মেইন ম্যেনু

ব্যায়ামই একমাত্র ভরসা নয়

এতোটা মোটা হয়ে গেছেন অথচ টের পাননি। আশেপাশের দুয়েক জনের সতর্কবাণীও গ্রাহ্য করেননি। কিন্তু হঠাৎ করে বাক্সে তোলা জামা পরতে গিয়ে নিজের পরিবর্তনটা বুঝতে পারলেন। আর তখনি পড়ে গেলেন বেশ চিন্তায়। নিজেকে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে ব্যায়ামই একমাত্র ভরসা ভাবছেন। কিন্তু আসলে কি তাই?

অনেকের ধারনা, ব্যায়াম হল ওজন কমানোর চাবিকাঠি। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়াম এর চেয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাবার এবং শারীরিক সক্রিয়তার সম্মিলনেই একটা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব।

বিবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ব্যায়াম বা নানা ধরনের শারীরিক কর্মকাণ্ড ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্মৃতিভ্রমের মতো নানা অসুখ-বিসুখ থেকে মুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মুটিয়ে যাওয়া রোধে ব্যায়ামের প্রভাব খুবই কম।

গবেষণায় বলা হয়েছে খাবার তালিকা থেকে অতিরিক্ত শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট কমাতে পারলে মুটিয়ে যাওয়া রোধ করা সহজ হবে। লন্ডনের খ্যাতনামা কার্ডিওলজিস্ট অসীম মালহোত্রাসহ সহযোগী বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ব্যায়ামের মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর খাবারের ক্ষতিকর প্রভাব দূর করা যায় বলে প্রচারণা চালান। তবে এই কৌশলের তারা তীব্র সমালোচনা করেন।

তারা বলেন, এই কৌশলের সঙ্গে বড় বড় তামাক কোম্পানির প্রচার কৌশলের অভাবনীয় মিল রয়েছে। তারকাদের দিয়ে কোমল পানীয় পানে উৎসাহিত করা এবং খেলাধুলার সঙ্গে জাঙ্ক ফুড-কে অনিবার্যভাবে সম্পর্কিত করা বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি ‘ল্যানসেট গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ’ এর এক প্রতিবেদনকে তারা সমর্থন জানিয়েছেন। প্রতিবেদনের সঙ্গে মত মিলিয়ে তারা বলেন, শারীরিক সক্রিয়তা না থাকা, ধূমপান করা বা অ্যালকোহলে আসক্তি থাকা সম্মিলিতভাবে স্বাস্থ্যের যে ক্ষতি করে কেবলমাত্র অস্বাস্থ্যকর খাবার তারচেয়ে বেশি ক্ষতি করতে সক্ষম।

যদিও এই মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন খাদ্য ও পানীয় শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। ব্যায়াম বা শারীরিক কর্মকাণ্ডের সুবিধা প্রচারে খাদ্যশিল্পে এমন কোনো ষড়যন্ত্র নেই বলে দাবি করেন যুক্তরাজ্যের একটি ফুড অ্যান্ড ড্রিঙ্ক ফেডারেশনের এক মুখপাত্র।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সিলেন্স-এর অধ্যাপক মার্ক বেকার বলেছেন, ব্যায়াম করার উপকারিতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে সুষম খাবার এবং শারীরিক সক্রিয়তার সম্মিলনেই একটা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।






মন্তব্য চালু নেই