মেইন ম্যেনু

টেস্টে ১৮ মাস পর জয় বাংলাদেশের

বিদেশ-বিভূঁইয়ের হারারে স্পোর্টস গ্রাউন্ডের পর স্বদেশের মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম। ২৫ এপ্রিল ২০১৩ সালের পর ২৭ অক্টোবর ২০১৪। ১৮ মাসের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে টেস্ট ক্রিকেটে জয়ের মুখ দেখলো বাংলাদেশ।

সোমবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম খেলার তৃতীয় দিনে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে পঞ্চম জয়ের আনন্দ উদযাপন করলো টাইগাররা। এদিন সফরকারী জিম্বাবুয়েকে তিন উইকেটে পরাস্ত করে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মুশফিক বাহিনী।

ঢাকা টেস্টে তাইজুল ইসলামের বোলিং রেকর্ড গড়ার দিনে বাংলাদেশের জয়টা হতে পারতো আনায়েস-সাধ্য। কিন্তু বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা তা হতে দেয়নি। উপরন্তু মামুলি ১০১ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে স্কোরবোর্ডে কোনো রান না তুলতেই তিন উইকেট হারিয়ে স্বাগতিক সমর্থকদের হৃদয়ের ধুকপুকানি বাড়ায় তারা।

অবশ্য শেষ পর্যন্ত কোনো দুর্যোগ ঘটেনি। চতুর্থ উইকেটে জুটিতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসানের ৪৬ রানের অবস্থানে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটায় বাংলাদেশ। বাকি পথটুকু বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমরা।  রিয়াদ ২৮, সাকিব ১৫, মুশফিক ২৩ (অপরাজিত )ও তাইজুল ১৫ (অপরাজিত) রান করেন।

এর আগে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে টেস্টের তৃতীয় দিন শুরু করা জিম্বাবুয়েকে ধসিয়ে দেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এক টেস্টের এক ইনিংসে আট উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান তিনি। ফলে জিম্বাবুয়ে তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫.৫ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয়।

দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুলের ঘূর্ণির শিকার হন ভুসি সিবান্দা (১৪), রেজিস চাকাবা (১০), সিকান্দার রাজা (২৫), এলটন চিগম্বুরা (০), ক্রেইগ আরভিন (১০), তিনাশে পানিয়াঙ্গারা (০), তেনদাই চাতারা (৪) ও টি কামুনগোজি (০)। মজার বিষয় হলো ইনিংসের শুরু ও শেষের উইকেটটি তুলে নেন তাইজুল।

প্রসঙ্গত, সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন দলটির অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর। ২৫ রান করেন সিকান্দার রাজা। আর এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৪০ রান করেছিল জিম্বাবুয়ে। সেই ইনিংসে সাকিব ছয় ছয়টি উইকেট শিকার করেন।

আর বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের ৬৪, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ৬৩ ও মুমিনুল হকের ৫৩ রানের ওপর ভর করে ২৫৪ রান সংগ্রহ করেছিল। সেই ইনিংসে জিম্বাবুয়ের পক্ষে পাঁচটি উইকেট নিয়েছিলেন তিনাশে পানিয়াঙ্গারা। ২৩ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে এই উইকেট শিকার করেন জিম্বাবুয়ান পেসার।

তাইজুলের রেকর্ড:

তাইজুলের রেকর্ড

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটের এক ইনিংসে আট উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখালেন তাইজুল ইসলাম। আর এর মাধ্যমে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের রেকর্ড ভাঙলেন তিনি।

সোমবার মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বোলিংয়ে গৌরবময় রেকর্ড অর্জন করেন এ স্পিনার। তৃতীয় দিনে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংসে ত্রাসের নাম তাইজুল। সফরকারী দলটির টপ অর্ডারে ভুসি সিবান্দাকে দিয়ে উইকেট নেয়া শুরু করেছিলেন তিনি, থেমেছেন তাফাদজাওয়া কামানগোজির উইকেট নিয়ে। ১৬.৫ ওভার বল করে ৩৯ রানে আটটি উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ২৫.৫ ওভারে ৩৭ রানে সাত উইকেট নিয়ে সাকিব আল হাসান ছিলেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। আর এনামুল হক জুনিয়র ঢাকায় ৯৫ রানে সাত উইকেট নেন ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

প্রায় ছয় বছর পর বিশ্বসেরা সাকিব আল হাসানের রেকর্ড ভেঙে বাংলাদেশ ক্রিকেটে সেরা বোলারের তালিকায় উঠে এলেন ২২ বছর বয়সী তরুণ ডানহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তার বিষাক্ত স্পিনে মাত্র ৩৫.৫ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস।

এ ইনিংসে বাকি দু’টি উইকেট নিয়েছেন পেসার শাহাদাত ও সাকিব আল হাসান।

প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরে জ্যামাইকার সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নসভেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক হয় জাতীয় দলের তরুণ স্পিনার তাইজুলের। টেস্ট ক্যারিয়ারের অভিষেক ম্যাচেই পাঁচ পাঁচটি উইকেট শিকার করেন ডানহাতি এই স্পিনার। এজন্য অবশ্য ৪৭ ওভার বল করতে হয়েছিল তাকে।

এক নজরে বাংলাদেশের টেস্ট সেরা বোলিং
সাকিব আল হাসান ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫.৫ ওভারে ৩৬ রানে সাত উইকেট।
এনামুল হক জুনিয়র ২০০৫ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩৫ ওভারে ৯৫ রানে সাত উইকেট।
শাহদাত হোসেন রাজিব ২০০৮ সালে ঢাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫.৩ ওভারে ২৭ রানে ছয় উইকেট।






মন্তব্য চালু নেই