মেইন ম্যেনু

প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই আগামী নির্বাচন চায় আ’লীগ

আগামী নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। মূলত এ প্রশ্নেই মতবিরোধ থাকায় সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়নি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। তবে নিবন্ধন টিকিয়ে রাখতে ২০১৯ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বর্তমান সরকারকে বৈধকা দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে দলটিতে মতবিরোধ রয়েছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন বিকল্প সহায়ক সরকারের প্রস্তাব বিবেচনা করছে দলটি। কিন্তু বিএনপির এমন পরিকল্পনায় আগ্রহ নেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। সহায়ক সরকার নয়; বরং সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই আগামী নির্বাচনে যেতে চায় দলটি।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সংসদীয় সরকারের মতই প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন হবে। এর কোনো বিকল্প হবে না ২০১৯ সালের নির্বাচনে।

তারা বলছেন, বিএনপির তুলনায় বর্তমানে সবক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ। ফরে প্রধান বিরোধী দলটির সাথে কোনো আপসে যেতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বেকায়দায় থাকা বিএনপি নানা দাবি তুললেও নিবন্ধন বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই নির্বাচনে আসবে বলে ধারণা করছেন তারা।

সম্প্রতি বিভিন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু দাবি করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বর্তমান সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। নারায়াণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে চান।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন জানিয়েছেন, সংবিধানের বাইরে গিয়ে আওয়ামী লীগ কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।

তিনি বলেন, ‘সংবিধান ও আওয়ামী লীগের ভাষা অভিন্ন। সংবিধানকে উপেক্ষা করা আমাদের চরিত্র নয়। আমাদের দায়িত্ব সংবিধানকে সমুন্নত রাখা।’

বিএনপির ‘বিকল্প’ ভাবনার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘সংবিধানকে যারা লংঘন করেছে, যারা ক্ষতবিক্ষত করে, অতীতে যারা সংবিধানকে পিষ্ট করে ক্ষমতায় এসে দল গঠন করেছে; সেই বিএনপির দ্বারাই সংবিধানকে উপেক্ষা করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘তারা সংবিধানকে উপেক্ষা করে বলেই, লংঘন করে বলেই; ভিন্ন পথে ক্ষমতায় যাওয়ার পায়তারা করছে।’

নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে জানতে চাইলে আহমদ হোসেন বলেন, ‘সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে, সংবিধানের নির্ধারিত ব্যবস্থা অনুযায়ী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই নির্বাচনকালীন সরকার হবে। তিনিই বিভিন্ন দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করে সরকার পরিচালনা করবেন। সেই সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে; সেটিই হবে নির্বাচনকালীন বা সহায়ক সরকার।’

এদিকে সম্প্রতি এক আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও।

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই হবে। তিনি যাদের নিয়ে চাইবেন, তাদের নিয়েই নির্বাচনকালীন সরকার হব। আর সে সরকারের অধীনেই ২০১৯ সালের নির্বাচন হবে।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এ সদস্য আরো বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এভাবেই নির্বাচনের প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশেও তাই হবে। আশা করছি, বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের রায় মেনে নিবে।’






মন্তব্য চালু নেই