মেইন ম্যেনু

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের ৩২ কিলোমিটার এখন ঝুঁকিপূর্ণ : বাড়ছে দুর্ঘটনা

বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের ৩২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এই সড়কে দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা নৈমিত্তিক ব্যাপার। সেতুর পশ্চিম প্রান্তের ১৭ কিলোমিটার এবং পূর্ব প্রান্তের ১৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক জুড়ে সংঘটিত দুর্ঘটনা দেশের দুর্ঘটনা প্রবণ যে কোন মহাসড়কের সব পরিসংখ্যানকে ছাড়িয়ে যাবে। প্রায় প্রতিদিন এ সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে বিপদজনক এই সড়কটি এখন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল, নিয়ম না মেনে হুটহাট ওভারটেক, চালকদের অসাবধানতাসহ নানা কারণে ঘটছে একই দুর্ঘটনা। এ সড়কটি ৪ লেনে উন্নীত ও রোড ডিভাইডার স্থাপন করলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে বলে গাড়ীচালক, পুলিশ প্রশাসন ও মালিক-শ্রমিক নেতারা দাবী করেছেন।

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম এলাকা থেকে নলকা পর্যন্ত মহাসড়কটি ৪ লেনের দাবি দীর্ঘ দিনের। যোগাযোগ ও পরর্বতী সময়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যতবার সিরাজগঞ্জে এসেছেন ততবারই ৪ কিলোমিটার মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেনে। কিন্তু এখনও সে কাজ শুরু হয়নি। স্থানীয়রা জানান, ৪ লেনে উন্নীত না হওয়ায় একই স্থানে সড়ক র্দুঘটনা বাড়ছে।

সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের কড্ডার মোড় পুলিশ ফাঁড়ির এক হিসাব মতে এই সড়ক দিয়ে প্রতি মিনিটে গড়ে ২৬টি যানবাহন চলাচল করে। তাতে সড়কের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী ৪ গুণ বেশী গাড়ী চলাচল করছে। অতিরিক্ত গাড়ী চলাচল ও দুর্ঘটনার অন্যতম একটি কারণ। যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এই সংযোগ সড়কে অন্তত এক হাজার দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় সব মিলিয়ে সাড়ে ১৫শ’ নারী, পুরুষ, শিশু নিহত হয়েছে। আহত অন্তত ২ হাজার মানুষ। তবে সরকারের হিসাবে এ সংখ্যা অনেক কম। চলতি মাসে এই সড়কে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে অন্তত ২০ জন।

সূত্র মতে, যমুনা সেতুর পূর্ব এবং পশ্চিমে থানা স্থাপিত হওয়ার আগে এসব এলাকা টাঙ্গাইল এবং সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন থানার অংশ ছিল। যে কারণে দুর্ঘটনায় হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান পুলিশের কাছে নেই। এছাড়া দুর্ঘটনায় নিহত হলেও থানায় মামলা দায়ের করা হয়নি এমন ঘটনার সংখ্যাও অনেক। সড়ক জুড়ে নেই কোন সিগন্যাল লাইট কিংবা পারাপারের জন্য কোন জেব্রা ক্রসিং। এর পাশাপাশি চলাচলকারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের ট্রাফিক ব্যবস্থাও অপ্রতুল। সয়দাবাদ, কড্ডার মোড়, সদানন্দপুর, সিরাজগঞ্জ রোড, নলকা এলাকায় গুটি কয়েক ট্রাফিককে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও তারা দায়িত্ব পালনের চেয়ে যানবাহন চালকদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণে বেশী ব্যস্ত থাকেন এমন অভিযোগ জোরালো।

