মেইন ম্যেনু

ভারত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর

বিএনপির ‘লম্ফঝম্ফে’ পাত্তা দিচ্ছে না আ.লীগ

ভারত পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ঢাকা আসছেন বুধবার। আর এ সফর নিয়ে ব্যস্ত বাংলাদেশের বড়-ছোট সব রাজনৈতিক দলগুলো। তবে বিএনপি সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরের ফসল নিজেদের ঘরে তুলতে চায়। দলের নেতারা মনে করছেন সুষমার এ সফরে বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন মেরুকরণ হবে। আর এতে লাভবান হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।

অবশ্য বিএনপির এ ‘লম্ফঝম্ফে’ পাত্তা দিচ্ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা মনে করছেন, বিএনপি কেন কোনো দলই চাপ দিয়ে নির্বাচন আদায় করতে পারবে না। কারণ শেখ হাসিনা সরকারকে চাপ দিয়ে কিছুই করানো সম্ভব নয়। আর এ বিষয়টি ভালো করেই জানে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফর নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা হলে তারা এমনটাই জানান।

সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরে আওয়ামী লীগের কী পরিকল্পনা তা জানতে চাইলে দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ঢাকা আসছেন, আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। ভারতের কাছে বাংলাদেশ যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র তা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরই প্রমাণ করে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কিছু দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছিল সেগুলো বাস্তবায়ন করাই আমাদের লক্ষ্য। এছাড়া অমিমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হবে। দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তি কিংবা আলোচনা তার সঙ্গে হবে না।’

এদিকে বিএনপির একটি নির্ভরশীল সূত্রে জানা যায়, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফর নিয়ে দলটি ইতোমধ্যে বেশকিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে- ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন, বিরোধী দলের প্রতি সরকারের দমন-পীড়ন নীতি, দেশব্যাপী সরকারি দলের সন্ত্রাস নৈরাজ্য, একটি বিশেষ বাহিনীকে দিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী গুম-অপহরণসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা। সর্বোপরি সব দলের অংশগ্রহণে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার জন্য সরকারকে ভারতের পক্ষে থেকে যেন চাপ সৃষ্টি করা হয়, সেই লক্ষ্যে সমর্থন আদায়ের বিষয়টি তুলে ধরবে বিএনপি।

তবে এ বিষয়ে কর্নেল মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে চাপ দিয়ে কিছু করানো সম্ভব নয়। এটা ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ সবাই জানে। বিএনপি ভারতকে দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে শেখ হাসিনার কাছ থেকে নির্বাচন আদায় করতে পারবে, এমনটি যদি মনে করে থাকে তাহলে আমি বলবো তারা বোকার স্বর্গে বাস করে। কারণ ভারতও জানে নির্বাচন বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসছে এতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরো বেশি জোরদার হবে। সুষমা স্বরাজের এ সফরে দুই দেশের অমিমাংসিত বিষয়গুলোর একটা সমধান হবে বলে আমি আশা করি।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সময় মতো হবে। অর্থাৎ ২০১৯ সালেই নির্বাচন হবে। যে যাই বলুক, এর আগে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচনও হবে শেখ হাসিনার অধীনে।’

প্রসঙ্গত, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি যখন বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন তখন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎ না দেয়ায় একটা বৈরি সম্পর্ক তৈরি হয় কংগ্রেসের সঙ্গে। তা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিএনপি। তবে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকায় এবার বিএনপি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ চায়।

সেই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তিন দিনের শুভেচ্ছা সফরে ঢাকায় আসছেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

সেই সঙ্গে ২৭ জুন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করবেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল জানান।

এদিকে বিজেপির নেতৃত্বে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটি হবে সুষমা স্বরাজের প্রথম বিদেশ সফর।






মন্তব্য চালু নেই