মেইন ম্যেনু

ঢাবির পর রাবির ইংরেজি বিভাগে ভর্তিতে ফল বিপর্যয়

এবার পাশের হারে ধস নেমেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের জন্য ভর্তি পরীক্ষায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার পর রাবির ভর্তি পরীক্ষাতেও এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ফলাফল দেখা গেছে।

রাবির ইংরেজি বিভাগে শতাধিক আসন থাকলেও ভর্তি পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের মধ্যে ১৬ পেয়ে পাশ করেছে মাত্র ৭৫ জন শিক্ষার্থী। এ নিয়ে ব্যাপক জটিলতা দেখা দিলে ইংরেজি বিভাগের জন্য নিয়ম বহির্ভূতভাবে নতুন পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই নতুন পদ্ধতিতেই ভর্তি পরীক্ষায় ৫৪৫ জনকে উত্তীর্ণ করে শুক্রবার সকালে তাদেরকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে। ইংরেজি বিভাগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদের অধীনে পরীক্ষা নেওয়া হলেও নতুনভাবে আবারো উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়। এতে করে ভর্তির অনিশ্চয়তায় রয়েছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ ও ইংরেজি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ‘এ’ ইউনিটের (কলা অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয় গত ২২ অক্টোবর। ওই পরীক্ষায় চারটি অংশ রেখে বলা হয়, যাদের পছন্দে ইংরেজি থাকবে তাদের জন্য ‘ক’ ‘খ’ এবং ‘ঘ’ অংশের উত্তর বাধ্যতামূলক।

এ ছাড়া যাদের পছন্দে ইংরেজি থাকবে না, তাদের জন্য ‘ক’ ‘খ’ এবং ‘গ’ অংশের উত্তর বাধ্যতামূলক। সেখানে ইংরেজিতে ভর্তির জন্য ৩০ নম্বরের মধ্যে ১৬ সহ মোট ৪০ পেলে তাকে ভর্তির জন্য নির্বাচিত করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কয়েকটি সূত্র জানায়, অনেক শিক্ষার্থী ইংরেজিতে ১৬ না পাওয়ার ভয়ে ওই অংশের উত্তর প্রদান না করে অন্য অংশের উত্তর প্রদান করেন। কিন্তু পরীক্ষা নেওয়ার পর খাতা (ওএমআর শিট) মূল্যায়ন করতে গিয়ে দেখা যায়, ইংরেজিতে ৩০ নম্বরের মধ্যে ১৬ পেয়েছেন জোড় রোলধারী ৩২ জন এবং বিজোড় রোলধারী ৪৩ জন। কিন্তু ইংরেজি বিভাগে শতাধিক আসন থাকায় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৭৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিপাকে পড়ে বিভাগ।

এ কারণে গত ৮ নভেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহম্মদ মিজান উদ্দিনের কার্যালয়ে বৈঠক করেন কলা অনুষদের ডীন খন্দকার ফরহাদ হোসেন, ইংরেজি বিভাগের সভাপতি শেহনাজ ইয়াসমিনসহ কয়েকজন শিক্ষক। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইংরেজিতে পাশ নম্বর ১৬ এর বদলে ১২ করা হয়। এতে জোড় ও বিজোড় মিলে মোট ৫৪৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়। তাদেরকে শুক্রবার সকালে ছয়টি গ্রুপে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবন ও ডিনস কমপ্লেক্স-এর বিভিন্ন কক্ষে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে।

তবে ইংরেজি অংশ পূরণ করা ভর্তিচ্ছু একাধিক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘এ ইউনিটে পরীক্ষা হয়েছে মোট শতাধিক নম্বরের। এর মধ্যে যারা ইংরেজি অংশ পূরণ করেছেন তাদের জন্য ৭০ নম্বরের সঙ্গে ইংরেজিতে ৩০ নম্বরের অংশ পূরণ করতে হয়েছে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ইংরেজিতে ১৬ পেয়ে আমাদের যে মেধাক্রম হয়েছিল পাশ নম্বর ১২ করায় মেধাক্রমে পরিবর্তন এসেছে।’

শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী ইংরেজিতে ভালো করার পরেও প্রশাসনের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে হয়তো ওই বিভাগে ভর্তি হতেই পারবে না। এমনকি ওই ইউনিটের অন্য বিষয়েও ভর্তির যোগ্যতা হারাতে পারে।’

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ইংরেজি বিভাগের সভাপতি শেহনাজ ইয়াসমিন সাংবাদিকদের সামনে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘ইংরেজি বিভাগে ভর্তি ও সাক্ষাৎকারসহ সব তথ্য ডিন অফিসে রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য আপনাদের দিতে পারব না।’

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন খন্দকার ফরহাদ হোসেনের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার সকল কার্যক্রম অনুষদ থেকে করার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একক ক্ষমতাবলে তা ইংরেজি বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন, যা ভর্তি পরীক্ষার নিয়মবহির্ভূত।’

তিনি আরো বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশক্রমে ভর্তি পরীক্ষার সব নথিপত্র এবং খাতা (ওএমআর সিট) ইংরেজি বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন থেকে ভর্তি পরীক্ষার যাবতীয় বিষয় দেখবে ওই বিভাগ।’

পরে বিষয়টি নিয়ে ইংরেজি বিভাগের সভাপতির কাছে যাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে সব তথ্য গোপন করেন। ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি অংশ কত জন পূরণ করেছিল, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সময় নেই অজুহাত দিয়ে সাংবাদিকদের চলে যেতে বলেন।

তবে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কেন দ্বিমুখী আচরণ করা হচ্ছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি বিভাগ প্রথমে পাশ নম্বর যে ১৬ ধরা হয়েছিল তা ঠিক ছিল না। তাই ওই বিষয়ে পাশ নম্বর ১২ ধরে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।’






মন্তব্য চালু নেই