মেইন ম্যেনু

বিক্ষোভের দিনে দুলুর পিকনিক পার্টি

সরকারপতন আন্দোলনে নামা নিয়ে দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপিতে যখন টান টান উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ঠিক সে সময়েই লালমনিরহাটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার বিক্ষোভ কর্মসূচির দিনে রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর নিজ জেলা শহরে পিকনিকের নামে সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে দেখা গেছে আনন্দ-ফূর্তিতে মেতে থাকতে।
বেলা ১১টার থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত লালমনিরহাট শহরের মিলিটারি ফার্মের ভেতরের পার্কে ‘আলোকিত লালমনি বনভোজন-২০১৪’ – ব্যানারে আয়োজন করা হয় বড়সর পিকনিকের। এতে অংশ নেয় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে শীর্ষ পর্যায়ের সহস্রাধিক নেতাকর্মী।
পিকনিকে অংশ নিতে প্রত্যেক নেতাকর্মীকে দুইশ’ টাকার বিনিময়ে টিকিট কিনতে হয়। লালমনিরহাটসহ জেলার বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীরা ১ হাজার ১শ’র বেশি টিকিট কিনেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা বলছেন, শুক্রবার বেগম জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার প্রতিবাদে সারাদেশ যখন উত্তাল ঠিক সে সময় পিকনিকের নামে নেতাকর্মীদের আনন্দ ফূর্তি মেনে নেয়া যায় না।
তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া যখন বিচারের কাঠ গোড়ায়, শতাধিক মামলা মাথায় নিয়ে সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন ফেরারি আসামি, লাখ লাখ নেতাকর্মী যখন ঘরবাড়ি ছাড়া, কেউ জেলখানায়, সারাদেশে যখন দলের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ, দল যখন বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে ঠিক সেসময় এ আনন্দ ফূর্তি সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের বলেন, চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে তৃণমূলের লাখ লাখ নেতাকর্মী আজ কঠিন বিপদের মুখোমুখি। এমন সময় রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও জেলা সভাপতি আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে এমন আনন্দ-ফূর্তি কোনোভাবেই দল মেনে নেবে না।
নেতাকর্মীরা আরো দাবি করেন, বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে রাজপথ দখলে রাখতে পারলেও নির্বাচনের পর কেন্দ্র ঘোষিত কোনো কর্মসূচি তেমনভাবে পালন করতে দেখা যায়নি লালমনিরহাট জেলা বিএনপিকে।
লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক পরিচালক জেলা বিএনপির এমন আয়োজনকে দলের সঙ্গে তামাশার শামিল বলে উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বনভোজন আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের কী করার আছে? এ জেলায় যা কিছু হয় সবই নেতার (দুলুর) নির্দেশেই হয়।’






মন্তব্য চালু নেই