মেইন ম্যেনু

নাসিক নির্বাচনে আ.লীগ জয় পেলেও ক্ষতি নেই বিএনপির

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে আশার আলো দেখিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় প্রতীকে এ নির্বাচন হলেও ধানের শীষ ও নৌকার সমর্থন এই নির্বাচনে ঘটেনি। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কৌশলগত জয় হলেও বিএনপি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে। নাসিক নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘সম্প্রতি যত নির্বাচন হয়েছে এর মধ্যে নাসিক নির্বাচন সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ হয়েছে। এখানে সবপক্ষ তথা নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন, যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সবাই মিলে সুন্দর নির্বাচন পুরো দেশকে উপহার দিয়েছেন। আমি প্রত্যাশা করবো আগামীতেও সব নির্বাচন এরকম সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বচ্ছ হবে। তাহলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াতে পারবে। এই নির্বাচন আমাদের মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়েছে।খবর জাগো নিউজের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার মনে করেন- ‘এখন হয়তো একটু আশা করা যায় ২০১৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল সেখানে আমাদের নির্বাচনী ট্রেনটা লাইনচ্যুত হয়ে গিয়েছিল। বলা যায় বগি লাইনচ্যুত হয়ে গিয়েছিল। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের মাধ্যমে লাইনটা আবার উঠে এসেছে। এখানে সরকারকে অবশ্যই কৃতিত্ব দেবো। তাদের প্রার্থী বাছাই, কোনো রকমের ঝামেলা ছাড়া নির্বাচনটা করতে পেরেছে এজন্য। বিএনপির শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ার জন্যও ধন্যবাদ দলটিকে, এই কারণে যে তারা নির্বাচন থেকে সরে যায়নি, শেষ পর্যন্ত থেকেছে। এতে তাদের পলিটিক্সের জন্য ভাল হয়েছে।’

নাসিক নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মৃদু সমালোচনার বিষয়ে শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘তাদের এমন সমালোচনাকে মূল্যবান কথা হিসেবে ধরা যাবে না। বাংলাদেশে যে রাজনীতির সংস্কৃতি! সমালোচনা না করার সংস্কৃতি এখনো চালু হয়নি। আইভীর মতো হেলদি ওয়েট একজন প্রার্থীকে কোন কারণে জনগণ ভোট দেবে না। এখানে আওয়ামী লীগ দলীয় কোন্দল মিনিমাইজ করেছে। মওদুদ, রিজভীর কথায় সিরিয়াস হওয়ার কিছুই নেই।’

ধানের শীষের পরাজয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যতই নৌকা আর ধানের শীষের নির্বাচন হোক একটা বিষয় হচ্ছে এখানে সেলিনা হায়াৎ আইভীর মতো প্রার্থী। আওয়ামী লীগ সফলতার সঙ্গে তাদের দলীয় কাউন্সিল করেছে, নেতাকর্মীরা চাঙা আছে, দলের ভেতরে ভাঙন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে টেককেয়ার করেছেন। এগুলোর বিপরীতে আমরা কী দেখতে পাচ্ছি? সাখাওয়াত নতুন প্রার্থী। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আঞ্চলিকতার একটা বিষয় থাকে, তিনি সেই অর্থে নারায়ণগঞ্জের নন বলে একটা গুঞ্জনও আছে। এগুলো মোটামুটি মাঝারি ধরনের ফ্যাক্টর-

-আর বড় ফ্যাক্টর হচ্ছে বিএনপির সেই সাংগঠনিক শক্তি কোথায়? এখানে মূল বিষয়টা হচ্ছে প্রার্থী। জনগণ আইভীকে কেন ভোট দেবে না। কেউ যদি মনে করে আমরা মার্কার বাইরে যাবই না- তা হতে পারে, তবে সব ভোট এমন না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখনো ভোটাররা প্রার্থী, তার ইমেজ- এগুলো দেখে। আইভীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই, সন্ত্রাসের অভিযোগ নেই, আইভী মানুষের ঘরে ঘরে যাওয়ারও নজিরও আছে। একটা লোককে ভোট দেবো না তার কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আইভীর ক্ষেত্রে। তাহলে আরেকটা কথা উঠতে পারে ধানের শীষ ও নৌকার যে সমর্থন সেটা স্থানীয় এই নির্বাচনে ঘটেনি।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আইভী এমনিতেই জনপ্রিয়। এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগ দেখানোর চেষ্টা করেছে তারা কতটা জনপ্রিয়। এখানে আওয়ামী লীগের কৌশলের জয় হয়েছে। যদি সুন্দর একটা আবহ থাকতো, সামগ্রিকভাবে দেশের যে অবস্থা সবমিলিয়ে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ নারায়ণগঞ্জে ছিল না। নির্বাচনের সময় নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল না। শঙ্কা ছিল। পার্টির স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সেখানকার গড ফাদার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। কিন্তু শঙ্কা দূর হয়নি। অধিকাংশ ভোটারের সম্পৃক্ততা দেখা যায়নি। সবার অংশগ্রহণ থাকলে ফল সরকারের বিপক্ষেও যেতে পারতো। নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা ও সরকারের ভয়ের বেড়াজালের কারণে জনগণের মতের সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি।’

এই পরাজয় থেকে বিএনপির শিক্ষা নেয়ার কিছু আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন করে বিএনপির শিক্ষা নেয়ার কোনো বিষয় নেই। সরকার কৌশলগত সময় অতিক্রম করছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন দেখানোর জন্য হয়তো নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের পরিবেশ এমন দেখিয়েছে। তৈমুরকে প্রার্থী না করে আরেকজনকে প্রার্থী করার কারণে এটা আগে থেকেই অনেকটা নিশ্চিত ছিল যে বিএনপি প্রার্থীর পরাজয় হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধায়নে নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী জয়লাভ করার সম্ভাবনা নেই। তবে নাসিককে মন্দের ভালো হিসেবে ধরে নেয়া যায়। কিছু মানুষ হয়তো তাদের ভোট দিতে পারলো।






মন্তব্য চালু নেই