মেইন ম্যেনু

যেসব কারণে সালমানের প্রচারণায় শাহরুখ

সম্প্রতি সালমান খানের আপকামিং বাজরাঙ্গি ভাইজান সিনেমার ফার্স্ট লুক সকলের সামনে এসেছে প্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক শাহরুখ খানের টুইটের মাধ্যমে। আর যেকোনো প্রমোশন ইভেন্টের চেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে শাহরুখের মাত্র একটি টুইটে।

অবাক করে দেয়া আরেকটি ঘটনা হলো, শাহরুখের টুইটের পরই সালমানের সিনেমাটির ফাস্ট লুক টুইট করেছেন আমির খানও। ফলে বলিউডে কৌতূহল, কী এমন হলো যে, বলিউডের দুই নায়ক আর এক নায়কের পাশে এসে দাঁড়ালেন। এতদিন যা হয়নি, তা যখন এখন হচ্ছে, তখন নিশ্চয়ই তার পেছনে নির্দিষ্ট কারণ থাকাই সঙ্গত। আর কারণগুলো নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কলকাতার একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম।

বেশ কিছুদিনও আগেও বলিউডে শাহরুখ-সালমান সম্পর্কে দ্বন্দ্ব ছিল। শাহরুখ সালমানের কোনো বিষয়ে বা সালমান শাহরুখের কোনো বিষয়ে কথা পর্যন্ত বলতেন না। তাদের সম্পর্কের শীতলতা প্রভাব ফেলেছিল তাদের ফ্যানদের মধ্যেও।

বলিউডের অ্যানালিস্ট তরুণ আদর্শ শাহরুখের টুইটের পর বলেন, ‘এবার নিশ্চয়ই তাদের ফ্যানদের বিবাদ মিটবে’। তার সঙ্গত কারণ আছে। কে বড় নায়ক, কার সিনেমার ব্যবসা বেশি এই দ্বন্দ্বে দ্বিধাবিভক্ত ছিল সিনেপ্রেমীরা। ঈদের দখল কে নেবেন, তা নিয়েও ছিল প্রতিযোগিতা। এক ঈদে সালমানের দাবাং বাজিমাত করলে, পরের ইদে শাহরুখের চেন্নাই এক্সপ্রেস রাজত্ব করেছে। তাতেও ফ্যানদের বিবাদ মেটেনি। কার সিনেমা বেশি ব্যবসা করেছে, তা নিয়ে তোলপাড় হয়েছে ফ্যানমহল।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সালমানের যে রোম্যান্টিক ইমেজ ছিল, তা পরে পুরোপুরি দখলে চলে যায় শাহরুখ খানের। বলিউডে ‘কিং অব রোমান্স’ বলতে শাহরুখ ছাড়া অন্য কাউকেই বোঝায় না। সালমান সরে যান কমেডি কিংবা অ্যাকশন সিনেমার দিকে। যেন একটা বিভাজনরেখা তৈরি হয়েই ছিল। এমনকি দু’জনের বিবাদকে মাথায় রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অজস্র ট্রোল। শাহরুখ এক টুইটে সেই দ্বন্দ্ব প্রায় মিটিয়ে দিয়েছেন বলা যায়।

কিন্তু কেন দরকার ছিল ফ্যানদের একজোট হওয়ার? বলিউডের সাম্প্রতিক সিনেমার ব্যবসার দিকে তাকালেই তা পরিষ্কার বোঝা যাবে। অক্ষয় কুমারের বেবি ছাড়া, বলিউড এ বছর হিট পেতে কাটিয়ে দিয়েছে প্রায় বছরের অর্ধেকটা। প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে এসে পিকু ও তানু ওয়েডস মানু রিটার্নস এর দৌলতে বলিউড পেয়েছে প্রথম বড় হিটের স্বাদ। আর এক্ষেত্রে শাহরুখ ভালোই জানেন যে, তাদের সিনেমার সাফল্য বক্সঅফিসে কতটা জরুরি।

সালমান যে সেক্ষেত্রে বড় বাজি তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। শাহরুখ-আমির-সালমান বলিউডের এই তিন বড় নায়কের মধ্যে এ বছর প্রথম আসতে চলেছে সালমানের বাজরাঙ্গি ভাইজান। তাই এ সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্য অত্যন্ত জরুরি। তার জন্য ভাগাভাগি মিটিয়ে তাদের ফ্যানরা যদি একজোট হয়, তবে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। সে কাজটাই এক টুইটে অনেকটা সহজ করে দিলেন শাহরুখ।

গত বছরের মতো এ বছরেরও সিনেমার ট্রেন্ড বলছে, নারী ও নারীকেন্দ্রিক সিনেমাই ভালো ফল করছে। এ বছরের জাতীয় পুরস্কারের তালিকার দিকে তাকালেও সে বিষয়টি স্পষ্ট। সম্প্রতি আনুশকার এনএইচ ১০, দীপিকার পিকু, কঙ্গনার তানু ওয়েডস মানু রিটার্নস-এর সাফল্যও জানান দিচ্ছে সে কথা। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো নায়িকা তো বলেই দিয়েছেন যে, এখন সময় ‘গার্ল পাওয়ার’-এর। ঘটনাও তাই।

