মেইন ম্যেনু

যে কোন সময়ে গ্রেপ্তার হতে পারেন খালেদা জিয়া!

ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে কোন সময়ে গ্রেপ্তার হতে পারেন। তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য সরকার নানা রকম সুযোগ খুঁজছে। আর সুযোগ পেলেই সেটা করবে। সরকার মনে করছে তিনি গ্রেপ্তার হলে বিএনপির নেতাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে, তাদের মনোবল ভেঙ্গে যাবে, তারা বিভিন্ন দিকেও যেতে পারে। এছাড়াও বিএনপিতে ভাঙ্গন ধরাতে সরকারের সুবিধা হবে। সেই হিসাবে সরকার এগুচ্ছে। কেবল তাই নয় সরকার যে আগাম নির্বাচন করবে ওই নির্বাচন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করেই করতে চাইছেন। সেই কৌশলটিও বিএনপি জেনে গেছে। তারা এই ব্যাপারে জানলেও তেমন কিছুই করতে পারছে না।

সূত্র জানায়, বিএনপির চেয়ারপারসনকে আদালতের মাধ্যমে আটক করার পরিকল্পনা ছাড়াও সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে দেশে আন্দোলন বেগবান হলে কোন একটা ইস্যু ধরে তাকে গ্রেপ্তার করানো। তাকে গ্রেপ্তার করা হলে সরকার এই ব্যাপারে বিপাকে পড়তে পারে বলেও সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। সেই কারণে সতর্কভাবে এগুচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য বিএনপি জোটের  আন্দোলন থামানো, বিএনপি চেয়ারপারসনকে বাইরে রেখে নির্বাচন করা। সেটা করা যাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হলে। তাকে গ্রেপ্তার করার পর যাতে করে এনিয়ে আন্দোলন বেশি দূর এগুতে না পারে সেই জন্য  তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে এমনটি নাও হতে পারে। তার বাড়িটাকেই সাবজেল ঘোষণা করা হতে পারে।

সূত্র জানায়, সরকার বিএনপিকে নানা ভাবেই উস্কে দেয়ার চেষ্টা করছে। দলের নেতারা আইন অমান্য করলেই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে। ফলে দলের চেয়ারপারসন বাইরে না থাকলে ও যে সব নেতারা আন্দোলন সফল করবেন তারা না থাকলে সরকারের সুবিধা হবে।

এই ব্যাপারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে সরকার যে কোন সময়ে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করতে পারে। তারা তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছে। এই জন্য তার বিরুদ্ধে এমন ভাবে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট ও জিয়া ফরফ্যানেঞ্জ ট্রাষ্ট এর মামলাটি করা হয়েছে। এগুলো বেসরকরি প্রতিষ্ঠান। সেখানে একটি টাকাও অপচয় হয়নি। এমনকি কোন দুর্নীতির সুযোগ নেই। কিন্তু যে মামলায় তার বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির প্রমাণ করা সম্ভব হবে না ওই মামলাতে তাকে সরকার জোর করেই শাস্তি দিতে চাইছে। সেটা তারা করার জন্য যে কোন রকমের ব্যবস্থা নিবে। জোর করেও শাস্তি দিতে পারে। এই জন্য গ্রেপ্তার করতে পারে। আরো নানাভাবেই গ্রেপ্তার করতে পারে।

বিএনপি চেয়ারপারসন আদালতে হাজিরা না দিলে ওয়ারেন্ট ইস্যু করাতে পারে। দেখা যাবে ছোট একটি বিষয়েই তাকে বেকায়দায় ফোলানোর চেষ্টা হবে। সরকারের এই সব চেষ্টার কথা আমরা জানি। কিন্তু আমরা সরকার দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। সেটা করেই সরকার স্বৈর শাসকে পরিণত হয়েছে। সরকার বিএনপির উপর জুলুম নির্যাতন করছে। সেটা তারা আরও বাড়াতে পারে।

এদিকে সূত্র জানায়, গণ ভবনে দলীয় এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, যদি বিএনপি চেয়ারপারসন দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, দেশের ক্ষতি করে তাহলে প্রয়োজনে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এই প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এটাতো এখন তারা প্রকাশ্যে বলেছে। এতোদিন ধরেতো গোপনেই এটা চেষ্টা করা হয়েছে। একজন প্রধানমন্ত্রী যখন একজন বিরোধী দলের নেতাকে গ্রেপ্তার করার কথা বলেন তখনতো বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। দ্য ইকোনমিস্ট কথাটি বলার পর পরই তিনি আবার একই কথা বললেন তার মানেতো সরকার সেই দিকে এগুচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন গ্রেপ্তার হতে পারেন এটা জানেন তাহলে এটা ঠেকানোর জন্য কি ভাবছেন এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি গ্রেপ্তার হলে সেটা সরকারের স্বৈরাচারি সিদ্ধান্তেই হবেন। কারণ দেশে এখন কোন গণতন্ত্র নেই। এক নায়কতন্ত্র চলছে। এই কারণে তাদের যা মনে চাচ্ছে তারা তাই করছে। তাকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ও কারাগারে নিয়ে আটকে রাখার চেষ্টা সরকার করছ। এই চেষ্টা আমরা জনগণকে নিয়ে মোকাবিলা করবো। কারণ জনগণই পারে দেশকে স্বৈরাচারি সরকারের হাত থেকে রক্ষা করতে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি চেয়ারপাসনকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে এমন খবর এর আগেও আমরা বলেছি। এটা ঠিক সরকার যা করছে এই ভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। এটা অন্যায়।

এদিকে বেগম খালেদা জিয়া আলাদতে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিলে তাকে গ্রেপ্তার করার পরিকল্পনা যেমন সরকারের রয়েছে। কিন্ত তিনি নিয়মিত কোর্টে হাজিরা দিলে ওই মামলায় শাস্তি দিয়ে হলেও তাকে আটকানোর চেষ্টা করবে। বেগম খালেদা জিয়া সেটা জেনেই আদালতে যাচ্ছেন ও হাজিরা দিচ্ছেন।
সূত্র জানায়, কোন মামলায় তাকে আটক করতে না পারে তাহলে অন্য যে কোন ঘটনায়ও জড়ানো হতে পারে। সরকার যা করছে এটা ঠিক না। আমরা এই ব্যাপারে সজাগ রয়েছি। আমাদের প্রধান নেতা খালেদা জিয়া  ও আমাদের উপনেতা তারেক রহমান এই ২ জনকেই সরকার মাইনাস করতে চাইছে সেটা জেনেই আমরা এগুচ্ছি। সরকারের সেই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেয়া হবে না। আমাদের সময়






মন্তব্য চালু নেই