মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশে সালাহ উদ্দিনের পরিণতি কি হবে, উদ্বিগ্ন পরিবার

বাংলাদেশে ফিরে আসলে কি পরিণতি হবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের-এ নিয়ে ভাবনার শেষ নেই তার পরিবার-আত্মীয় স্বজনদের। সালাহ উদ্দিনের বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন আহমেদ গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে বলছিলেন, দেশে ফিরে আসলে তার ভাই নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়বে।

বিএনপির প্রতিও অভিযোগ তুলছেন সালাহ উদ্দিনের বড় ভাই, ‘সালাহ উদ্দিনের সঙ্কটময় মুহুর্তে বিএনপির সিনিয়র নেতারা, যারা আগে তার পাশে ছিল, কিন্তু এখন তারাও তার সঠিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা করছেনা। আমরা শঙ্কিত যে, দেশে ফিরলেই সালাহ উদ্দিনকে জেলে পাঠাবে সরকার। সেখানে সে সঠিক চিকিৎসার অভাবে ভুগবে।’

একটি জাতীয় পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাৎকারে ভাই সালাহ উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে এসব শঙ্কার কথা বলেন বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ তার স্বামীর বিষয়ে ভীত-স্বন্ত্রস্ত বলে জানান তিনি। হাসিনা আহমেদের বরাত দিয়ে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে আসলেই তার স্বামী সরকারের বিষেদাগার চোখে পড়বে। তাই বাংলাদেশে সালাহ উদ্দিনের নিরাপত্তা প্রশ্নে উদ্বিগ্ন পরিবারের সকলেই।’

এমন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আপাতত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কোন চিন্তা-ভাবনা নেই সালাহ উদ্দিনের পরিবার। তার আগে বিএনপির এই শীর্ষ নেতার সঠিক চিকিৎসা দরকার বলে মনে করছেন তারা।

‘আদালত অনুমতি দিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সালাহ উদ্দিনকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাই।’ সেখানে তিনি এর আগেও কয়েকবার চিকিৎসা নিয়েছেন বলে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালকেই বেছে নিচ্ছেন পরিবারের লোকজন এমনটাও জানান পরিবারের লোকজন।

এদিকে, সালাহ উদ্দিনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই তার স্বামীকে পুলিশের হাতে তুলে না দিতে শিলংয়ের বিশেষায়িত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও জানিয়েছেন স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

এ বিষয়ে ‘নেগ্রিমস’ (যে হাসাপাতলে ভর্তি রায়েছেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ) হাসপাতালের মেডিকেল সুপারইন্টেনডেন্ট ড. ভাস্কর জানান, ‘যেহেতেু সালাহ উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে হার্ট এবং কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছেন তার এখন পর্যাপ্ত চিকিৎসা দরকার। আর এর জন্য তার স্ত্রী সালাহ উদ্দিনকে তৃতীয় কোন দেশে চিকিৎসা করাতে চান।’

ড. ভাস্কর জানান, ‘সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ইতিমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যে, সালাহ উদ্দিনকে যেন পুলিশের কাছে তুলে না দেয়া হয়। কারণ পুলিশের কাছে গেলে তার চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যহত হতে পারে বলে হাসিনা আহমেদ উদ্বেগ জানিয়েছেন।’

দীর্ঘ দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর গত ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের রাস্তায় রহস্যজনকভাবে সন্ধান মিলে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিবের। গত ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরার নিজ বাসা থেকে তাকে অপহরণ করা হয় বলে সালাহ উদ্দিন এবং তার পরিবারের দাবি।

তাকে গ্রেফতারের পর শিলং পুলিশ বলেছে, রাস্তায় রহস্যজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে থাকায় একজন বাংলাদেশি রাজনীতিককে আটক করা হয় গত ১১ মে। পর দিন শিলংয়ের স্থানীয় পত্রিকায় এ সম্পর্কে খবর প্রকাশিত হলে সীমান্তের এপারে বাংলাদেশেও হইচই পড়ে যায়।

তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় সালাহ উদ্দিন আহমেদকে স্থানীয় একটি মানসিক হাসপাতলে ভর্তি করে শিলং পুলিশ। পরে সেখান থেকে গত ২০ মে তাকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নেগ্রিমস হাসাপাতলে স্থানান্তর করা হয়। এখন পর্যন্ত সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ।

অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করায় আদালতে তার নামে মামলাও করেছ পুলিশ। সালাহ উদ্দিনকে আগামী ২৯ মে নির্ধারিত জামিন আবেদনের শুনানীর দিন আদালতে হাজির করার করা হবে বলে শিলং নগর পুলিশ।

এদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ইতিমধ্যে বলেছেন, দেশে ফেরা মাত্রই তাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে। বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল-অবরোধে গাড়ি পোড়ানো, হামলা, নাশকতার মামলায় তার বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।






মন্তব্য চালু নেই