এ বছর এখনো পর্যন্ত বলিউডে নায়কদের হাল বেশ খারাপ। রণবীর কাপুরের মতো চকোলেট হিরোও ডাহা ফেল করেছেন। অথচ বলিউডে এমন কিছু সিনেমা হয়, যা নায়কদের নামেই চলে। সালমানের আপকামিং ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ হোক কিংবা শাহরুখের ‘ফ্যান’ তার ব্যতিক্রম নয়। সুতরাং যদি নায়ক নির্ভর সিনেমাকে ফেরাতে হয়, তবে শাহরুখ-সালমানদের সিনেমাকে ভালো ফল করতেই হবে। এ প্রয়োজনীয়তাটুকু বুঝতে অসুবিধা হয়নি কিং খানের। সমস্ত ফ্যানদের একজোট করার এই যে পরোক্ষ উদ্যোগ তাতে বোঝা যায় বক্স অফিসে ভাগাভাগি এই মুহূর্তে কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয় বলিউডের নায়কদের।

সালমান খানের ‘হিট অ্যান্ড রান’ মামলার আগে থেকেই শাহরুখ-সালমান সম্পর্ক অন্য মোড় নিয়েছিল। সালমানের বোন অর্পিতার বিয়েতে হাজির ছিলেন শাহরুখ। মামলার রায়ের আগের দিন শাহরুখ দেখা করে এসেছিলেন সালমানের সঙ্গে। তবু বলিউডের প্রায় সকলেই জানেন, আমির সালমানের ভালো বন্ধু। সেই চলতি ‘ধারণা’ এক নিমেষে ভেঙে দিলেন শাহরুখ। তিনিই সালমানের সিনেমার ফার্স্ট লুক দেখালেন সকলকে। তারপর টুইট করেন আমির।

বিপদের সময় সালমানের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল প্রায় গোট বলিউড। পাশে দাঁড়াতে গিয়ে অভিজিতের মতো গায়ক তো মাত্রাও ছাড়িয়েছিলেন। কিন্তু একজন নায়কের পাশে থাকা বলতে যে কী বোঝায়, বলিউড যে একটি পরিবার এ প্রমাণ যে কত চুপচাপ অথচ সোচ্চারভাবে করা যায়, তা দেখিয়ে দিলেন শাহরুখ।

টুইটে তিনি বলেছেন, ‘তিনি মনে করেন হিরো হওয়ার থেকে ভাই হওয়া অনেক ভালো।’ কথাটি সালমানের জন্য বললেও, ঘুরিয়ে কী তার নিজের জন্যও খাটছে না? ইঙ্গিত তো স্পষ্ট। ঠিক এই বুদ্ধিমত্ত্বাতেই আমিরকে অনেকটা পেছনে ফেলে দিলেন শাহরুখ। আমির যেখানে সালমানের সিনেমার ফাস্টলুক নিয়ে তার টুইটে কেবলমাত্র ‘কামিং সুন’ বলেই ক্ষান্ত হলেন, সেখানে শাহরুখ দুই লাইন লিখে ছড়িয়ে দিলেন অনেক সম্ভাবনার স্তর। সে সম্ভাবনা নিয়ে যত চর্চা হবে, ততো লাভ সালমানের সিনেমার এবং খোদ শাহরুখের। তবু সালমানের জন্য আমির শাহরুখের একজোট হওয়া বলিউডের দেওয়ালে তাই বাঁধিয়ে রাখা ছবি।

এবং শেষমেশ প্রমোশন। শোনা যাচ্ছে, সালমান নিজে নাকি তার এ সিনেমার প্রমোশন সেভাবে করবেন না। তবে চিন্তার কিছুর নেই, তার জন্য আছেন বলিউডের অপর সেরা দুই নায়ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রমোশনের মূল্য যে কতখানি, শাহরুখের মতো প্রমোশনে মাস্টারমাইন্ড তা ভালোই জানেন। এই এক টুইটে তার নিজের যে প্রমোশন হলো এবং তার আগামী সিনেমা সালমানের থেকে যদি প্রমোশন পায়, তবে তার মাত্রা যে কেমন হবে তা সহজেই অনুমেয়।

ইতিমধ্যে বলিউডে সকলে বলাবলি করছে, সালমানের সিনেমার প্রচার করছেন স্বয়ং শাহরুখ, এর বেশি আর কী চাওয়া যেতে পারে। টুইটার উপচে পড়ছে শাহরুখের প্রশংসায়। এক ধাক্কায় নিজের ফ্যান তো বটে, হিন্দি সিনেমার সব ফ্যানদের চোখে নিজেকে এমন উচ্চতায় তুলে নিয়ে গেলেন বলিউড বাদশা যে, টানা দুইবার আইপিএল জয়ও তার ধারেকাছে পৌঁছাতে পারত না।

টুইট তো বলিউডের প্রায় সব সেলিব্রিটিরাই করেন, কিন্তু কোন সময়ে কোন টুইটে বাজিমাত করা যায়, তা বোধহয় একমাত্র শাহরুখই জানেন।






মন্তব্য চালু নেই