মেইন ম্যেনু

ব্যাংক নয়, পল্লী অঞ্চলে এখনো এনজিও কৃষকের একমাত্র ভরসা

বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট ঋণের ২ শতাংশ কৃষকের মাঝে বিতরণের কথা থাকলেও নানা জটিলতায় কৃষকরা তা পাচ্ছ না। কৃষকরা দ্বারস্ত হচ্ছে এনজিওর। ব্যাংকগুলো বিভিন্ন প্রকার কনজু্যুমার ঋণ দিয়ে তা পল্লীঋণ হিসাবে দেখাচ্ছে। সম্প্রতি উত্তারাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনের রাজশাহীর বাঘমারার কৃষকরা জানান, কম সুদে ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ পাওয়া শোনা গেলেও সে ঋণ পাওয়া খুবই কঠিন। ব্যাংকে ঋণ নিতে গেলে নানা অজুহাত দেখায় তারা। জমির এই কাগজ আনো, ওই কাগজ আনো, এ অফিসারের কাছে যাও, আরেক অফিসারের কাছে থেকে সত্যায়িত করে নিয়ে আসো। এ সব জটিল কাজ নিজে না পারলে দালাল ধরতে হয়। এ সব দালালকে আবার টাকা দিতে হয। নিজে করতে গেলে ঘুরতে হয়, অনেক সময় লাগে। যত দিন ঘুরতে হয় ততদিন টাকার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়। দালালকে টাকা দিয়ে যে সুদ হার পড়ে আর এনজিও এর থেকে ঋণ নিতে হলে যে সুদ দিতে হয় এক সমান পড়ে।

বিষয়টি স্বীকার করলেন বাঘমারা জনতা ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা ম্যানেজার। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, কৃষকদের ঋণ বিতরণের জন্য লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আমরা কৃষকের প্রয়োজনে অনেক সময় ঋণ দিতে পারি না। কারণ হলো আমাদের বেশ কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়। নিয়মের বাইরে ঋণ বিতরণ করতে পারি না। আবার এনজিও কর্মকর্তাদের গ্রামে গ্রামে ঘুরেও আমরা টঋণ বিতরন করতে পারি না। অন্যদিকে এনজিও কর্মকর্তাদের ঋণ বিতরণের জন্য লক্ষ্যমাত্রা থাকে। এজন্য তারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঋণ বিতরন করে থাকে। ঋণ তোলার জন্যও তারা ঘুরে ঘুরে আদায় করে। ফলে তারাই কৃষকের আপদকালিন বন্ধু। যদিও এ ঋণের বিপরীতে সুদ গুনতে হয় ২১ থেকে ২৭ শতাংশ সুদ। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ নিতে হলে সুদ দিতে হয় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ।

ব্যাংকের নিয়ম-কানুন কি-এমন প্রশ্নের জবাব পাওয়া গেলো জমির কৃষিঋণের বিপরীতে জমির কাগজ, কেউ একজন জিম্ম্দিার এবং সর্বপরি সরকারি ব্যাংক হওয়ার কারণে ঋণ বিতরণ না করলেও কর্মচারিদের বেতনের সমস্যা হয় না। সময় মত বেতন হয় হয়।

বাঘমারা সংশ্লিস্ট সরকারি ব্যাংকের শাখাটিতে অনুসন্ধান করে জানা গেল, শাখাটির ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে এ বছর পল্লী ঋণ হিসাবে বিতরণ করবে ৬০ লাখ টাকা। বাকী টাকাগুলো গতবছরের বিতরণ করা ঋণের নবায়ন করে এ বছরের ঋণ হিসাবে দেখানো হবে। এই ৬০ লাখ টাকার মধ্যে সরকারি-আধা সরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দেওয়া হবে ৫০ লাখ টাকা। বাকী ১০ লাখ টাকা কৃষকদের মধ্যে শষ্যঋণ হিসাবে বিতরন করা হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে বিতরন করা ঋণ কৃষি ঋণের মধ্যে পড়ে কিনা বলতে পারেনি এই কর্মকর্তা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণের ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে শষ্যঋণ, সেচ যন্ত্রপাতি কেনা বাবদ ঋণ, কৃষি যন্ত্রপাতি কেনা বাবদ ঋণ, পশুপালন ও পোল্ট্রি ফার্ম। এবং নন-ফার্ম পল্লী ঋণের আওতায় রয়েছে দারিদ্র দূরিকরণে দরিদ্র মানুষের মাঝে আয়বর্ধক কাজে ঋণ বিতরন। কিন্তু এ সবের ধারে কাছে নেই কৃষি প্রধান এ অঞ্চলের ব্যাংকগুলোর। একই অবস্থা রাজশাহীর অপর উপজেলা পুটিয়া ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক শাখাগুলোর। এ সব অঞ্চলে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দুএকটি শাখা থাকলেও সেখানে তুলনামুলকভাবে বড় কৃষককে ঋণ বিতরন করা হয়ে বলে জানালেন কুষকরা। ফলে কৃষি ঋণ বিতরন করা হলেও তা সত্যিকারের কৃষকরা পান না।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কৃষকদের মাঝে ঋণ বিতরন করছে বললেও সত্যিকার অর্র্থে যার পাওয়ার কথা পাচ্ছে না। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ সব বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিবেদন দিচ্ছে তারা কৃষককে ঋণ দিচ্ছে-বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বাঘামারার কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদেও সরাসরি দেখার বিষয় না। তারপরও কৃষি সম্পর্কিত কমিটিতে রিপোর্ট করার সময় এ সম্পর্কে আমার বক্তব্য থাকে। কৃষিঋণ বিতরণে কৃষি অফিসারের কাছে থেকে সনদ নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে কৃষকদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে নিশ্চিত করা যেত।






মন্তব্য চালু নেই