মেইন ম্যেনু

যাত্রার নামে সারা রাত চলছে উলঙ্গ দেহ প্রদর্শন!

প্রতিদিন দিনের বেলায় ‘যাত্রা যাত্রা’ বলে মাইকে ঘোষণা করা হলেও রাতের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশাল প্যান্ডেলের চারপাশ কাপড় ও টিন দিয়ে পুরোপুরি বন্ধ। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভেতরে আসলে কী ঘটছে। এমন আচ্ছাদিত পরিবেশে নেত্রকোনায় যাত্রার নামে চলছে অশ্লীলতা।

‘আমি গরম দুধের চা/ আমায় চুমুক দিয়ে খা/ আহা আহা / আহা আহা / আমার বাম পেয়ালা খা / আমার ডান পেয়ালা খা/ আহা আহা।’ গানের কথাগুলো যারপরনাই অশ্লীল/ তবে আরো অশ্লীল গানের দৃশ্যায়ন। যা রীতিমত ভয়াবহ। গান গাইতে গাইতেই প্রথমে ঊর্ধ্ববাস, পরে অন্তর্বাসও ছুড়ে মারে যুবতী তরুণীরা। আলো ঝলমল মঞ্চ, চারপাশ ঘুরে ঘুরে গানের সঙ্গে চলে আধ ন্যাংটো নৃত্য। এখানেই শেষ নয়, এবারের গান ‘কোথায় কে আছিস আয়/ আমার অঙ্গ জ্বলে যায়/ হায় যৌবন জ্বালায়- এবার একজন নয়, মঞ্চে ৩ জন।

যাত্রার নামে বিশাল প্যান্ডেল টানিয়ে এমনই লাইভ পর্নোগ্রাফি চলছে নেত্রকোনা জেলা সদরের মদনপুরের নন্দীপুর গ্রামে। ১৭ ডিসেম্বর থেকে মধ্যরাতে শুরু হওয়া এই পর্নোশোর সঙ্গে যাত্রার ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। স্বদেশ অপেরা নামে লাইভ পর্নোগ্রাফির একটি দল এখন অবস্থান করছে নেত্রকোনার নন্দীপুরে। অবশ্য যথারীতি পুলিশি প্রহরা রয়েছে, ভেতরে ও বাইরে। পুলিশ তবে কীসের নিরাপত্তা দিচ্ছে?

মঞ্চের চারধার ঘুরে ঘুরে তারা গানের সঙ্গে নাচে, একে একে শরীর থেকে খুলে নেয় অন্তর্বাসও। একজন অন্য জনের গায়ের কাপড় খুলে দেয়। এখন আর সুতোটিও নেই। সম্পূর্ণ নগ্ন শরীর। গানের সঙ্গে শারীরিক অঙ্গভঙ্গি আরো অশ্লীল, কখনো তারা একে অন্যের শরীরের স্পর্শকাতর জায়গাগুলোয় হাত দেয়, কখনো মঞ্চে ছুড়ে দেয়া অন্তর্বাস কুড়িয়ে নিয়ে চুমু খায়ৃ এর পরের ঘটনা বর্ণনা ও প্রকাশ অযোগ্য।

জানা যায়, বিএনপি সমর্থিত তোফায়েল, হাবিব, মতিউরদের একটি গ্রুপ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সমর্থনে নিছক ব্যবসার জন্য এ আয়োজন করছে। প্রতিদিনের টিকিট বিক্রি থেকে উপার্জিত অর্থমূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। আর দর্শকদের কাছে গিয়ে স্পর্শ ও অন্যসবের বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থমূল্য আরো প্রায় এক লক্ষ টাকা।

এব্যাপারে কী দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ ও প্রশাসন? বিষয়টি জানতে কথা হয় নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক তরুণ কান্তি সিকদারের সঙ্গে। তার ভাবলেশহীন উত্তর ‘কি করবো, এরা রাজনৈতিক লোক। অনুমতি না দিয়ে পারি না। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে।’

এদিকে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান বিস্মিত করে দিয়ে বলেন, প্যান্ডেলের ভেতরে কী হচ্ছে জানি না। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেদিকে আমরা সজাগ রয়েছি। আমাদের পর্যাপ্ত ফোর্স রয়েছে সেখানে।’






মন্তব্য চালু নেই