মেইন ম্যেনু

মায়ার মামলাবাজ বেয়াই

নিজেকে ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান দাবি করলেও সাত হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃত অবসরে পাঠানো সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদের বাবা কর্নেল (অব.) মজিবুর রহমানের হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছে প্রায় কয়েকশ অসহায় পরিবার। অসহায় মানুষদের ফাঁসিয়ে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। বাবার পদানুসরণ করেই গুণধর ছেলে হন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা তারেক সাঈদ!

সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতপাড়ায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেই মজিবুর রহমানের দায়ের করা ৩৭টি মামলার একটি তালিকা এবং তার কাগজপত্র সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করেন।

এদিকে মজিবুর রহমানের সঙ্গে সঙ্গে থেকে কম জাননি তারই স্ত্রী অর্থাৎ তারেক সাঈদের মা দিলুয়ারা বেগমও। হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে দিলুয়ারা বেগমও ফাঁসিয়েছেন অসহায় এক পরিবারকে। সেই সঙ্গে মজিবুর রহমানের আরেক বেয়াই আবদুর রাজ্জাক (ভাতিজির ভাসুর), ভাতিজী জামাতা আব্দুর রব, ছোট ছেলে খালেদ আহম্মেদুর রহমানও বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। তবে সব মামলার পেছনেই কলকাঠি নাড়িয়েছেন তারেকের বাবা মজিবুর রহমান।

দায়ের করা ৩৭টি মামলার মধ্যে শ্রীপুর থানাতেই রয়েছে ১৩টি মামলা। এ থানার ওসি মহসিন-উল কাদের মোবাইল ফোনে মামলার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক কোনো মামলা হয়নি। যেগুলো হয়েছে সেগুলো অনেক আগের।’

জানা গেছে, রিয়াজউদ্দীনের পরিবারের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় ১৯৯৯ সালে ৫(৫)৯৯ নং মামলা করেন তারেক সাঈদের বাবা সাবেক কর্নেল মজিবুর রহমান। একই থানায় ইয়াছিন আলী গংদের বিরুদ্ধে ১৯৯৯ সালে ২০/৫/৯৯ নং, শ্রীপুর থানায় নন জিআর ২৯৮/২০০০ নম্বরে ২০০০ সালে মোস্তফা কামাল গংদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

২০০০ সালে সি.আর মোকদ্দমা ১০/২০০০ নম্বরের একটি মামলায় আসামি করা হয় আব্দুল মোতালিব গংদের, একই সালে ৪৯৩/২০০০ নম্বরের মামলায় মোতালিব গংদের আসামি করা হয়। শহীদ আলম গংদের বিরুদ্ধে ২০০২ সালে জয়দেবপুর থানায় নন জি আর ২৮৯/০২ মামলা করেন। ১৯৯৯ সালে দে. মোকদ্দমা ১৩১/৯৯ নং মামলা করা হয় ইয়াছিন আলী গংদের বিরুদ্ধে, একই বছর দে. মোকদ্দমা ৮৭/৯৯ নং মামলায় নাজমুল হুদা গংদের, ২০০০ সালে দে. মোকদ্দমা ১৬/২০০০ নং মামলায় ওয়াজউদ্দীন গং, ১৯৯৯ সালে দে. মোকদ্দমা ১৪৮/৯৯ নং মামলায় হাবিজ উদ্দীন গংদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এদিকে ২০০২ সালে শ্রীপুর থানায় মোস্তাফা কালাম গংদের বিরুদ্ধে আবারো ৭(১)২০০২ নং মামলা করা হয়। ১৯৯৯ সালে ইয়াছিন আলী গংদের বিরুদ্ধে ৬৯৩/৯৯ পিটিশন মোকদ্দমা করা হয়। ২০০০ সালে আব্দুল মোতালিব গংদের বিরুদ্ধে পিটিশন মোকদ্দমা ৪৯৩/২০০০, দে. মোকদ্দমা ১৯৯/২০০০ ও ১৯৯৯ সালে পিটিশন ২২১/৯৯ মোকদ্দমায় হয়রানি করা হয়। ২০০২ সালে ২২৭/২০০২ সি আর মোকদ্দমায় ইয়াছিন আলী গং, উত্তরা দারুল ইসলাম ট্রাষ্টের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে দে. মোকদ্দমা ২৩/৯০ নং, ২০০২ সালে নুরুল ইসলাম গংদের বিরুদ্ধে পিটিশন মোকদ্দমা-৯৭/২০০২, একই বছর হেলালউদ্দীন গংদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় ১(৪)২০০২, ২০০২ সালে শ্রীপুর থানায় নন জিআর ৩২৯/২০০০ নং মামলায় হাফিজউদ্দীন গং, ২০০৩ সালে শ্রীপুর থানায় ২৬(৫)২০০৩ নং মামলায় নুরুল ইসলাম গং, ২০০৪ সালে ৩৩/০৪ পিটিশন মোকদ্দমায় শাহীন আলম গং, ২০০৫ সালে ১৭০/০৫ দে. মোকদ্দমায় হাবিজউদ্দীন গং ও ৭০২/০৫ নং পিটিশন মামলায় নজরুল ইসলাম গংদের বিরুদ্ধে মামলায় করে হয়রানি করেছিলেন মজিবুর রহমান।

