মেইন ম্যেনু

তাইজুলময় টেস্টে স্বস্তির জয়

মেঘলা আবহাওয়ায় ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে চলছিল মিরপুর টেস্ট। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মেঘের আড়াল থেকে সূর্য একবারও উঁকি দেয়নি। আবার বৃষ্টিও হয়নি। আকাশ থেকে বৃষ্টি না ঝরলেও উইকেটের বৃষ্টি পড়েছে মিরপুর স্টেডিয়ামে । স্পোর্টিং উইকেটে দুই দল উইকেট হারিয়েছে ১৭টি। স্পোর্টিং উইকেটের জন্য শ্রীলঙ্কান কিউরেটর গামিনিকে ধন্যবাদ দিতেই হবে। দিন শেষে জিম্বাবুয়েকে তিন উইকেটে হারিয়ে ঢাকা টেস্ট জিতে নেয় বাংলাদেশ।

এ জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ জয় পেলেও ক্রিকেটপ্রেমীরা এমন  খেলা প্রত্যাশা করেনি। মাত্র ১০১ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে ৭  উইকেট হারায় টাইগাররা। নিজেদের চিরচেনা উইকেটে এমন ব্যাটিং দেখতে চায়নি কেউ।

সহজ ম্যাচ কীভাবে কঠিন করে জিততে হয়, সেটাই যেন ক্রিকেট-বিশ্বকে দেখিয়েছেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। তাই ১০১ রানের টার্গেটে পৌঁছাতে ৭ উইকেট হারাতে হয়েছে তাদের।

ধন্যবাদ তাইজুল ইসলামকে। বোলিংয়ে আট উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে মূল্যবান ১৫ রান করে বাংলাদেশকে পঞ্চম টেস্ট জয়ের স্বাদ দেওয়ার জন্য।

২০০৫ সালে বাংলাদেশের আরেক বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়রের হাত ধরে টেস্ট ম্যাচ জয় করা শেখে বাংলাদেশ। এবার জয়ের নায়ক বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল। সেবারও প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। এবারও জিম্বাবুয়ে।

তাইজুলের সঙ্গে ২৩ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন টাইগার-দলপতি মুশফিকুর রহিম। ১০১ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে কোনো রান যোগ না করতেই সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল, শামসুর রহমান শুভ ও মুমিনুল হক।  চতুর্থ উইকেটে ৪৬ রান যোগ করেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এরপর ১৫ রান করা সাকিবকে বিদায় নিতে হয় চাতারার বলে। সাকিবের পর মুশফিক ব্যাটিংয়ে নেমে রিয়াদকে ভালোই সঙ্গ দিতে থাকেন। প্রথম ইনিংসে অর্ধশতকের দেখা পাওয়া মাহমুদুল্লাহও দ্বিতীয় ইনিংসে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। কিন্তু ২৮ রান করা রিয়াদ ক্রিজে থাকতে পারেননি। চিগাম্বুরার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। এরপর স্বাগতিক দর্শকদের আরো হতাশ করেন শুভাগত হোম। একই ওভারের শেষ বলে ফেরেন তিনি। এরপর শাহাদাত হোসেন রাজীব একটি চার ও এক ছক্কায় ১১ রান করে বাংলাদেশকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে গেলেও অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হয়ে খেলতে গিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন।

এরপর বাংলাদেশের জয়ের গল্প রচনা করেন তাইজুল ইসলাম। চিগাম্বুরা, চাতারা ও পানিয়াঙ্গারার বলগুলোতে বাউন্ডারি বানিয়ে লাল-সবুজের পতাকা মেলে ধরেন তাইজুল। ২৩ বলে দুটি চারে ১৫ রান করেন তাইজুল। আর টাইগার-দলপতি মুশফিকুর রহিম ৬৩ বলে তিনটি বাউন্ডারিতে ২৩ রান করে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করেন।

দিনের শুরুটাও ছিল তাইজুলময়। বাঁহাতি এই স্পিনারের বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন ভুসিমুজি সিবান্দা। প্রথম ইনিংসে মাত্র এক উইকেট পাওয়া তাইজুলও জানতেন না, তার জন্য কী অপেক্ষা করছে। সিবান্দাকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ে ইনিংসে ধস নামাতে শুরু করেন তাইজুল। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তাফাজওয়া কামুঙ্গোজির উইকেট নিয়ে শান্ত হন। এ সময়েই নেন আরো ছয় উইকেট। ইনিংস শেষে তাইজুলের নামের পাশে আট উইকেট। কিপটে তাইজুল এজন্য খরচ করেন মাত্র ৩৯ রান।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এর আগে এক ইনিংসে এত উইকেট কেউ পাননি। সাত উইকেট নিয়ে সবার শীর্ষে ছিলেন সাকিব আল হাসান। ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাত উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ছয় বছরের সেই রেকর্ড সোমবার ভেঙে দেন তাইজুল। ওপেনার সিবান্দার পর ৩২ বলে ২৫ রান করা সিকান্দার রাজার উইকেট নেন তাইজুল। এরপর  একে একে চাকাবা (১০), চিগাম্বুরা (০), অরভিন (১০),  পানিয়াঙ্গারা (০), চাতারা (৪) ও কামুঙ্গোজির (০) উইকেট নেন নাটোরের এই স্পিনার। মাঝে পেসার শাহাদাত হোসেন রাজীব ও সাকিব আল হাসান একটি করে উইকেট নেন জিম্বাবুয়ের ইনিংসকে গুটিয়ে দিতে সহযোগিতা করেন। ম্যাচ-সেরা নির্বাচিত হন তাইজুল ইসলাম।






মন্তব্য চালু নেই