মেইন ম্যেনু

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়া :

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দলীয়করণ করা হচ্ছে

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দলীয়করণ করা হচ্ছে অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার উষালগ্ন থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সাফল্যকে দলীয়করণ করার অপচেষ্টা শুরু হয়। সেই হীন উদ্দেশ্যে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসকেও বিকৃত করার প্রক্রিয়া চলে। আপনারা (মুক্তিযোদ্ধা) দৃঢ়কণ্ঠে বলবেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ কোনো দলের যুদ্ধ ছিল না। এটা ছিল জাতীয় যুদ্ধ। অতীতের মতো এর বিরুদ্ধেও আপনারা রুখে দাঁড়াবেন।”

রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাম উল্লেখ না করে ক্ষমতাসীনদের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে খালেদা বলেন, “একটি বিশেষ দল স্বাধীনতাযুদ্ধের মনগড়া ইতিহাস বলে যাচ্ছে। সেই খণ্ডিত ও বিকৃত ইতিহাসকে শুদ্ধ করে বলতে গেলে কিংবা চ্যালেঞ্জ করলেই তারা তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। তথ্য উপাত্ত দিয়ে কথা বললেই তারা সুষ্ঠু জবাব না দিয়ে অশ্লীল গালিগালাজ ও হুমকি-ধমকি শুরু করে দেয়। এর কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।”

এর আগে দুপুর একটায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠান শুরু হয়।

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপিত্বে উপস্থিত আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপির) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল নেমান, শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর (অব.) ইব্রাহিম, বিএনপির প্রচার বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক শফিউজ্জামান খোকন, মুক্তিযোদ্ধা সাদেক খান প্রমুখ।

এছাড়া আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ঝালুকাঠি থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিক, ঢাকা থেকে আব্দুর রজ্জাক, নারায়ণগঞ্জ থেকে নূর হোসেন, ফরিদপুর থেকে শাহজাদা মিয়া, কুষ্টিয়া থেকে বাবুল আহমেদ, মাদারীপুর থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন, বগুড়া থেকে আব্দুল কাদের, রংপুর থেকে মোজাফ্ফর হোসেন, চট্টগ্রাম থেকে কামাল উদ্দীন, টাঙ্গাইল থেকে শরিফুল ইসলাম শাজাহান, গাজীপুর থেকে আলী আকবর, রাজশাহী থেকে নূর হামিদ রিজভী বীর প্রতীক, মুঞ্চিগঞ্জ থেকে মীর মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর থেকে শাহবুদ্দিন আহমেদ, দিনাজপুর থেকে সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন মানিক, শরিয়তপুর থেকে শহীদ পারভেজ ও শেরপুর থেকে ফরিদুর রহমান ফরিদ, ঢাকার চৌধুরী আবু তালেব প্রমুখ।

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ এস এম আব্দুল হালিম, আব্দুল মান্নান, অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, সালাহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

 

খালেদা জিয়ার সম্পূর্ণ বক্তব্য

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

জনাব সভাপতি,
বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ,

সমবেত ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম।

পউষের এই মনোরম বিকেলে আমি আপনাদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানাচ্ছি। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে পেরে আমি আনন্দিত। যাঁরা স্বাধীনতাযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন, সেই অমর শহীদদের পূণ্যস্মৃতির প্রতি নিবেদন করছি বিনম্র শ্রদ্ধা। আপনাদের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জানাচ্ছি অভিবাদন।

