মেইন ম্যেনু

নিজামীর কথা রাখল না জামায়াত-শিবির

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দলের আমির মতিউর রহমান নিজামীর কথা রাখলেন না জামায়াত-শিবির কর্মীরা। নিজামী নিজেই তার আইনজীবীদের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের অনুরোধ করেছিলেন, ‘রায় যা-ই হোক তার প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না।’ তবে তার ফাঁসির রায় ঘোষণার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নাশকতা করেছে জামায়াত-শিবির।

রায়ের আগে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নিজামী বলেন, তারা যেন কোনো ধরনের নাশকতা না করেন। তারা যেন শান্ত থাকেন।

কারাগারে যাওয়ার আগে আইনজীবী তাজুল ইসলামকে এ কথা বলে যান নিজামী। তাজুল ইসলাম দলের দায়িত্বশীল নেতাকে এ কথা জানান।

বুধবার মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় ঘোষণার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তিন দিনের হরতালের ডাক দেয় জামায়াত-শিবির। তবে বিকেল ৫টার মধ্যে দলের পক্ষ থেকে নিজামীর বার্তা মোবাইল ফোনে মেসেজের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয়।

জামায়াতের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলেন, ‘হরতালের আগের দিন আগের মতো জনগণকে কোনো ধরনের কষ্ট দেওয়া হবে না। তবে হরতাল শুরুর মুহূর্তে বিক্ষোভ মিছিল হতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রেও নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকতে বলা হয়েছে। গাড়ি ভাঙচুরের মতো কোনো কর্মসূচি এবারের হরতালে নেই।’

তবে জামায়াতের এ বক্তব্যের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডের মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বুধবার দুপুরে রায়ের পর রাজধানীর মিরপুর, পল্টন, রামপুরা ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় মিছিল বের করার চেষ্টা করে জামায়াত-শিবির। এ সময় তারা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে।

রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মী পলাশবাগ মোড় এলাকায় একত্রিত হয়ে তিন থেকে চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হননি।’

অন্যদিকে বাড্ডা থানার এসআই শাহীনুর ইসলাম জানান, বাড্ডা এলাকায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা জড়ো হতে থাকলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আবার মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার বিআরটিএর সামনে নিজামীর ফাঁসির রায়ের পর ঝটিকা মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির।

এ ছাড়া নিজামীর অনুরোধকে উপেক্ষা করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ভাঙচুর, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ ও নাশকতা চালায় জামায়াত-শিবির।

গতকালও বিকেলে যেখানে যানজটে নাকাল ছিল রাজধানীবাসী, সেখানে আজ বুধবার তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। জামায়াতের নাশকতার আতঙ্কে রাস্তাঘাট মোটামুটি জনশূন্য হয়ে পড়ে। লোকজন আতঙ্কে বাসার দিকে ছোটেন। তবে কিছু পাবলিক যানবাহন রাস্তায় চলাচল করেছে।

এদিকে জামায়াতের হরতাল প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, হরতালে নাশকতা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য দলকেও মাঠে নামানো হবে। অর্থাৎ নাশকতার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই