মেইন ম্যেনু

‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান’

রাজশাহী : ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান/ আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান।’ বর্ষা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের এ আবেগময়, প্রেমসিক্ত গান শুধু বাঙালিদের জন্যই প্রযোজ্য। বর্ষাবিহীন বাংলাদেশ ভাবাই যায় না।

পুষ্পে পুষ্পে-বৃক্ষে বৃক্ষে নতুন প্রাণের নতুন গানের সুর নিয়ে ঋতু রানী বর্ষার সমাগত।, গুরুগম্ভীর বৃষ্টির কথা। রোমান্টিক ঋতু বর্ষাকাল এবং এই ঋতু বাঙালির একান্ত নিজস্ব। ‘বর্ষণমুখর সন্ধ্যা বা বৃষ্টিভেজা রাত বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও মিলবে না। গ্রীষ্মের অগ্নিঝরা দিনগুলো যখন প্রকৃতিকে করে বিবর্ণ শুষ্ক এবং জনজীবনকে করে অসহনীয় তখনই বর্ষা রিমঝিম বৃষ্টি ঝরিয়ে প্রকৃতিকে করে সজীব।

বৃষ্টির রিমঝিম ছন্দে, প্রেমিকের মনে সুর খেলে যায়। প্রেমিক হৃদয় গেয়ে ওঠে, ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে, জানি নে জানি নে, কিছুতে কেন যে মন লাগে না।’ সুরহীন প্রাণকেও সুরের মূর্ছনায় ছুঁয়ে যায় এ বর্ষা।

এরই মধ্যে রাজশাহী মহানগরীর, হাদির মোড়, পঞ্চপটি, রাবি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, তালাইমারি, খড়খড়ি বাইপাস এলাকা ও বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন এলাকা কদম ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। তার ফুলের রঙ সুবাশ ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রকৃতিতে।

গাছে গাছে সবুজ পাতার আড়ালে ফুটে আছে কদম ফুলগুলো, ইচ্ছে করে তার কাছ থেকে বড় বড় সবুজ পাতার মধ্যখানে হলুদ শাড়ির ওপর আবার সাদা সাদা রঙের কাজ করা কদম ফুল উপহার পেতে। বর্ষায় এর চেয়ে দামি উপহার আর হয় না।

বর্ষার এই শীতল আবহাওয়ায় গাছে গাছে কদম ফুলের সমারোহ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। বর্ষার প্রথম মাস আষাঢ়ের অগ্রদূত কদমফুল। কদমফুল আষাঢ়কে স্বাগত জানায়। বর্ষার আগেই গাছে গাছে কদমফুল ফুঠেছে। বৃষ্টির শীতল ধারায় স্নান করে সিগ্ধ হয় প্রকৃতি।

কদমফুলের মতো মেঘ-বিজলি তাদের কথা রাখতে পারেনি। আগেকার দিনের আষাঢ়ে আকাশে মেঘে গুড়গুড় শব্দ ছিল। ছিল মেঘের সঙ্গে চমকানো বিজলি। বিজলির চমকানিতে মুহূর্তেই গ্রামকে গ্রাম আলো হয়ে যেত। আষাঢ় মাসে শুধু কদমই নয়, আরো ফোটে শাপলা, পদ্ম। আষাঢ়ের একটানা বর্ষণে খাল-বিলে পানি থইথই করত। আর সেই পানিতে সাদা শাপলাগুলো ফুটে থাকে। মনে হতো যেন খাল-বিলগুলো সাদা শাড়ি পরে আছে। অপরূপ মনোরম এই দৃশ্য অবশ্য গ্রামে না গেলে উপভোগ করা যায় না।






মন্তব্য চালু নেই