মেইন ম্যেনু

শীত শীত সময়ে

হেমন্তের এই সময়টায় শুরু হয় শীতের প্রস্তুতির তোড়জোড়। শীতের পুরোনো পোশাকগুলোই আবার নামিয়ে, রোদে দিয়ে শীত মোকাবিলার আয়োজন। শীত তো থাকবে মোটে দুই মাস, কিংবা আরও কম। নতুন কাপড় কিনেই বা কী হবে। শীতের সময়টা বরং ওজন কমানোতে মন দেওয়া যাক, যাতে গরম এলে পরা যায় নানা ফ্যাশনেবল পোশাক। নাহ্, এই ভাবনায় আর থাকা যাচ্ছে না। অন্তত রঙেঢঙে দারুণ সব শীতের পোশাক দেখলে তো আর তা মনেই আসবে না। এ দেশে শীত পড়ে কম, তাই বলে শীত-পোশাকের বাহারে কমতি নেই। কম ঠান্ডায় পরার উপযোগী করেই বানানো হচ্ছে এ সময়ের শীতের পোশাক। আর ট্রেন্ডও বদলে যাচ্ছে বছর বছর।

ব্রিটিশ রাজবধূ কেট মিডলটনের দারুণ সব জ্যাকেট আর ওভারকোট তো রোজই দেখা হচ্ছে নানা ওয়েবসাইটে। সেসব কী আর এ দেশে পরা যাবে। এই আফসোস আর করতে হবে না। কারণ, এবার শীতে ফ্যাব্রিক বা কাপড়ের নানা বৈচিত্র্য দেখা যাবে, এমন জানালেন ডিজাইনাররা। নানা নকশার ‘আউটার উইয়ার’ অর্থাৎ অন্য পোশাকের ওপর পরার মতো আরেকটি পোশাক যেমন: কোট, জ্যাকেট, ব্লেজার, সোয়েটার ইত্যাদি বাজারে আসা শুরু হয়েছে এর মধ্যেই। পশ্চিমা ট্রেন্ড মেনেই নকশা করা হচ্ছে এসবের, তবে কাপড়টা এ দেশের আবহাওয়া উপযোগী। যেমন উল বা ফ্লিস নয় বরং সুতি ও অ্যাক্রিলিক মিশ্রণে সোয়েটার বানিয়েছে একস্ট্যাসি, জানালেন তাদের প্রধান পরিচলন কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম হক। ‘মেয়েদের জন্য রাউন্ডনেক, টার্টলনেক সোয়েটার থাকছে। আর কিছুদিন পরে পাওয়া যাবে নানা রকম পনচো আর শ্রাগ।’ বললেন তিনি। এর পাশাপাশি অনেকে দেশের বাইরে কিনে নিয়ে যান শীতের পোশাক। তাঁদের জন্য গরম কোট, ভারী কাপড়ের জ্যাকেট ইত্যাদিও আছে।

হালকা ধাঁচের এসব শীতের পোশাকের মজাটা হলো, এতে ভেতরের পোশাকটিও তেমন ঢাকা পড়ছে না। অর্থাৎ সামনের অংশে খোলা কোনো সোয়েটার পরলে ভেতরে পছন্দের টি-শার্টটিও পরতে পারেন। প্রিয় টি-শার্ট বা টপগুলো গরমের জন্য তুলে রাখার তেমন প্রয়োজন নেই। ব্লেজার আর শ্রাগেরও বেলাতেও তাই। সামনের অংশে বোতাম দেওয়া শীতের পোশাক এখন কমই দেখা যাচ্ছে। সোয়েটারের গলাও বেশ বড় চলছে।
নিট কাপড়ই দেখা যাচ্ছে বেশিঅ্যাসিমেট্রিক বা অসমান কাটের সোয়েটারও এই শীতে বেশ দেখা যাবে। শীতের পোশাকে কাটের বৈচিত্র্যের কথাই জানালেন প্রাইড গ্রুপ রিটেইলের বিপণন ও যোগাযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক সুম্বল মোমেন। তাঁদের ব্র্যান্ডের অধীনে আরবান ট্রুথ ফ্যাশন হাউসে পাওয়া যাচ্ছে শীতের পোশাকের নতুন সংগ্রহ। ‘শীতে তো লেয়ারিং খুব চলে (একটির ওপর আরেকটি এভাবে দুই-তিন রকম পোশাক পরা। যেমন টপের ওপর সোয়েটার)। ভিসকোস কাপড়ে নানা কাটের টপ এনেছি আমরা। এর ওপর পরবার জন্য থাকছে ব্লেজার, কার্ডিগান।’ বললেন সুম্বল মোমেন।

গত বছরের সঙ্গে এবার শীতের পোশাকের ট্রেন্ডে বড় পার্থক্য হল রং। উজ্জ্বল রং, ক্লালার ব্লকিং, চড়া প্রিন্ট এসব এ বছর তেমন চলছে না। রঙের বেলায় বেশ সংযত ভাবটাই এ বছর দেখা যাবে। ‘নিউট্রাল রং’ যেমন: কালো, ছাই, ধূসর, বাদামি ইত্যাদির দাপট এবার। তবে রঙের বৈচিত্র্যে মেতে উঠতে বাধা নেই। কারণ সেই লেয়ারিং। বাদামি ব্লেজারের সঙ্গে পরে নিন গাঢ় সবুজ বা সাদা-কালো স্ট্রাইপের জাম্পস্যুট। কিংবা ছাই কোটের তলায় থাক লাল বা বেগুনি টি-শার্ট।

এ মাসের শেষ নাগাদ বেশির ভাগ ফ্যাশন হাউসেই চলে আসবে শীতের পোশাকের নতুন সংগ্রহ। একস্ট্যাসি, আরবান ট্রুথ, ক্যাটস আই, ওয়েস্টেকস, ইয়েলো তো আছেই। অপেক্ষাকৃত নতুন ব্র্যান্ড যেমন: রেলুসে, নয়ের, সিকোসোর সংগ্রহও বেশ আকর্ষণীয়। ঢাকার বনানী ১১ নম্বর সড়ক ও বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের নিচতলা ও দোতলার দোকানগুলোতেও পাবেন শীতের পোশাক। আর এর মধ্যেই জমে উঠতে শুরু করেছে বদরুদ্দোজা সুপার মার্কেট ও বঙ্গবাজার।






মন্তব্য চালু নেই