মেইন ম্যেনু

নেইমারের চোট নিয়ে আশঙ্কা কাটিয়ে আশা

দিলীপ মজুমদার (কলকাতা): মাত্র দু’দিন পরেই দীর্ঘ চৌষট্টি বছরের অপেক্ষা শেষে নিজের দেশে বিশ্বকাপ ফুটবলের শুরু। উদ্বোধনী ম্যাচেই ঘরের মাঠে নামবে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর তার আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে কি না বিশ্ব জোড়া কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থকের হৃদপিণ্ড অজানা আশঙ্কায় গলায় উঠে আসার জোগাড়!

কারণ, স্কোলারির দলের প্র্যাকটিসে নেইমার গোড়ালিতে চোট পেয়ে বসলেন!

সঙ্গে সঙ্গে জল্পনা, ব্রাজিলের নতুন তুরুপের তাস কি বৃহস্পতিবার ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে ব্যবহারের সুযোগ পাবেন কোচ স্কোলারি। নেইমার কি প্রথম ম্যাচের আগে পুরো ফিট হয়ে উঠবেন?

রিও দে জেনেইরোর উপকন্ঠে টিম ব্রাজিল যেখানে ঘাঁটি গেড়েছে, সেখানে এ দিন দলের ট্রেনিং সেশনে বার্সেলোনার মহাতারকা গোড়ালি মচকে এমন ভাবে পড়ে যান যে, মাঠেই টিম ডাক্তারকে পড়িমরি ছুটে আসতে হয়, শুশ্রূষা করতে। যদিও কয়েক মিনিট যন্ত্রণায় ছটফট করার পর নেইমার নিজেই উঠে দাঁড়াতে সমর্থ হন। এবং শেষ পর্যন্ত অল্প খোড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে সটান ড্রেসিংরুমে চলে যান। যা দেখে ব্রাজিল সমর্থককুল খানিকটা আশ্বস্ত যে, সেলেকাওদের এক নম্বর প্লেয়ার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে ফিট হয়ে উঠতে পারবেন।

ব্রাজিল ফুটবলমহলকে আরও আশ্বস্ত করে নেইমার কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ফের মাঠে ফিরে আসেন। তবে স্বভাবতই ট্রেনিংয়ে আর যোগ দেননি। তবে এ বারের বিশ্বকাপের পোস্টার-বয়ের শরীরীভাষায় ধরা পড়ছিল, বাইশ বছরের তরুণ তাঁর প্রথম বিশ্বকাপে শুরু থেকেই মাঠে থাকতে বদ্ধপরিকর। এবং বিকেলের প্র্যাকটিসে সত্যিই নেইমারকে দেখা যায়, মাঠে তো হাজির বটেই, এমনকী গোটা কয়েক ফ্রি-কিকও মারেন তিনি। কোচ স্কোলারিও এ দিনের ট্রেনিংয়ে দলের রক্ষণ বিভাগের দিকে বাড়তি লক্ষ্য দেওয়ার পাশাপাশি বলে দিয়েছেন, “নেইমারই আমাদের সেরা অস্ত্র এটা নিয়ে কোনও দ্বিমত থাকতে পারে না। ওকে ছাড়া দল গড়ার কথা ভাবছি না।”

আহত নেইমার খোঁড়ালেও স্কোলারির অন্য ফরোয়ার্ডরা এ দিনের প্র্যাকটিসে প্রচুর ফ্রি-কিক, কর্নার কিকের মতো ডেডবল সিচুয়েশন এবং ওয়ান-টু-ওয়ান আক্রমণ তৈরি করেন। অস্কারকে ডান দিকে নতুন পজিশনে খেলিয়ে দেখা যায় ভালই মুভ করছেন। হাল্ক বাঁ-দিকে খেললেন ম্যাচ সিচুয়েশন প্র্যাকটিসে। অনুশীলনে গোটা ফর্মেশনটাকে যথেষ্ট কার্যকর দেখিয়েছে। অস্কারের পাস থেকে হাল্ক একটা দুর্দান্ত গোল করেন। পওলিনহোর পাস থেকে ফ্রেড গোল করার পর কর্নার থেকে দাভিদ লুইজ আর একটা গোল দেন। ডিফেন্সের শক্তি যাচাই করতে স্কোলারি দলের বেসক্যাম্প ফ্লুমিনেন্স-এর দুই তরুণ ফুটবলার ২১ বছরের কার্ভালো আর ১৭ বছরের রবার্টকেও প্র্যাকটিসে নামিয়ে দিয়েছিলেন।

পরে স্কোলারি বলেছেন, “যদি আমরা গোল না খাই তা হলে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে। কারণ আমাদের অ্যাটাকিং লাইন কী প্রচণ্ড শক্তিশালী সেটা সবাই জানে।” ব্রাজিল শেষ গোল খেয়েছে গত নভেম্বরে চিলির বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে। “আমাদের ডিফেন্স যদি ভুল না করে তা হলে এই বিশ্বকাপে ব্রাজিল পারফেক্ট টিম হয়ে উঠবে,” বলেছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী কোচ স্কোলারি।






মন্তব্য চালু নেই