মেইন ম্যেনু

লামায় ভূমি অফিসে জনগণের হয়রানি কমেছে, জনমনে স্বস্তি

মায় ভূমি অফিসের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে অবশেষে কমেছে বলে জানান জমির প্রকৃত মালিক ও সংশ্লিষ্টরা। লামা ভূমি অফিসে দুর্নীতি, দালালদের দৌরাত্ব্য, ভূয়া মালিক সাজিয়ে জমি ক্রয় বিক্রয়, জাল আইডি কার্ড, জাল জন্ম নিবন্ধন, জাল চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট বানিয়ে জমির ক্রেতা ও বিক্রেতা সাজা, দখল না থাকা সত্ত্বেও কানুনগো এবং সার্ভেয়ার এর ভূয়া প্রতিবেদনে জায়গার মালিক হওয়া, কোম্পানী বনায়নের নামে রাতারাতি শত শত একর জমির মালিক হওয়া, মৃত ব্যাক্তির নামে বায়নানামা ও মিস মামলা পরিচালনা সহ এহেন নানান দুর্নীতির বিষয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি হলে অবশেষে নড়েচড়ে বসে বান্দরবান জেলা প্রশাসন। চলমান দুর্নীতিকে লাগাম দিতে লামা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে পরিবর্তন এনে বান্দরবান থেকে রেভিনিউ ডেপুটি কালেকটর (আরডিসি) মোঃ রাভিউল হাসান কে স্থালাভিসিক্ত করা হয়।

বিগত দিনের ভুক্তভোগী পূর্ণচন্দ্র ত্রিপুরা, জয়নাল আবেদীন, আঃ রব, মোঃ কালু, দেলোয়ান হোসেন, আমির হোসেন, মনিরা বেগম সহ অনেকে বলেন, নতুন রেভিনিউ ডেপুটি কালেকটর সপ্তাহে দু’দিন লামা অফিস করেন। ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থাপিত সকল নথি পত্র পর্যালোচনা, যাচাই বাচাই ও সুনানী পূর্বক পরবর্তী পদক্ষেপ নেন। এতে করে বর্তমানে লামা ভূমি অফিসে দালালের আনাগোনা, ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ব্য কমে গেছে। অন্যায় কারীরা ভয়ে অফিস পাড়ায় আনাগোনা বন্ধ করে দিয়েছে। জেলা প্রশাসকের এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান পার্বত্য এলাকার জমির প্রকৃত মালিক ও লামার সচেতন মহল। তবে সপ্তাহে দু’দিনের পরিবর্তে তিনদিন রেভিনিউ ডেপুটি কালেকটর কে লামায় অফিস করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আকুল আবেদন করেন এলাকাবাসী।

প্রতিদিন দুরদুরান্ত থেকে আসা সেবা প্রার্থীরা এ প্রতিবেদকে বলেন, সপ্তাহে নিদিষ্ট দিনে অফিস চলাকালীন সময়ে অফিসার আসার কারণে সেদিন সবাই উপস্থিত হয়। এতে করে ভূয়া দলিল সৃজন করা সম্ভব হয়না। আগে সারা সপ্তাহ অফিস খোলা থাকার দরুণ যেকোন সময় সুযোগ বুঝে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করত দালালরা। আমরা জায়গার মালিকরা উৎকন্ঠার মধ্যে ছিলাম। কখন যেন আমার জায়গা অজান্তে অন্যের নামে নামজারি হয়ে যায় ! বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে ভূমি সন্ত্রাস কমবে বলে আশা করি।

বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেভিনিউ ডেপুটি কালেকটর মোঃ রাভিউল হাসান জানান, জেলা প্রশাসকের অফিস আদেশে সপ্তাহে দু’দিন লামা সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ক্রেতা-বিক্রেতার উত্থাপিত সকল কাগজপত্র সঠিক প্রতিয়মান হওয়ার পরেই বায়নানামা অথবা মিউটেশন সম্পন্ন করা হয় এবং অতি দ্রুত সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসন লামা ভূমি অফিসের যাবতীয় কাজের স্বচ্ছতা আনতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে। সপ্তাহে দু’দিনের পরিবর্তে তিনদিন রেভিনিউ ডেপুটি কালেকটরকে পাঠানো যায় কিনা, চেষ্টা করব।






মন্তব্য চালু নেই