১৯৯৮ সালের ২৩ জুন যমুনা সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর তা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। এক সময়ে উত্তরবঙ্গ-ঢাকা চলাচলকারী সব যানবাহন আরিচা-নগরবাড়ী ফেরী দিয়ে পারাপার হতো। সেতু চালুর পর থেকে উত্তরাঞ্চল-দক্ষিণাঞ্চল গামী সকল যানবাহন এই রুটকে বেছে নেয়। যে কারণে উত্তরপদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী এই সড়কটি এখন অন্যতম ব্যস্ত সড়কে পরিণত হয়েছে। কিন্তু চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা অনুপাতে প্রয়োজনীয় সিগন্যাল পদ্ধতি, স্পিড ব্রেকার ও অপ্রতুল। ট্রাফিক ব্যবস্থার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়শ’।

৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সংযোগ সড়কের প্রশস্ততা বেশী হলেও মাঝখানে নেই কোন রোড ডিভাইডার। যে কারণে সেতু পার হয়েই যানবাহন চালকরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে বেপরোয়াভাবে গাড়ী চালাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অন্য গাড়ীকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীতমুখী যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ বাঁধে। এমনকি যমুনা সেতুর উপর দিয়ে একইভাবে যানবাহন চলাচল করছে।

সেতুর দুইপ্রান্তে ওজন স্টেশনের ব্যবস্থা থাকলেও গাড়ীর গতি নিয়ন্ত্রনে কোন ব্যবস্থা নেই। এছাড়া মহাসড়কের পাশাপাশি ঘনবসতি এবং হাট-বাজার সংলগ্ন এলাকায় স্পিড ব্রেকার না থাকায় পথচারী চাপা পড়ার ঘটনা বেড়ে চলেছে।

বর্তমানে পশ্চিম সংযোগ সড়কটি থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার সদরের দূরত্ব অন্তত ১১ কিলোমিটার। যে কারণে দুর্ঘটনার খবর সঠিক সময়ে হাসপাতালসহ জেলা সদরে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তাছাড়া সংযোগ সড়কের আশেপাশে কোন হাসপাতাল না থাকায় দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক আহত যাত্রী হাসপাতালে নেয়ার পথেই মারা যান।

এই সংযোগ সড়কে দুর্ঘটনার কবলিত যাত্রীদের দ্রুত চিকিৎসার নিশ্চয়তা প্রদানের লক্ষ্যে কড্ডার মোড়ে ট্রমা হাসপাতাল নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন দুর্ঘটনা কবলিত আহত যাত্রীরা। সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে দুর্ঘটনা কবলিতদের চিকিৎসার জন্য ট্রমা হাসপাতাল নির্মাণ করলে তা কোন কাজে আসছে না। দূরত্বের কারণে যাত্রীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে আহতদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েই চলছে। বর্তমানে ট্রামা হাসপাতালে কয়েকটি কক্ষে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাস করানো হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে কোনাবাড়ী, সিমান্ত বাজার, ও বাগবাড়ী এলাকায়। কোনাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-ঈশ্বরদী রেলপথ হওয়ায় এখানে রয়েছে সুবিস্তৃত একটি ফ্লাইওভার। এই ফ্লাইওভারের কারণে যানবাহনগুলো দূর থেকে দেখতে পান না চালকরা। যে কারণে এই ওভার ব্রীজের কাছেই ঘটছে বেশী দুর্ঘটনা।

সিরাজগঞ্জ কড্ডা-শাহজাদপুর জোনের ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর গোলাম কিবরিয়া জানান, কোণাবাড়ি ও সিমান্ত বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হচ্ছে বাঁকানো রাস্তা। তার পাশেই ৬ নং ব্রীজ। এই ব্রীজটি সংকীর্ণ। একি সাথে ২টির বেশি গাড়ি যাতায়াত করতে পারে না। যখনি ৩টি গাড়ী যাওয়ার চেষ্টা করে কখনি দুর্ঘটনা ঘটে। এজন্য ড্রাইভারদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন ১২টি কারণে এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। ইতিপূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়েছিলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। সড়কের ধারে হাট বাজার বন্ধ, গাড়ীর গতি নিয়ন্ত্রণ, ফ্লাইওভার ও ডিভাইডার নির্মাণ করা হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা হ্রাস পাবে। এই কাজগুলো করা অতি জরুরী।






মন্তব্য চালু নেই