যাফেটিকোরা। তবে অতিরিক্ত সময়ে অল আউট খেলায় গোলের চেষ্টা করেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি পেকারম্যানের শিষ্যরা। আর শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে আসে কলম্বিয়ানদের বিদায় লগ্ন। আন্যদিকে পরপর দুই বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনলে বিদায় নেয়া ব্রাজিল এবার দেশের মাটিতে জয় নিয়ে পৌঁছাল সেমিফাইনালে। আর সেই সাথে ব্রাজিলবাসীর শিরোপা জয়ের স্বপ্নে আরও রঙিন হল।






মন্তব্য চালু নেই