মেইন ম্যেনু

বুকে গুলি নিয়ে ৭ দিন! অতঃপর…

বাবার হাত ধরে পাড়ার দোকানে ব্যাডমিন্টনের কর্ক কিনতে যাচ্ছিল নয় ব‌‌ছরের শাহিদ মোল্লা। গ্রামের এক পরিচিত যুবককে বন্দুক দিয়ে পাখি শিকার করতে দেখে সেখানেই সে দাঁড়িয়ে পড়ে।

খেলাচ্ছলে বন্দুক নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে গিয়ে হঠাৎই বন্দুক থেকে গুলি বেরিয়ে তার বুকের ডানদিকে ঢুকে যায়। রক্তে ভিজে যায় তার জামা। ঘটনাটি ঘটে ১৩ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাবড়ার খাড়ো গ্রামে।

প্রথমে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু এক সপ্তাহ বাদে ২০ ডিসেম্বর ফের বাড়ির লোক তাকে নিয়ে আসেন হাবড়ার জেলা হাসপাতালে। সেখানকার ডাঃ শান্তনু দত্তর অধীনে ভর্তি করা হয়। টানা ৭ দিন হৃৎপিণ্ড থেকে মাত্র এক মিলিমিটার দূরে গেঁথে ছিল বুলেটটি। তারপর ২১ ডিসেম্বর টানা ৪ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচার করে শিশুটিকে নতুন জীবন দিলেন এসএসকেএমের কার্ডিওথোরাসিক ভাসকুলার সার্জারি (‌সিটিভিএস) বিভাগের চিকিৎসকরা।

এক্স–রে, সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট দেখে প্রথমে চিকিৎসকদের ধারণা হয়েছিল, হৃৎপিণ্ডের মাঝখানে অর্থাৎ মহাধমনী ও ফুসফুসের মধ্যে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীর মধ্যে গেঁথে আছে বুলেটটি। তাই হার্টলাং মেশিনের ব্যবস্থা করে প্রস্তুতি নেন চিকিৎসকরা। পরে দেখা যায়, গুলিটি রয়েছে ফুসফুস ভেদ করে ডান থাইমাসের মধ্যে। যার পরেই রয়েছে হৃৎপিণ্ড। বরাতজোরে রক্ষা পেয়েছে শিশুটি।

ডাঃ দেবজ্যোতি মণ্ডল বলেন, “গুলি শাহিদের বুকের ডানদিকে লাগে। গলার ঠিক নিচে দুটি পাঁজরের মাঝে শক্ত হাড়কে ‌(‌স্টারনাম) কেটে স্টারনোটমি করা হয়। তার পর ফুসফুসের ওপর যে আস্তরণ (প্লিউরা), সেটি খোলা হয়। খোঁজা‌‌ হয়, গুলি ঠিক কোন জায়গায়। দেখা যায়, হৃৎপিণ্ডের ওপরে যে আস্তরণ (‌পেরিকার্ডিয়াম)‌, তার ওপর রয়েছে থাইমাস। থাইমাসের মধ্যে ডানদিকে ঢুকে গেঁথে রয়েছে গুলিটি। শিশুদের সাধারণত থাইমাস বড় থাকে। তাই একটুর জন্য হৃৎপিণ্ডে ঢোকেনি। যে কারণে ৭ দিনেও সেভাবে বুঝতে পারেনি। ফুসফুস ভেদ করে থাইমাসের মধ্যে আটকে ছিল বলেই বেঁচে গেছে সাহিদ। তাই বড় কোনও অঘটন ঘটেনি। থাইমাসে লিম্ফোসাইট সেল থাকে। যেটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। গুলি বের করে ডান থাইমাস কেটে বাদ দিতে হয়। নইলে সংক্রমণ হয়ে যেত। ফুসফুসের ছিদ্রও সারানো হয়। অস্ত্রোপচারের আধ ঘণ্টা বাদেই দেওয়া হয় স্টেপ ডাউন ওয়ার্ডে। প্রয়োজন পড়েনি হার্টলাং মেশিন, ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন। স্বাভাবিকভাবেই শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছে। এখন ভাল আছে সাহিদ। শুক্রবার হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে সে।”

শাহিদের বাবা রবিউল ইসলাম মোল্লা ‌গ্রামেই ছোট্ট একটি মুদির দোকান চালান। শাহিদের চাচা সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‌কর্ক কিনতে গিয়ে এরকম ঘটনা ঘটবে, আমরা বুঝিনি। আল্লার দোয়ায় আজ আমার ভাইপো বেঁচে গেছে। হাসপাতালের ডাক্তাররাও ক্রিটিক্যাল কেস দেখে কোনও বিলম্ব করেননি। এখন অনেকটাই সুস্থ শাহিদ।’‌






মন্তব্য চালু নেই