স্বাধীনতাযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সমূহের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি। দেশবাসীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাদের অপরিসীম ত্যাগে ও সহযোগিতায় আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে বিজয় অর্জন সম্ভব ও ত্বরান্বিত হয়েছিল। প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের স্বাধীনতাপ্রিয় যে-সব জাতি আমাদেরকে সে-সময় সাহায্য-সহযোগিতা ও সমর্থন যুগিয়েছে, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম বীর অধিনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি আমি এই উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তিনি যথা সময়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধকে স্বাধীনতাযুদ্ধে উন্নীত করেছিলেন। জাতীয়-আন্তর্জাতিক পরিসরে বৈধতা দিয়েছিলেন। আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে যারা ছিলেন, তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জাতীয় জনযুদ্ধ। মুষ্টিমেয় বিরোধীতাকারী ছাড়া, দল-মত নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষ ছিল স্বাধীনতার পক্ষে। বাংলাভাষী সৈনিক, সীমান্তরক্ষী, আনসার, পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার তরুণেরা এবং ছাত্র-যুবকেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় স্বাধীনতার ঊষালগ্ন থেকেই মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সাফল্যকে দলীয়করণ করার অপচেষ্টা শুরু হয়। সেই হীন উদ্দেশ্যেই স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাসকেও বিকৃত করার প্রক্রিয়া চলে।

আমি মুক্তিযোদ্ধা ভাই-বোনদেরকে বলবো, আপনারা দৃঢ়কণ্ঠে বলবেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ কোনো দলের যুদ্ধ ছিল না। এটা ছিল জাতীয় যুদ্ধ। এটা ছিলো জনযুদ্ধ। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধকে দলীয়করণের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আপনারা অতীতেও দাঁড়িয়েছেন, সব সময় দাঁড়াতে হবে। একটি বিশেষ দল স্বাধীনতাযুদ্ধের মনগড়া ইতিহাস বলে চলেছে। সেই খণ্ডিত ও বিকৃত ইতিহাসকে শুদ্ধ করে বলতে গেলে কিংবা একটু চ্যালেঞ্জ করলেই তারা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে। তথ্য-উপাত্ত দিয়ে কথা বললেও তারা তার সুষ্ঠু জবাব না দিয়ে শুরু করে দেয় অশ্লীল গালিগালাজ ও হুমকি ধমকি। এর কারণ, স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

এর কারণ, জাতির সেই ঘোর সংকটকালে তারা ইতিহাস-নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল। এর কারণ, রণাঙ্গনে জীবনবাজী রেখে তারা যুদ্ধ করেনি। ভারতে আশ্রিত জীবন কাটিয়েছে। এর কারণ, তারা স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়েও সত্যিকারের সাহস ও দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে পারেনি। জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন ও আক্রান্ত জনগণকে রক্ষার চেয়ে তারা নিজেদের ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তার কথাই বেশি ভেবেছে।
আর তাই তারা ইতিহাসের সত্যের বদলে আবেগকে আশ্রয় করে নিজেদের ব্যর্থতা ও দুর্বলতাকে ঢাকতে চায়।

প্রিয় ভাই-বোনেরা,
একটি দল সব সময় দাবি করে, তারা মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ সংগঠিত করেছে ও নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের দাবি যে কতটা অসার তা এখন সেই দলভুক্ত লোকদের লেখা বই-পত্র এবং বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। কিন্তু সত্য কথা কেউ বললে তারা তার সঠিক ও তথ্য-ভিত্তিক জবাব না দিয়ে গালাগাল শুরু করে। তাদের ফরমায়েশী ইতিহাসের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করলেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকেও তারা ‘রাজাকার’ও ‘পাকিস্তানের চর’ বলে লেবেল এঁটে দিতে দ্বিধাবোধ করেনা। আমি বলতে চাই, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধকে এভাবে দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত করা সম্ভব হবে না। ইতিহাস তার স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। গালাগালি ও হুমকি দিয়ে ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করা যাবে না। সকলেই জানেন যে, ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত তদানীন্তন মেজরিটি পার্টি পাকিস্তানী সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল। পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তারা সচেষ্ট ছিল। এই আলোচনার আড়ালে যে সৈন্য ও অস্ত্র আনা হচ্ছিল, তা জেনেও তারা স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হয়নি। বাংলাভাষী সামরিক অফিসারদের দেয়া স্বাধীনতা ষোষণার প্রস্তাব তারা অগ্রাহ্য করেছিল। আর তাই হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে হরতাল ছাড়া আর কোনো কর্মসূচি তারা ঘোষণা করতে পারেনি। সে প্রস্তুতিও তাদের ছিল না। নিরস্ত্র জনগণের ওপর সামরিক আক্রমণ কতটা নৃশংস ও ভয়াবহ হতে পারে, সে কথা কল্পনা করার শক্তিও তাদের ছিল না। তাই স্বাধীনতা ঘোষণা করতে অস্বীকৃতির পাশাপাশি তাদের সর্বশেষ পরামর্শ ছিল ‘নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর’। আক্রমণের মুখে কোনো দিক-নির্দেশনা না দিয়ে পালিয়ে যাওয়া কিংবা আত্মসমর্পণ করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না। তাদের এই ব্যর্থতার পটভূমিতে জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ করেছিলেন।

হানাদার বাহিনীর অধিনায়ক জানজুয়াকে হত্যা ও বাকীদের বন্দী করেছিলেন। বেতার মারফৎ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন। তাঁর ঘোষণার মাধ্যমেই বিদ্রোহ উন্নীত হয়েছিল বিপ্লবে। প্রতিরোধযুদ্ধ উন্নীত হয়েছিল স্বাধীনতার যুদ্ধে। তাঁর সেই কণ্ঠ দেশবাসী শুনেছে এবং সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। আর কারো সেই সাহস হয়নি। এটাই বাস্তবতা। এটাই ইতিহাসের অমোঘ সত্য।

সত্য আরো আছে। স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্বের কথা বলেন? তাহলে শোনেন। ১৯৭১ সালের পয়লা এপ্রিল থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত বৃহত্তর সিলেটের অন্তর্গত বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার তেলিয়াপাড়া চা-বাগানে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক কমান্ডারেরা বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে মুক্তিফৌজ গঠন, সেক্টর বিভাজন এবং সর্বাধিনায়ক নির্ধারন ও সেক্টর কমা-ারদের দায়িত্ব ও যুদ্ধ-এলাকা বণ্টন করা হয়। সেই বৈঠকেই রেজিলিউশন নেয়া হয়, নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে খুঁজে বের করে তাদের সমন্বয়ে একটি সরকার গঠন করতে হবে এবং সেই সরকারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সহযোগিতার আহ্বান জানাতে হবে। এর অর্থ কী? স্বাধীনতার যে ঘোষণা তখনকার নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতাদের দেয়ার কথা ছিল, সেটা তারা দিতে পারেননি। সেটা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। অর্থাৎ স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরুর নির্দেশনা তারা দিতে পারেননি। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও অধিনায়ক ঠিক করার কাজটিও তারা করতে পারেননি। এটাও সামরিক কমান্ডারেরা নিজেরাই করেছেন। এবং সেটা করেছেন প্রবাসী সরকার গঠনের আগেই।

একটা প্রবাসী সরকার যে গঠন করতে হবে, সেই তাগিদটাও তারা নিজেরা বোধ করেননি। তাগিদটা এসেছিল মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডারদের কাছ থেকে। সেই অনুযায়ী ১০ এপ্রিল আগরতলায় প্রবাসী সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল বৃহত্তর কুষ্টিয়ার অন্তর্গত বর্তমান মেহেরপুর জেলার সীমান্ত-সংলগ্ন আমবাগানে দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সেই সরকারের অভিষেক, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনা ও সালাম গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সাহস ও দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের এসব ব্যর্থতা ও দুর্বলতা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে এইসব দুর্বলতার কারণেই স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে তারা এতটা স্পর্শকাতর।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
রণাঙ্গনের লড়াইয়ে তারা অংশ নেয়নি বলেই মুক্তিযোদ্ধাদের কখনো আন্তরিকভাবে সম্মান ও মর্যাদা দেয়নি। স্বাধীনতাযুদ্ধের বিজয়ের লগ্নে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরাজিত পাকিস্তানী সৈন্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তারা মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী কিংবা প্রধান সেনাপতি অর্থাৎ চিফ অব আর্মি স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুর রবের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেনি। তাদের আস্থাভাজন ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এ. কে খোন্দকারকে সেদিন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠানো হয়েছিল। সেই আস্থাভাজন ব্যক্তিটিও যখন স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস ও পূর্বাহ্নের প্রস্তুতিহীনতা সর্ম্পকে কিছু সত্য কথা বলে ফেললেন, তখন তাকেও ‘পাকিস্তানের চর’আখ্যা দিতে তারা দ্বিধাবোধ করেনি। এই হলো তাদের চরিত্র।

স্বাধীনতার পরপরই ক্ষমতাসীনেরা মুক্তিযুদ্ধের বীর সেক্টর কমান্ডার মেজর এম. এ. জলিলকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিল। ভিন্নমত পোষণের দায়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার রক্তে তারা তাদের হাত রঞ্জিত করেছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পর্যন্ত তারা তৈরি করতে রাজি হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন জিয়াউর রহমান শুরু করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক ইতিহাসের প্রমাণ্য উপকরণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য তিনিই ইতিহাস প্রকল্প গ্রহণ করেন। কোনো দলীয় লোকের মাধ্যমে নয়, দেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, গবেষক ও লেখকদের তিনি এ দায়িত্ব দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকারই আপনাদের অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করে। অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান ও স্মারকসমূহ সংরক্ষণের প্রকল্পও আমরা নিয়েছিলাম।

উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ,
আপনারাই এই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠসন্তান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এদেশে অনেক রাজনীতি হয়েছে। তাদেরকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, এখনো হচ্ছে। আমরা তা কখনো করবো না। মুক্তিযোদ্ধারাও তা চান না। মুুক্তিযোদ্ধারা দলীয় রাজনীতির দাবার ঘুঁটি হতে চান না। তারা কারো করুণা ও ভিক্ষা চান না। তারা চান সম্মান ও মর্যাদা। একটি স্বাধীন, উন্নত, সমৃদ্ধ, সুখী ও শান্তিপূর্ণ স্বদেশের জন্য, একটি সুবিচারভিত্তিক ও বঞ্চনামুক্ত সমাজের জন্য, সুশাসিত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য তারা জীবনবাজী রেখে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের মাধ্যমে বিপুল রক্তপাতে ও ত্যাগে তারা ছিনিয়ে এনেছিলেন বিজয়ের পতাকা। এই ভূখ- ও রাষ্ট্র তারা উপহার দিয়েছেন আমাদেরকে। আমাদের কর্তব্য হচ্ছে তেমন একটি দেশ, রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলা। তাহলেই শহীদদের আত্মত্যাগ ও আপনাদের বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ সার্থক হবে। সফল হবে আপনাদের স্বপ্ন।

প্রিয় ভাই-বোনেরা,
মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম বীর অধিনায়ক, যিনি রণাঙ্গনে কয়েকটি সেক্টরের সমন্বয়ে গঠিত একটি ব্রিগেডের সফল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেই শহীদ রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান বীরউত্তম প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঘোষণাপত্রে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ‘আমাদের জাতীয় উপলব্ধি ও সংহতির কেন্দ্রীয় উপাদান’হিসাবে মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সে কারণেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত এই দল মুক্তিযোদ্ধাদের কেন্দ্রে রেখে ইস্পাত কঠিন বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনে সব সময় সচেষ্ট। অপরদিকে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ সব সময় জাতির মধ্যে বিভেদ-বিভাজন, এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও বিভক্তি ও হানাহানি সৃষ্টিতে তৎপর। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের ও মহান স্বাধীনতার ইতিহাসকে কখনো দলীয় রাজনীতির উপকরণ করতে চাইনা। এ নিয়ে বিতর্কও আমাদের কাম্য নয়।

