মেইন ম্যেনু

ফতোয়া হেফাজতের, বাস্তবায়নে আ.লীগ সরকার

‘তেতুল হুজুরের’ ফতোয়াকে বাস্তবে রূপ দেয়ার লক্ষ্যেই সরকার বিয়ের বয়স কমানোর পাঁয়তারা করছে। হেফাজতের সঙ্গে আঁতাত করেই সরকার এ ধরনের সমাজ বিধ্বংসী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

রোববার বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪-এর খসড়ায় নারীর বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করার সুপারিশ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নারী সেলের সংবাদ সম্মেলনে নারী নেত্রী মাকসুদা আক্তার এ কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, ‘সরকার একদিকে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আঁতাত করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে, অন্যদিকে নারীদের অগ্রযাত্রাকে অবরুদ্ধ করে রাখার জন্য হেফাজত ইসলামের আদর্শ গ্রহণ করে এ ধরনের সুপারিশ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এই পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় নারীকে করা হয়েছে ভোগের বস্তু। দেশের হাজার হাজার নারী ঘর থেকে যখন বেরিয়ে এসে কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখছে, তখনই সরকার তাদের ঘরের কোণে আটকে রাখার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘নারীদের ১৬ বছরে শারীরিক মানসিক পূর্ণতা লাভ করে না। আমাদের এই সমাজে যেখানে নারীরা সঠিকভাবে দুবেলা দুমুঠো খেতে পায় না, সেখানে নারীর পুষ্টি নিয়ে চিন্তা তো অনেক দূরের বিষয়। বর্তমান সময়ে যেখানে হাজার হাজার অন্তঃসত্ত্বা মা অপুষ্টিতে ভুগছে, সেখানে নতুন করে এই সিদ্ধান্ত দেশের জন্য আত্মঘাতী হবে বলে আমরা মনে করি। এই বিধান চালু করলে আগামী ২০ বছর পর আমাদের এই জাতি একটি অপুষ্টির জাতিতে পরিণত হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশ সামনে দিকে এগিয়ে যাবে কি, আরো পেছনের দিকে ফিরে যাচ্ছে। সরকার যদি এই আইনটি নিয়ে আলোচনা না করে তাহলে সকল সমাজের নারীদের সঙ্গে নিয়ে আমরা রাজপথেই এর সঠিক জবাব দেবো।’

বক্তারা আরো বলেন, ‘যে সমাজে একজন পুরুষ সঠিকভাবে উপার্জনক্ষম হয় ৩০ বছরে সে সমাজে বিয়ের বয়স যদি পুরুষের ১৮ বছর করা হয়, তবে সেই সমাজ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে কীভাবে।’

এছাড়া একজন নারী ১৬ বছরে সঠিকভাবে বিকাশ লাভ করে না। ১৬ বছরের একজন কিশোরী নারীকে যদি বিয়ে দিয়ে সংসারের বোঝা মাথায় চাপিয়ে দেয়া হয়, তাহলে সেই নারী আর কোনোদিনই বিকশিত হতে পারবে না।’

প্রাথমিকভাবে ৬৮টি সংগঠন এরই মধ্যে সরকারের এ উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে বলে জানান বক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মী চক্রবর্তী, রাশেদা কুদ্দস রানু, লানা নুর, সাজেদুল ইসলাম রুবেল, আব্দুল কাদের প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই