মেইন ম্যেনু

শিশু জিহাদকে নিয়ে বিএনপিতে সন্দেহ!

রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে যাওয়া শিশু জিহাদের ঘটনা নিয়ে বিএনপির কাছে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন বাদল মনে করেন, ‘সারাদেশে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলন যখন চাঙ্গা হয়ে উঠছে, তা থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ফেরাতে জিহাদ নাটক সৃষ্টি করা হয়েছে। এটা সরকারের আন্দোলন দমনের কৌশল।’

বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শামসুজ্জামান দুদুর মন্তব্য হলো, ‘এটা আওয়ামী লীগের প্রতারণা।’

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশে তো অনেক ঘটনাই ঘটে। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিৎ। আর যদি এটা গুজব হয় তাহলে যারা গুজব ছড়িয়েছে তদন্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করা উচিত।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে এক্সপার্ট নই। না জেনেশুনে এ বিষয়ে মন্তব্য করা উচিৎ হবে না। তবে এটা নিয়ে অনেকে অনেক ধরনের কথা বলছে।’

উল্লেখ্য, রাজধানীর শাহজাহানপুরে রেলওয়ে কলোনিতে শুক্রবার দুপুরে প্রায় ৬শ ফুট গভীরে ১৭ ইঞ্চি ব্যাসের পানির পাইপে জিহাদ নামে সাড়ে তিন বছরের শিশুটি পড়ে যায়। শিশুটিকে উদ্ধারে এখনো কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

তবে সে পাইপের ৬৭২ ফুট নিচে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বোরহোল ক্যামেরা নামিয়ে ঘণ্টাখানেক তল্লাশি চালানোর পর শুক্রবার রাত পৌনে ৩টার দিকে সেটিকে গুজব বলে জানান দায়িত্বরতরা। তারা জানান, ক্যামেরা নামানোর পর একেবারে শেষ প্রান্তে তেলাপোকা, টিকিটিকিও দেখা গেছে কিন্তু শিশুর কোনো শরীর দেখা যায়নি বা শরীরের মতো কিছু দেখা যায়নি। এটা সম্পূর্ণ গুজব।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল তখন বলেন, ‘উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা নিচে নামানো হয়েছিল, সেখানে মানুষের কোনো অস্তিত্ব দেখা যায়নি। কিছু কীটপতঙ্গের ছবি দেখা গেছে। ক্যামরায় দেখে মনে হচ্ছে সেখানে কেউ নেই। তারপরও পাইপের নিচে যে আবর্জনা আছে সেগুলো তুলে আমরা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখবো।’

তিনি বলেন, ‘জীবন-মরণের কথা শুনে আমরা এখানে ছুটে এসেছি। যারা দক্ষ তাদেরকে আমরা হেলপ করতে বলেছি। অনেকেই আমাদের সাহায্যও করেছেন। ফায়ার সার্ভিসও প্রায় আট ঘণ্টা চেষ্টা চালাচ্ছে।’

পাইপের মুখ খোলা থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমরা এসেছি ছেলেটিকে উদ্ধার করতে। পাইপের মুখ খোলা থাকার বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে রেল মন্ত্রণালয়। তবে পাইপে কোনো মানুষ নেই, সেটা ক্যামেরায় দেখা গেছে। এটা আসলে গুজব হতে পারে।’

এর আগে স্থানীয়রা জানান, শিশুটি খেলতে খেলতে হঠাৎ করে উন্মুক্ত পাইপটির ভেতরে পড়ে যায়। পরে বাচ্চাটিকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চলায় ফায়র সার্ভিস। তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। রশি নামিয়ে উপর থেকে চিৎকার করে তা ধরতেও বলা হয়।

তখন শিশুটি বেঁচে আছে বলে দাবি করে ফায়ার সার্ভিস। কারণ উপর থেকে পাঠানো জুস শিশুটি খেয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, পানির পাম্পটি অনেকদিন পরিত্যক্ত ছিল।






মন্তব্য চালু নেই