আমরা বিশ্বাস করি, কোনো মানুষই ত্রুটি-বিচ্যুতি, ভুল-ভ্রান্তি ও ব্যর্থতা থেকে মুক্ত নয়। কেউ-ই সকল সমালোচনার উর্ধ্বে নয়। এ সত্যকে মেনে নিয়েই আমরা সরকারে থাকতে আমি নিজে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, শেরে বাংলা এ.কে.ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, জাতির এই পাঁচ কৃতি-সন্তানকে জাতীয় নেতা হিসাবে মর্যাদা দিয়ে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখা হোক। দুর্ভাগ্যের বিষয় এতে তাদের সম্মতি মেলেনি। পক্ষান্তরে তারা শহীদ জিয়া ও অন্যান্য জাতীয় নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় একের পর এক আক্রমণ অব্যাহত রেখেছেন। শহীদ জিয়ার নাম-নিশানা মুছে দেয়ার জন্য সর্বপ্রকার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।

ফলে আমাদের জাতীয় ইতিহাস প্রশ্নে কাঙিক্ষত ন্যূনতম জাতীয় সমঝোতা স্থাপন সম্ভবপর হয় নাই। আমি আজ সকলের উদ্দেশে বলতে চাই যে, দেশের মানুষ যদি কাউকে সম্মান দিতে না চায়, তাহলে আইনজারী করে কিংবা রাষ্ট্রীয় বা দলমন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়ে তাকে সম্মানিত করা যায় না। আর জনগণের হৃদয়ে যদি কারো জন্য শ্রদ্ধার আসন পাতা থাকে, তাহলে হাজারো চেষ্টা করেও তাঁর নাম মুছে দেয়া যায় না।

প্রিয় ভাই-বোনেরা,
এই বাংলাদেশটাই মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণস্তম্ভ। যতদিন এই দেশ থাকবে মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে থাকবেন মানুষের অন্তরে। অমলিন থাকবে প্রথম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের নাম। যারা সেই নাম মুছে দেয়ার অপচেষ্টা করবে, তারাই মানুষের ঘৃণা কুড়াবে। ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা,
আগামীতে জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হাতে পেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মুক্তিযোদ্ধাদের দল-মতের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেবে। আপনাদেরকে কেন্দ্রে রেখে গড়ে তোলা হবে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য। জাতীয় বিনির্মাণ ও পুনর্গঠনে মুক্তিযোদ্ধারা থাকবেন সামনের কাতারে। নতুন তালিকা প্রণয়নের নামে যে জঘণ্য জালিয়াতি ও দলীয়করণের আশ্রয় নেয়া হয়েছে, তা পরিশুদ্ধ করা হবে। প্রকৃত কোনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকার বাইরে থাকবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতি বন্ধ করে তাদেরকে যথাযোগ্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হবে। তাদের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে। যে সব মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার বিপন্ন ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তাদেরকে সমাজে সম্মানজনক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

কখনো কোনো কারণে কোনো মুক্তিযোদ্ধা কারারুদ্ধ হলে কারাগারে তার জন্য বিশেষ মর্যাদা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হবে। আপনাদের বয়স হয়েছে। অনেকে অসুস্থ হচ্ছেন। আমরা তাই মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য সারা দেশে হাসপাতালগুলোতে রিজার্ভ সিট রাখার অথবা সুবিধাজনক স্থানে পৃথক একটি মুক্তিযোদ্ধা হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেব। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আপনাদের কল্যাণে আমরা বাস্তবসম্মত আরো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সস্তা ও আবেগাশ্রয়ী রাজনীতি চলতে থাকবে, আর মুক্তিযোদ্ধারা ভিক্ষা করবেন, রিকশা চালাবেনÑ এই ভন্ডামী আর চলতে দেয়া যায় না।

প্রিয় ভাই-বোনেরা,
আজ আমরা যখন এখানে একত্রিত হয়েছি, তখন দেশের কী-অবস্থা আপনারা জানেন। দেশে গণতন্ত্র নেই। বৈধ কোনো গণতান্ত্রিক সরকার নেই। গণতন্ত্র, সুশাসন, সুবিচার, জনগণের অধিকার, সমৃদ্ধির জন্য, দূরদেশীদের জুলুম-অত্যাচার-হত্যাকান্ড থেকে জাতিকে রক্ষার জন্য আপনারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। সেই সব অর্জন এই স্বাধীন দেশে আজ আবার লুণ্ঠিত। আমরা রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র এনেছিলাম, ভোটের অধিকার কায়েম করেছিলাম। আজ গণতন্ত্র নেই। ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি এক নির্মম প্রহসন করা হয়েছে। ন্যায়বিচার ও সুবিচার হরণ করা হয়েছে। বিচারের বাণী আজ নীরবে-নিভৃতে কাঁদে। জিনিসপত্রের দামের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। মাদক-সন্ত্রাস-প্রশ্নপত্র ফাঁসে শিক্ষা ও তারুণ্য আজ বিপথগামী। সন্ত্রাস আজ সর্বব্যাপী। দখল ও দলীয়করণে সব প্রথা-প্রতিষ্ঠান বিপন্ন।

গুম-খুন-উৎপীড়নে প্রতিটি জনপদ আজ রক্তাক্ত। জনগণের নিরাপত্তার জন্য গঠিত রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে খুনী-ভাড়াটে বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে যথেচ্ছ দলীয়করণে। সবখানে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। শেয়ার বাজার ও ব্যাংকগুলো লুঠ হয়ে গেছে। শাসক দলের লোকেরা মাত্র এক বছরে ১৪ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে বিদেশে। সুইস ব্যাংকের ভল্টগুলো ভরা হচ্ছে বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষের রক্ত শুষে নেয়া অর্থে। দায়মুক্তি দিয়ে কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা তছরুপ হলো। তবও মানুষ অন্ধকারে। বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির জন্য হাহাকার। সুন্দরবন আজ শাসক তষ্করদের লোভ ও ষড়যন্ত্রে বিপন্ন। ধ্বংসের পথে আমাদের হেরিটেজ ও মূল্যবান প্রাণবৈচিত্র। শিল্পায়ন-বিনিয়োগ সম্পূর্ণ স্থবির আজ। কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ। গার্মেন্টস শিল্পে অনিশ্চয়তার কালো অন্ধকার। জনশক্তি রফতানির দুয়ার একের পর এক রুদ্ধ হচ্ছে। বিনিয়োগ-শূন্য পরিবেশে ক্যাপিটেল মেশিনারিজ ও কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্ফীত দেখিয়ে মিথ্যা আত্মপ্রসাদ লাভ করছে শাসকেরা।

মানুষের দুঃখ, দৈন্য ও কষ্ট নিয়ে এরা পরিহাস করছে। ফেনায়িত মিথ্যাচারে সত্য ও নির্মম বাস্তবতাকে ধামাচাপা দিতে চাইছে। মাদরাসার গরীব এতিম শিক্ষার্থী, পিলখানার চৌকষ সেনা অফিসার ও প্রতিবাদী সহ¯্র তরুণের তাজা রক্তে তারা হাত রঞ্জিত করেছে।

হামলা, মামলা, উৎপীড়নে তারা সব প্রতিবাদ, জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রকে পর্যুদস্ত করে রাখতে চাইছে। ভিনদেশী হানাদারদের পথ বেছে নিয়েছে আজ স্বদেশী দুঃশাসক হানাদারেরা। দেশের এই করুণ পরিস্থিতিতে, দেশবাসীর এই চরম দুঃসময়ে মুক্তিযোদ্ধারা কি চুপ করে বসে থাকতে পারেন? নিশ্চয়ই না। আপনাদেরকে প্রতিবাদ করতে হবে, আন্দোলন সংগঠিত করতে হবে। আপনারা জানেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ন্যায়সঙ্গত। আজ সেই ন্যায়সঙ্গত বিদ্রোহ সংগঠিত করার সময় এসেছে। এই বিজয়ের মাসে সেই প্রস্তুতি আমাদের সম্পন্ন করতে হবে।

