মেইন ম্যেনু

ভোলায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চিংড়ি রেণু শিকারের মহোৎসব

ভোলার মেঘনা- তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে বাগদা-গলদা চিংড়ি রেণু শিকারের মহোৎসব। গ্রীষ্মের ৩ মাস ভোলা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোটি কোটি টাকার রেণু সরবরাহ করা হচ্ছে।

এই রেণু ধরতে অসচেতনভাবে জেলেরা ধ্বংস করছে ৬৫ প্রজাতির মাছের ডিম- রেণু ও পরিবেশবান্ধব পোকা-মাকড়। প্রাণি বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলজ প্রাণি রক্ষায় প্রাকৃতিক উৎস থেকে বেপরোয়া রেণু শিকার বন্ধ করা দরকার। অবশ্য মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিকের দাবি যৌথ অভিযানের মাধ্যমে রেণু ধরা বন্ধের চেষ্টা চলছে।

এদিকে খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরাসহ দেশের উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের চিংড়ি ঘেরের প্রয়োজনীয় রেণুর প্রায় ৬০ ভাগ ভোলা অঞ্চল থেকে সরবরাহ করা হয়। গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতেই ঘের মালিকরা দালালের মাধ্যমে শিকারিদের দাদন দিয়ে থাকেন।

অন্যদিকে ওই দাদন নেয়া হাজার হাজার শিশু ও নারী-পুরুষ মশারি জাল দিয়ে প্রতিদিন মেঘনা- তেঁতুলিয়ায় রেণু শিকার করে। অসচেতন ওইসব জেলেরা জালে ধরা পড়া চিংড়ির রেণুগুলো রেখে অন্যান্য মাছের রেণু ও ডিম মাটিতে ফেলে দেয়। এতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণু, ডিম ও প্রাকৃতিক উৎসের পোকা-মাকড় ধ্বংস হচ্ছে।

রেণু ধরতে গিয়ে অন্যান্য মাছের রেণু ও ডিম নষ্ট করায় অর্থনৈতিক ও পরিবেশ উভয়ের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান ভোলা সরকারি কলেজের প্রাণীবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান মোঃ মমিন মিয়া।

তিনি বলেন, ‘চিংড়ি পোনাগুলো সংগ্রহ করার সঙ্গে সঙ্গে অন্য পোনাগুলো শুকনো জায়গায় ফেলে দেয়। যার ফলে আমাদের বিরাট পরিমাণের ক্ষতি হচ্ছে।’

অপরদিকে রেণু শিকার করে এ অঞ্চলরে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সাময়িকভাবে আয়ের সুযোগ হচ্ছে। পাশাপাশি এর ফলে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছ সংগ্রহ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন প্রাণীবিজ্ঞানীরা।






মন্তব্য চালু নেই