মেইন ম্যেনু

ভাঙা গোড়ালিতে মায়ের তেল মালিশে যুবকের মৃত্যু

ব্যাডমিন্টন খেলতে গিয়েছিলেন ২৩ বছরের যুবক। বেকায়দায় পড়ে পায়ের গোড়ালিতে চোট পান। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে জানা যায় ভেঙেই গিয়েছে গোড়ালির হাড়। চিকিৎসকের পরামর্শেই করা হয় প্লাস্টার। এই পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। সমস্যা তৈরি হল প্লাস্টার খোলার পর।

এরপরও ব্যথা থেকে গিয়েছিল যুবকের পায়ে। ছেলের ব্যথা কমাতে ঘরোয়া টোটকার সাহায্য নিয়েছিলেন মা। ভেবেছিলেন ব্যথা-বেদনায় আয়ুর্বেদিক তেল মালিশ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এই তেল মালিশই কাল হল যুবকের জীবনে। মায়ের গোড়ালি মালিশের চোটে মারাই গেল সেই যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের দিল্লিতে।

কিন্তু কেমন করে ঘটে গেল এই দুর্ঘটনা এমন প্রশ্নের উত্তরে দিল্লি এইমসের চিকিৎসক সুধীর গুপ্তা জানান, শরীরের কোনও অঙ্গের হাড়ে ভাঙন ধরলে শুধুমাত্র প্লাস্টার করলেই তা সেরে যাবে এমনটা ভাবা ভুল। আর এই ভুলটাই বেশিরভাগ মানুষ করে বসেন। ভাঙনের মাত্রা কতটা, তাতে অন্য কোনও ক্ষতি হয়েছে কি না, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখাও ভীষণ প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, মানব শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গ একে অন্যের সঙ্গে ভীষণভাবে জড়িত। এই যুবকের ক্ষেত্রে যা হয়েছে তার ডাক্তারি নাম ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস। আদতে প্লাস্টার খুলে গেলেও যুবকের ভাঙা গোড়ালি পুরোপুরি ঠিক হয়নি। তাই ব্যথা ছিল। এর মধ্যেই তার মা’র মালিশের ফলে কোনও ভাবে শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে যায়। সে কারণেই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

ডাক্তার গুপ্তা জানান, ৫ বাই ১ সেন্টিমিটারের ব্লাড ক্লট হয়েছিল ওই যুবকের। ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিসের কারণে প্রতি এক লক্ষ রোগীর মধ্যে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়। এই কারণেই শরীরের কোনও অংশে ব্যথা লাগলে ঘরোয়া টোটকার বদলে সব সময় চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই