মেইন ম্যেনু

ফেরাউনের অকালমৃত্যুর নেপথ্যে অজাচার

প্রাচীন মিশরের সবচেয়ে বিখ্যাত ফেরাউন তুতেনখামেন ছিলেন অজাচারের ফসল। অর্থাৎ তারা বাবা-মা ছিলেন আপন ভাই-বোন। আর মাত্র ১৯ বছর বয়সে তার মৃত্যুর প্রধান কারণ এই রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষার নামে অজাচার।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা তুতেনখামেনের মমি এবং ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বিচার করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

এই বালক রাজার অকালমৃত্যু নিয়ে এ যাবৎকালে নানা তত্ত্ব, গল্প তৈরি হয়েছে। তবে সম্প্রতি নির্মিত একটি তথ্যচিত্রে বিতর্কটির একটি জবাব দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তুতেনখামেনের অল্প বয়সে মৃত্যুর কারণটিও সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

প্রথমে তুতেনখামেনের মমির ওপর নির্ভর করে দুই হাজার কম্পিটারাইজড সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। এতে তার বৈজ্ঞানিকভাবে নিখুঁত একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়ব পাওয়া গেছে।

এরপর মমি থেকে সংগৃহিত ডিএনএ টেস্ট করে তার বাবা-মাকে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অবশ্য এতে যা পাওয়া গেছে তা তার দাদা-দাদী বা নানা-নানীর বৈশিষ্ট্যও হতে পারে।

তবে তৎকালীন মিশরীয় বিশ্বাস ও সংস্কার বিবেচনা করলে তুতেনখামেন যে আপন ভাই-বোনের যৌন সম্পর্কের ফসল তা অনেকখানি নিশ্চিত হওয়া যায়।

মিশরীয়দের বিশ্বাস রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে হলে রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষিত হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক বিবেচনায় আসলে ঘটে উল্টোটা। পরবর্তী প্রজন্মের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না।

মমি স্ক্যান ও সিটি স্ক্যানের ফলে তুতেনখামেনের যে পূর্ণাঙ্গ অবয়ব পাওয়া গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, এই বালক রাজার শরীরের গঠন ছিল উঁচু মাড়ি, রমনীয় নিতম্ব এবং ভাঁজ হয়ে যাওয়া পা।

এছাড়া তার অস্বাভাবিক বড় স্তন সে তার বাবা এবং চাচাদের কাছ থেকে পেয়েছে বলেই ধারণা করা হয়। অর্থাৎ এই শারীরিক কাঠামোর অসঙ্গতি নিয়ে জন্ম নেয়ার বালক রাজা তুতেনখামেন অকালে মারা যাওয়ার অন্যতম কারণ মিশরীয়দের রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষার সংস্কার।

এর আগে বিশ্বাস করা হতো, রাজা তুতেনখামেন একটি রথ দুর্ঘটনায় নিহত হন অথবা তাকে খুন করা হয়। তবে গবেষকরা এই ধারণাকে উড়িয়ে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, তুতেনখামেন ১৩৩৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মাত্র ১০ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহন করে। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মাত্র নয় বছর তৎকালীন মিশর শাসন করে সে।

বংশগতি বিদ্যায় এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের মধ্যে যৌন সম্পর্কের ফলে সৃষ্ট সন্তান নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্ম নিতে পারে। এখানে বাবা-মার প্রচ্ছন্ন নেতিবাচক বৈশিষ্টগুলো সন্তানের মধ্যে প্রকট হতে পারে।






মন্তব্য চালু নেই