আমাদের দাবি খুব সামান্য। এদেশে গত ৫ জানুয়ারি কোনো ভোট হয়নি। ভোট ছাড়া কোনো সরকার বৈধ হতে পারেনা। কাজেই এখন একটি অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আছে, জোর করে। এরা বিনাভোটেই সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নিয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩০০ আসনের মধ্যে সংসদের ১৫৪ আসন তারা পেয়েছে বলে ঘোষণা করেছে।

বাকী আসনগুলোতে শতকরা ৫ জন ভোটারও ভোট দিতে যায়নি। ৪৮টি ভোটকেন্দ্রে একজন ভোটারও যায়নি, একটি ভোটও পড়েনি। খুবই লজ্জাজনকভাবে পুলিশ ও প্রশাসনকে দিয়ে তারা কিছু ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে বাক্সে ঢুকিয়েছে। পরে অনুগত নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে শতকরা ৪০ ভাগ ভোট পড়েছে বলে তারা ঘোষণা দিয়েছে।

এই প্রহসনে বিএনপিসহ কোনো বিরোধীদল অংশ নেয়নি। এভাবে বিনা ভোটে না-কি তারা গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা করেছে! আসলে সংবিধান নয়, গণতন্ত্র নয়, তারা রক্ষা করেছে তাদের ক্ষমতাকে। আর কেড়ে নিয়েছে জনগণের সকল অধিকার। এই প্রহসন করার উদ্দেশ্যেই তারা খেয়ালখুশি মতো আগেই একতরফাভাবে সংবিধান তছনছ করে ফেলেছিল। তারা মনে করে তাদের এইসব ধূর্ত অপকৌশল দেশ-দুনিয়ার মানুষ কিছুই বোঝে না। এই পরিস্থিতিতে আমরা একটি সত্যিকারের নির্বাচন চাইছি।

যে নির্বাচনে ভোটাররা নির্বিঘেœ ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভোট দিতে পারবে। যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি সকল রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারবে। এবং সকল দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে। কেউ ক্ষমতাসীন থেকে আর কেউ ক্ষমতাহীন থেকে নির্বাচন করবে, সেটা হতে পারেনা। আর নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ এগুলোকে দল-নিরপেক্ষ অবস্থানে আনতে হবে।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এমন একটি নির্বাচনের পন্থা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বের করার আহ্বান আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছি। এর মধ্যে প্রায় এক বছর চলে গেছে। মানুষের অবস্থা ও দেশের পরিস্থিতি দিন-দিন খারাপ হচ্ছে। সকলের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ আহ্বানে তারা সাড়া দেয়নি। তাই আমাদের বসে থাকার আর কোনো উপায় নেই। দেশের জনগণ আন্দোলন চায়, পরিবর্তন চায়। তারা তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা ভোট দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে জন্য তারা বিএনপি ও ২০ দলের প্রতি আন্দোলন করার জন্য প্রতিনিয়ত আহ্বান জানাচ্ছে। আমি যেখানেই যাচ্ছি, দলে দলে লোক এসে আন্দোলনের দাবি জানাচ্ছে। কাজেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অচিরেই আমাদেরকে আন্দোলন শুরু করতে হবে। আমরা অস্ত্রের মোকাবিলায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পথে নামবো।

আমাদের আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক, জনগণের আন্দোলন। জনগণের সেই আন্দোলনে স্বৈরাচারী, অবৈধ সরকার তাসের ঘরের মতো ভেসে যাবে ইনশআল্লাহ্।

আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

(খালেদা জিয়ার বক্তব্য পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হয়েছে)






মন্তব্য চালু নেই