এছাড়াও তারেক সাঈদের মা দিলুয়ারা বেগম ২০০৬ সালে ভৈরব থানায় রাজিবুর রহমান গংদের বিরুদ্ধে ১৫(১০)০৬ মামলা করেন। ১৯৯৯ সালে মজিবুর রহমানের ভাতিজি ভাশুর আব্দুর রাজ্জাক সাহেদ গংদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় ৮(১২)৯৯ নং মামলা করেন। ২০০০ সালে মজিবুর রহমানের ভাতিজি জামাতা আব্দুর রব শ্রীপুর থানায় নন জি আর ২৯৮/২০০০ নং মামলায় জালাল গং, ২০০২ সালে একই থানায় ৫৪/২০০০ নং সহিদ গং, ১৯৯৮ সালে পিটিশন মামলা ১৬৯/৯৮ নং মামলায় নুরুল ইসলাম গং, ২৩৯/৯৮ নং পিটিশন মামলায় মোস্তাফা কামাল গং, ১৯৯৯ সালে নুরুল ইসলাম গংদের বিরুদ্ধে ৬১৬/৯৯নং পিটিশন মামলা, ১৯৯৭ সালে শ্রীপুর থানায় আমিরউদ্দীন গংদের বিরুদ্ধে ২(৩)৯৭ নং, ২০০৪ সালে শাহীল আলম গংদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় ২২(৭)০৪ নং ও ২০০৩ সালে জালালউদ্দীন গংদের বিরুদ্ধে ২৪/২০০৩ নং মামলা করা হয়।

মজিবুর রহমানের ভাতিজির ভাশুর আব্দুর রাজ্জাক ২০০২ সালে শ্রীপুর থানায় ৬(৮)২০০২ নং ও পিটিশন মামলা নং ৪৮৩/২০০২ মামলায় শাহীন আলম গংদের হয়রানি করা হয়।

এসব মামলায় প্রায় কয়েক শত পরিবারের সদস্যদের জড়ানো হয়েছিল। ফলে শত শত পরিবারকে হয়রানি করেছিলেন এই তারেক সাঈদের বাবা মজিবুর রহমান।

উল্লেখ্য, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মজিবুর রহমানের গ্রামের বাড়ি ছিল পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া উপজেলার দেবত্র গ্রামে। কাঠাখানেক জমি থাকলেও সেখানে নেই কোনো বসতবাড়ি। তবে বরগুনার তালতলি এবং ঢাকার গাজীপুরের শ্রীপুরে তাদের বিপুল সম্পত্তি রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই