মেইন ম্যেনু

সাত খুনের রায়ে উল্লসিত নারায়ণগঞ্জবাসী

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর চাঞ্চল্যকর সাত খুনের রায়ে উল্লসিত নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ। সাত খুনে জড়িতদের বিরুদ্ধে রায়ের দ্রুত কার্যকর চায় তারা। সোমবার সকালে রায় হবে এমন সংবাদে আদালত চত্বরের সামনে অবস্থান নেয় হাজারো মানুষ। রায়ের সংবাদে উল্লাস প্রকাশ করেন তারা।

আবু বকর নামে এক আইনজীবী বলেন, সাত খুনের রায় হওয়াটা নারায়ণগঞ্জ আদালতের আইনজীবীদের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। সত্যের জয় হয়, এই রায় সেটাই প্রমাণ করে।

এসময় পাশ দিয়ে আইনজীবীদের স্লোগান শোনা যায়, ‘এই মাত্র খবর এলো নুর হোসেনের ফাঁসি হলো।’

‘পাশেই শোনা যায়, নজরুল ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না। ইব্রাহিমের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না।’

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানাধীন এলাকা থেকে আগত কায়সার আলী জানান, সাতজন মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যার পর অনেকে পালিয়েছে। নূর হোসেনের মতো লোকও পালিয়েছিল। কিন্তু সত্যের জয় চিরন্তন। সেটার প্রমাণ আজকের এ রায়। তবে যতো দ্রুত সম্ভব এ রায়ের কার্যকর চান তিনি।

নিহত চন্দন বাবুর গাড়িচালক ইব্রাহিমের ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্র রনি জানান, বাবার মৃত্যুর পরে দিন অনেক খারাপ গেছে। অনেক দিন নিরবে কেঁদেছি। শুনতে হয়েছে হত্যাকারীদের কিছুই হবে না। আজ আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। বাবার হত্যাকারীদের দ্রুত শাস্তির নিশ্চিতের জন্য রায় কার্যকর চান বাবা হারা সন্তান।

মুদি ব্যবসায়ী, ছাত্র শিক্ষক, আইনজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তুষ্টির হাসি দেখা গেছে। রায়ের পর কিংবা আগে আদালত চত্বরে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী ও আত্মীয়-স্বজনদের দেখা যায়নি।

আলোচিত সাত খুন মামলায় সোমবার সকাল ১০টায় ২৬ জনের ফাঁসি ও অন্য ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির রায় দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমানী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন।

পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। অপর মামলার বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি।

দুটি মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এতে দুটি মামলায় সাক্ষী করা হয় ১২৭ জন করে।






মন্তব্য চালু নেই