মেইন ম্যেনু

রাউজান ফটিকছড়ির পাহাড় পার্শ্ববর্তী এলাকায় সন্ত্রাসীরা নিচ্ছে চাঁদা-কাটছে সরকারি গাছ

চট্টগ্রামের রাউজান ও ফটিকছড়ির পাহাড় সংলগ্ন এলাকা গুলোতে পাহাড়ে অবস্থানকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ওসব সন্ত্রাসী সমতলে থাকা লোকজনের কাছ থেকে বার্ষিক হারে চাঁদা আদায় করছে। পাহাড়ে ব্যবসা বানিজ্যে নিয়োজিত লোকজনের কাছ থেকেও একই ভাবে চাঁদা নিচ্ছে।

ওই এলাকার সূত্র সমূহ থেকে জানা যায়, সন্ত্রাসীরা সরকারি-বেসরকারি বনায়নের গাছ নিবিচারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে এখানে এমন তৎপরতা চালু থাকলেও ভয়ে কেউ মূখ খুলে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ সরকারি বনাঞ্চল থেকে বড় বড় গাছ কেটে নেয়ার কাজে নেপথ্যে সহায়তা দিচ্ছে বনবিভাগের এখানকার দায়িত্বে থাকা কতিপয় লোকজন। একারণে সন্ত্রাসীরা বিনাবাঁধায় শত শত একর বনভূমির গাছ কেটে পাহাড় টিলা উজার করে দিচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে গত ২১ এপ্রিল রাতে রাউজানের পার্শ্ববর্তী সরকারি সেগুন বাগান থেকে ১০-১৫টি সেগুন গাছ কেটে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এলাকাবাসীর মতে কেটে নেয়া গাছের বর্তমান বাজার মূল্য হবে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ সন্ত্রাসীদের গাছ কাটার সংবাদটি দেয়ার জন্য অনেকেই মোবাইলে ফটিকছড়ির বনকর্মকর্তাকে ফোন করেছেন। তবে তিনি কারো ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয় বনবিভাগের অন্য লোকজনও ওই সময় মোবাইল বন্ধ করে রেখেছিল বলে লোকজন জানায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেছেন সর্তা বনবিটের নন্দিরখীল ও বেড়াজালী (সর্তা খালের পূর্ব পাড়ে) এলাকার সেগুন বাগান থেকে গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর রাত পর্যন্ত ১০-১৫টি সেগুন গাছ কাটা হয়েছে। এসময় গাছ কাটার শব্দে রাতে এলাকার লোকজনের ঘুম ভেঙ্গে যায়। তারা সর্তা বনবিট ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

অপর একটি সূত্র জানায়, পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় টিলা ভূমিতে স্থানীয়দের অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে বনায়ন করেছে। এখন সন্ত্রাসীরা জোর করে ওসব বাগানের গাছও কেটে নিতে শুরু করেছে। বাগান মালিকদের অভিযোগ নিজেদের করা বাগানের গাছ কাটার জন্য বনকর্মকর্তাদের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হলেও বনবিভাগের লোকজন বিভিন্ন অজুহাতে ছাড় পত্র দেয় না। এই সুযোগে সন্ত্রাসীরা নিবিচারে লুট করে নিচ্ছে বাগানের ছোট বড় গাছ।

সূত্র আরো জানায়, বনের গাছ কাটার সাথে জড়িত রয়েছে ওই অঞ্চলের পাহাড়ি সন্ত্রাসী মিলন বাহিনী। এই বাহিনীটি ইউপিডিএফ এর ছত্রছায়ায় কাজ করে বলে এলাকার মানুষ জানায়। সূত্র মতে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্নস্থানে শতাধিক ইটভাটায় প্রতিদিন কয়েশ টন কাঠ জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার হয় এই কাঠ সরবরাহ যায় এই অঞ্চলের বাগান থেকে। সমতলের ব্যবসায়ীরা পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের সাথে সমঝোতায় ইটভাটায় কাঠ সরবরাহ দেয়।

এলাকার জনসাধারণ সূত্রে জানা যায় গত প্রায় দুমাস আগে হলদিয়ার লোকজন বনবিভাগের লোকজনের সহায়তায় তাদের বাগানের গাছ লুটের একটি ঘটনা রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে অবহিত করেছিলেন। এলাকার মানুষের কাছ থেকে এমন সংবাদ জেনে তিনি তখন ক্ষুদ্ধ হয়ে ওই এলাকার বনবিভাগের দায়িত্বে থাকা লোকজনকে এমন তৎপরতা বন্ধের জন্য কঠোর হুসিয়ার করেছিলেন।

বন বিভাগের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ফটিকছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তার মোঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে বনবিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সি এফ আবদুল লতিফ এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাউজান ও ফটিকছড়ির পার্শ্ববর্তী টিলাভূমির সামাজিক বনায়ন ও সেগুন গাছ কাটার অভিযোগ পেয়েছি। সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই