মেইন ম্যেনু

লালবাগ সেভেন মার্ডার: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন

লালবাগে সেভেন মার্ডারের ঘটনায় নিম্ন আদালতের রায় হাইকোর্টেও বহাল রেখে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনের যাবজ্জীবন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ফৌজদারি আপিল ও ডেথ রেফারেন্স আবেদনের শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন।

বিচারিক আদালতের আসামি আব্দুস সালাম ওরফে মতি এবং জাহিদ হাসান ওরফে নাটকা বাবুকে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রয়েছে।

তবে সাত খুন মামলায় নিম্ন (বিচারিক) আদালতের রায়ে ঘোষিত জরিমানার ৫ হাজার টাকা ক্ষমা করে দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

এছাড়া আব্দুল আলিম ওরফে শাহীন, মুনির পাটোয়ারী, মাহতাব হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ওরফে আন্ডা, আমির হোসেন আমির, দিল মো. মতি, কানু ওরফে কাইল্যা, মোজাম্মেল ও মুন্নাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আব্দুল আজিজকে দেয়া দশ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

আসামিপক্ষের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘এ মামলায় জামিনে থাকা আসামি আজিজ, মাহতাব ও মনিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ করার আদেশ দেয়া হয়েছে।’

ঢাকা সিটি করপোরেশনের কমিশনার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৯৯৪ সালে লালবাগে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিশনার নির্বাচনে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হুমায়ুন কবির। বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকরা পরদিন বিজয় মিছিল বের করে। লালবাগের নবাবগঞ্জ রোডের ওপর মিছিলে পরাজিত বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আজিজ মিয়ার সমর্থকরা হামলা করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায় ছয় জন।

এছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার ২/৩ মাস পর মৃত্যুবরণ করে আরো একজন। তখন থেকে মামলাটি সেভেন মার্ডার মামলা হিসেবে পরিচিতি পায়।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওইদিনই পরাজিত প্রার্থী আব্দুল আজিজসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন হুমায়ুন কবির।

পরে মামলাটি তদন্ত করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

এরপর সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে ২০০৮ সালের ৭ মে ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল আসামি আব্দুস সালাম ওরফে মতি এবং জাহিদ হাসান ওরফে নাটকা বাবুকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

এছাড়া আব্দুল আলিম ওরফে শাহীন, মুনির পাটোয়ারী, মাহতাব হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ওরফে আন্ডা, আমির হোসেন আমির, দিল মো. মতি, কানু ওরফে কাইল্যা, মোজাম্মেল ও মুন্নাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আব্দুল আজিজকে দশ বছরের কারাদণ্ড দেয়। বাকি আট আসামিকে খালাস দেয় আদালত।

বিচার চলাকালে আরেক আসামি আব্দুল মজিদ ওরফে চামু মৃত্যুবরণ করেন।

বিচারিক আদালতের রায়কে অনুমোদনের জন্য তা ডেথ রেফারেন্স আকারে এবং পলাতক দুই আসামি ছাড়া সকলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

চলতি মাসে এই আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শেষে রায় প্রদান করেন হাইকোর্ট।

আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এসএম শাহজাহান, মাহবুবউদ্দিন খোকন, খুরশীদ আলম খান ও ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ।






মন্তব্য চালু নেই