মেইন ম্যেনু

মমতার দরাজ প্রশংসায় নরেন্দ্র মোদি, সৌজন্য না কৌশল? জল্পনা তুঙ্গে

দিলীপ মজুমদার (কলকাতা): ৩৪ বছরের বাম আমলের অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগ নিয়েছেন তার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপক বিতর্কে অংশ নিতে গিয়ে বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই মন্তব্যই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা উস্কে দিয়েছে৷ একাধারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তামিলনাড়ুর জয়ললিতা সরকারের কাজের প্রশংসা করে কি তাঁদের উদ্দেশে বিশেষ কোনও রাজনৈতিক বার্তাই পৌঁছে দিতে চাইলেন নরেন্দ্র মোদি? মোদি অনুগামীরা অবশ্য এর মধ্যে কোনও রাজনীতি খুঁজে পাচ্ছেন না৷ তাদের বক্তব্য, মোদি বরাবরই পারস্পরিক সহযোগিতা ভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বিশ্বাসী৷ তাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাজের প্রশংসা করেছেন৷ দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক লড়াই যে বাধা হবে না, প্রথম দিন থেকেই তার ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন মোদি৷ এদিনের বক্তব্য তার সঙ্গে সাজুয্যপূর্ণ৷ কিন্তু বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রী অনুগামীদের এই তত্ত্ব মানতে নারাজ৷ তাদের দাবি, লোকসভায় এনডিএ-র বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, রাজ্যসভায় তারা সংখ্যালঘু৷ তাদের সংখ্যা মাত্র ৬২৷ যার ফলে সংসদের উচ্চকক্ষে কোনও বিল পাস করাতে গেলে মোদি সরকারকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে৷ তাই তাঁর প্রয়োজন জয়ললিতা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নবীন পট্টনায়কদের সমর্থন৷

রাজ্যসভায় তৃণমূলের ১২ জন সাংসদ রয়েছেন, এআইএডিএমকের ১০ জন এবং বিজু জনতা দলের ৬ জন সাংসদ রয়েছেন৷

তাই রাজ্যসভার বৈতরণী পার হতেই, মোদির মুখে মমতা-জয়ললিতার ভূয়সী প্রশংসা কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে৷ কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেছেন, রাজ্যসভার কথা ভেবে মমতাকে তোল্লা দিতেই মোদির এই প্রশংসা৷

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই পুরনো সুরে কটাক্ষ শুরু করেছে সিপিএম৷ সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম বলেছেন, এই ঘটনায় বিজেপি-তৃণমূলের গোপন রফাই আরও একবার প্রকাশ্যে এল৷

মঙ্গলবার লোকসভায় বিতর্ক চলাকালীন অম্বানি-আদানির প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে খোঁচা দেওয়ার চেষ্টা করেন৷

এদিন অবশ্য শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদের সেই মন্তব্যের কোনও জবাব না দিয়ে, মোদি বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি তাতে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিচ্ছে না৷






মন্তব্য চালু নেই