মেইন ম্যেনু

যে কারণে ভারতে নিষিদ্ধ ১১টি ছবি

নিষিদ্ধ যা কিছু আমাদের সমাজে তাই কিন্তু মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। মানব সমাজে এটাই সত্য এবং চিরন্ত। আদিকাল থেকেই দেখা গেছে যা কিছু নিষিদ্ধ হয়েছে তাতেই বেড়েছে মানুষের আগ্রহ, কৌতহল। তেমনি কিছু কৌতহল রয়েছে সিনেপ্রেমিদের মাঝে কিছু নিষিদ্ধ সিনেমা নিয়ে।

‘কিসসা কুরসি কা’, ‘আঁধি’, ‘দ্য ব্যানডিট কুইন’, ‘ফায়ার’, ‘কামসূত্র, আ টেল অফ লাইফ’, ‘পাঞ্চ’, ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’, পারজানিয়া’, ‘সিনস’, ‘ওয়াটার’ এবং ‘ফিরাক’ সিনেমাগুলি সেদেশে সেন্সরশিপ দেয়া হয়নি নানা অভিযোগে। বলিউডের সেন্সর বোর্ড থেকে নিষিদ্ধ হওয়া এই ১১টি সিনেমা নিয়ে মানুষের আগ্রহ আর কৌতহলের কোন কমতি নেই আজও।

ইন্দিরা গান্ধী এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরার অভিযোগে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো পরিচালক অমৃত নাহাতার ‘কিসসা কুরসি কা’ সিনেমাটি। এই সিনেমাটিতে অভিনয় করেছিলেন শাবানা আজমি এবং রাজ বাবর।

ইন্দিরা গান্ধী যখন জরুরী অবস্থা জারি করেন ছবিটি তখন মুক্তি দেয়া হয়। ছবিটির গল্পে তুমুল ক্ষুব্ধ হয় কংগ্রেস, পরে ছবিটি নিষিদ্ধ করা হয় সে দেশে। শুধু তাই নয়, এই সিনেমাটির সব ক’টি কপি নষ্ট করে দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয় ক্ষুব্ধ কংগ্রেসের পক্ষ হতে। এছাড়া এই সিনেমাটির বেশ কিছু কপি রগাঁওয়ের কিছু জায়গা জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

অপরদিকে ‘কিসসা কুরসি কা’র মতো একই অভিযোগে একই সময় নিষিদ্ধ করা হয় পরিচালক গুলজারের ‘আঁধি’ সিনেমাটি। তবে সিনেমাটি প্রথম মুক্তির পর সেদেশে বেশ সফলতার সাথে ২০ সপ্তাহ চলেছিল। এছাড়াও এই সিনেমাটি ২৩তম ফিল্মফেয়ার ক্রিটিকস অ্যাওযার্ডে সেরা ছবির জায়গাটি দখল করে নিয়েছিলেন।

১৯৯৭-তে যোশী-অভয়ঙ্কর সিরিয়াল মার্ডারের ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মীত হয়েছিল ‘পাঞ্চ’ সিনেমাটি। অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত এই ছবিটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো সিনেমাটিতে অতিরিক্ত হিংসা, ড্রাগ এবং অশ্রাব্য ভাষার ব্যবহারের জন।

১৯৯৩-তে মুম্বাইয়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘঁন কে কেন্দ্র করে নিমার্ণ করা হয়েছিলো ডকুমেন্টারি ফিল্ম ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’। ছবিটি নিমার্ণের নিষিদ্ধ করেছিলো সেদেশের সেন্সর বোর্ড। অবশ্য নিষিদ্ধের ২ বছর পর সিনেমাটি আবারো রিলিজ করা হয়েছিলো।

গুজরাট দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে ২০০২ সালে নির্মীত হয়েছিলো ‘পারজানিয়া’ সিনেমাটি। এই সিনেমাটি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছিলো দু’বার। তারপরও এই সিনেমাটিকে নিষিদ্ধ করেছিলো গুজরাট সরকার। সিনেমাটি মুক্তির পর গুজরাটের কোন সিনেমা হলে চলতে দেয়া হয়নি।

দীপা মেহতা তার ‘ওয়াটার’ সিনেমায় তুলে ধরেছিলেন বেনারসের কিছু আশ্রমের বিধবা মহিলাদের অসহায়াত্বর ছবি। এতে চটে যায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। পরে সংগঠনগুলো জোর প্রতিবাদ জানায় এবং সেই সাথে সিনেমার সেট পর্যন্ত নষ্ট করে দেয়া হয়। পরে অবশ্য ছবিটি নাম পরিবর্তন করে ‘রিভার মুন নাম’ ধারণ করে মুক্ত হয়।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো ‘ফিরাক’ সিনেমাটি। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন নন্দিতা দাশ। সিনেমাটির গল্প ছিলো মূলত গুজরাটের দাঙ্গা নিয়ে।

এছাড়াও ফুলন দেবীর জীবনি নিয়ে নির্মিত ছবি ‘দ্য ব্যানডিট কুইন’ নিষিদ্ধ করা হয় ভারতে। কিন্তু ছবিটি অত্যান্ত গ্রহণ্যযোগ্য ছিলো ভারতের সিনেপ্রেমিদের কাছে।

শেখর কাপুর পরিচালিত এই সিনেমাটির বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল কনটেন্ট, নুড্যিটি এবং কিছু অশ্রাব্য ভাষার ব্যবহার করার অভিযোগ। তবে ফুলন দেবীও আপত্তি তুলেছিলেন সিনেমাটির গল্প নিয়ে। তিনি অভিযোগ করেন, তার জীবনের বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ তথ্য বিকৃত করা হয়েছে সিনেমার গল্পে।

অপরদিকে ‘ফায়ার’ ‘কামসূত্র, আ টেল অফ লাইফ’ এবং ‘সিনস’ নামের সিনেমাগুলোও ভারত সরকার নিষিদ্ধ করেন। ১৯৯৬ সালে শাবানা আজমি এবং নন্দিতা দাস অভিনীত ‘ফায়ার’ ছবিটি সমকামিতার অভিযোগে নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া, সেক্সুয়াল কনটেন্টের অভিযোগে ‘কামসূত্র, আ টেল অফ লাইফ’ এবং ‘সিনস’ এর প্রদর্শনি নিষিদ্ধ করা হয়।

এদিকে এই সিনেমাগুলো ভারতের সেন্সর বোর্ড নিষিদ্ধ করলেও এ সিনেমাগুলো নিয়ে এখনো রয়েছে মানুষের ভেতরে যথেষ্ট আগ্রহ। কৌতহলের কারনে প্রতিদিনই সার্চ করা হচ্ছে ইউটিউবে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্বায়নের এই যুগে কোন সিনেমা নিষিদ্ধ করলেই কি তা দেখা থেকে বিরত রাখা যায় মানুষকে? কেউ কেউ বলছেন, কোন সিনেমা নিষিদ্ধ হওয়া মানেই তা ইতিহাসের খাতায় অমর হয়ে যাওয়া।






মন্তব্য চালু নেই