মেইন ম্যেনু

যৌতুকের ১লক্ষ দিতে না পারায় ঘর ছাড়া তাছলিমা

যৌতুকের ১লক্ষ দিতে না পারায় ঘর ছাড়া লামার অসহায় এক গৃহবধু তাছলিমা নাছরিন। প্রত্যেক নারী বিয়ের পর স্বামী, শুশুড়, শাশুড়ী ও সন্তানকে নিয়ে ঘর বাধার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু যখন এই সম্পর্কের মাঝে লোভ-লালসার সৃষ্টি হয় তখনি শুরু হয় অশান্তির। তেমনি একজন হতভাগা নারী বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলা ঠান্ডা মিয়া পাড়ার তাছলিমা নাছরিন(২১)।

গত ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০১২ইং সালে সামাজিক ভাবে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে লামা উপজেলার রুপসী পাড়া ইউনিয়নের ইনছান বিশ্বাসের ছেলে ছগির মিয়ার(২৭) সাথে বিবাহ হয়। ছয়মাস সংসার অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে শুশুড়-শাশুড়ির ইন্দনে শুরু হয় যৌতুকের দাবী। স্বামীর দাবীকৃত যৌতুতের ১লক্ষ টাকা তাছলিমা নাছরিন এর বাবা কাঠমিস্ত্রী হোসাইন আহাম্মদ করিমের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয় জেনে তাছলিমার উপর শুরু হয় শারিরীক মানসিক অত্যাচার। অত্যাচারের পরেও যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তাছলিমাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় তার স্বামী ছগির। মাঝে মধ্যে সেখানে গিয়েও মারধর করে যৌতুকের টাকা দাবী করত।

বাবার অভাবগ্রস্ত পরিবারে এক সন্তানের জননী তাছলিমা নাছরিন আরেক বোজা হয়ে আসে। তার উপর সন্তানে লানন পালন খরচ যোগাতে হিমসিম খাচ্ছিল তাছলিমার বাবা। কোন ভাবে যৌতুকের দাবী মেঠাতে পারবেনা দেখে প্রথম স্ত্রীর বিনানুমতিতে দ্বিতীয় বিবাহ করে ছগির। স্ত্রী সন্তানের কোন দেখভাল করেনা স্বামী ছগির। কোন উপায় না দেখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের কাছে বিচার প্রার্থী হয় তাছলিমা। তার স্বামী স্থানীয় বিচার না মানার কারণে ২০১৩ সালের ৯ই অক্টোবর যৌতুক আইনের ৪ ধারায় বান্দরবান চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করে। মামলা নং ৯৯/১৩। আদালত থেকে জামিনে এসে মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত মারধর, গুম ও হুমকি ধমকি দেয় ছগির ও তার পরিবার। বর্তমানে এক সন্তান নিয়ে উৎকন্ঠার মধ্যে দিয়ে দিনাতিপাত করছে তাছলিমা ও তার পরিবার।

ভিকটিম তাছলিমা জানান, আমার একমাত্র সন্তান অনাহারে থাকে। আমার স্বামী আমাদের কোন প্রকার খোঁজখবর নেয়না। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সে সুখে আছে। নিরুপায় হয়ে মামলা করায় বর্তমানে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। আদালতের দিকে চেয়ে আছি। আল্লাহ অবশ্যই আমার অসহায় সন্তানের মুখের দিকে তাকাবেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে তাছলিমার স্বামী ছগীর মিয়ার ফোনে কল দিলে দীর্ঘ সময় মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আলীকদম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন এপ্রতিবেদককে জানান, স্থানীয়ভাবে মিমাংসার জন্য অনেকবার বসলেও ছেলে পক্ষ বৈঠকে আসেনি। যৌতুকের টাকা নিতে তারা দরকষাকষি করছিল। বিচারক হিসেবে যৌতুক দেয়ার পক্ষে আমরা কেউ ছিলামনা। মেয়েটি অসহায় ও দরিদ্র।






মন্তব্য চালু নেই