মেইন ম্যেনু

মেয়েদের লেগিংস নিয়ে হঠাৎ বিতর্ক কেন?

লেগিংস পরার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুই তরুণীকে উঠতে দেয়া হয়নি। রোববারের এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ওই দুই তরুণী বিমানের এক কর্মচারীর অতিথি ছিলেন; অতিথি যাত্রীদের জন্য বিমান সংস্থাটির আলাদা পোশাক কোড রয়েছে। এই কোড না মানায় তাদের বিমানে উঠতে বাধা দেয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মেয়েদের লেগিংস কিংবা ইয়োগা প্যান্ট পরা নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়।

অবসর সময়ে উভয় ধরনের আঁটসাঁট পোশাকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রচণ্ড বিতর্কের বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

অনেকেই জিন্সের চেয়ে বিকল্প হিসেবে এই পোশাককে আরামদায়ক মনে করেন। তবে এই পোশাকের কারণে অনেকের শরীরের মাত্রারিক্ত প্রকাশ ঘটে; এমনকি বিদঘুঁটেও দেখায়।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি ২০ বছর ঊর্ধ্বের তরুণীদের লেগিংস না পরার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় একটি দৈনিকে চিঠি লেখেন।

অ্যালান সোরেনটিনো নামের ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘মিনি স্কার্টের মতো ইয়োগা প্যান্ট শিশু এবং তরুণীদের জন্য আরামদায়ক হতে পারে; যারা তারুণ্যের প্রাকৃতিক আশীর্বাদ প্রাপ্ত। যা হোক এই পোশাকের কারণে পরিপক্ব, বয়স্ক নারীদের যে চেহারা প্রকাশ পায় তা উদ্ভট ও বিব্রতকর।’

এদিকে এ ঘটনার পরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারিংটনে ‘ইয়োগা প্যান্ট প্রতিবাদ’র ডাক দেন নারীরা। সব বয়সীদের শত শত নারী লেগিংস পরিহিত অবস্থায় ব্যারিংটন শহর প্রদক্ষিণ করেন। প্রতিবাদের আয়োজকদের একজন জ্যামি বি। তিনি বিবিসিকে বলেন, এ প্রতিবাদ আসলে ইয়োগা প্যান্টের বিষয়ে নয়।

‘আমি এবং অন্যদের জন্য এটা এক ধরনের অধিকার। কীভাবে পোশাক পরিধান করতে হবে সে বিষয়ে মানুষ কেন অন্যদের বলা প্রয়োজন মনে করে?’

চিঠি লেখক অ্যালান সোরেনটিনো বলেন, নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পর তিনি হুমকি পেয়েছিলেন। পরে তার ওই চিঠিকে ঘিরে বিদ্রূপ করা হয়।

তবে বিশ্বের বিভ্ন্নি অংশে বুরকিনি (শরীর ঢেকে সাঁতারের পোশাক) থেকে আরামদায়ক জুতা ও পোশাক পরিধানের প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অনেক নারী।

এদিকে দুই নারী যাত্রীকে বিমানে উঠতে বোধা দেয়া ও এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন তীব্র বিতর্ক শুরু হয় তখন ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানের নিয়মিত যাত্রীরা একই ধরনের লেগিংস নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েন না।

তবে বিশেষ পাস নিয়ে বিমানের স্টাফ ও তাদের স্বজনরা যখন ভ্রমণ করবেন; তখন লেগিংস, ‘লিক্রা, স্প্যানডেক্স টপসসহ সরু পোশাক পরিধান করতে পারবেন না।

ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিমানের অ্যাটেনডেন্ট হেদার পুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দেয়া এক টুইট বার্তায় বলেন, বিমান স্টাফদের জন্য ড্রেস কোড রয়েছে; তারা কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করেন।

তিনি বলেন, ‘পুরুষদের জন্যও ড্রেস কোড রয়েছে। এটি ক্যাজুয়াল। আমরা ফ্লিপ ফ্লপ কিংবা শর্টস পরিধান করতে পারি না।’

লেগিংস পরিধান ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু স্কুলের নীতি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত বছর দেশটির ওহিও অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ড্রেস কোডে পরিবর্তন আনা হয়। ওই সময় বলা হয়, মেয়েদের জন্য স্কুলের নির্ধারিত পোশাকে যৌনতার প্রকাশ ঘটার কারণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি।






মন্তব্য চালু নেই