মেইন ম্যেনু

জয় অর্বাচীন বালক : ফখরুল

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘অর্বাচীন বালক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় জয়কে এ আখ্যা দিলেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে জয়ের জন্ম। বয়স অনেক কম, অনেক ছোট। তার (জয়) কথার পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু তাদের নেতাদের মতোই বলতে চাই, জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সে অর্বাচীন বালকের মতো কথা বলেছে।’

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত ‘শহীদ জিয়া ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শুক্রবার এক আলোচনা সভায় জয় বলেন, ‘যারা রাজাকার অবশ্যই তাদের বিচার হতে হবে, তারা যুদ্ধাপরাধী। তবে আমি প্রশ্ন করব-যারা তাদের সমর্থক, তারা কি স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করতে পারে? যে ব্যক্তি এই যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফেরত এনেছে সে কি মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে? কোনোমতেই না।’

দেশের সঙ্গে জয়ের সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ‘তার (জয়) বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে পাকিস্তান আর ভারতে। পড়াশোনার জন্য অনেকদিন থেকেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এই দেশের সঙ্গে তার কতটুকু সম্পর্ক আছে, তা বলতে পারছি না। কিন্তু তিনি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করে নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছে।’
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানই আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন। তা না হলে এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকতো না। তাকে বলবো, ইতিহাস জেনে কথা বলবেন। জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে এলোমেলো বক্তব্য দেশের তরুণ সমাজ মেনে নেবে না।’
জয়কে ‘শিশু’ আখ্যায়িত করে মির্জা আলমগীর বলেন, ‘সে বলেছে, স্বৈরাচারের মধ্য দিয়েই নাকি বিএনপির জন্ম। তাকে বলি, আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন। বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছেন। কিন্তু বিএনপির সশস্ত্র নয়, উদার গণতান্ত্রিক দল। জনগণই আমাদের শক্তি।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে জয় কত সম্মানী পান সে বিষয়ে জানতে চান মির্জা আলমগীর। তিনি বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন জয়কে দুই লাখ ডলার বেতন দেওয়া হয়। এটি সত্য কিনা জনগণ জানতে চায়। হজ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কারণে নাকি জয়কে নিয়ে বক্তব্য দেওয়র জন্য লতিফ সিদ্দকীর মন্ত্রিত্ব গেলো তা নিয়েও জনগণের মনে প্রশ্ন রয়েছে।’
বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জিয়াউর রহমানকে আলাদা করার সুযোগ নেই জানিয়ে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এক সময়ে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে এখন গণতন্ত্রের বুলি আওড়ায়। অথচ জিয়াউর রহমানই গণতন্ত্রের  প্রাণ দিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল কায়েম করে সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র করেছিলেন। ১১ মিনিটে সংবিধান পরিবর্তন করেছিলেন।’

জিয়াউর রহমানের ডাকেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিলো উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘এর মধ্যে এতটুকু খাদ নেই। জিয়াউর রহমানকে কটূক্তি করলেই তার অস্তিত্ব ও অবদানকে মুছে ফেলা যাবে না।’

সরকারের উপদেষ্টা এইচটি ইমামের সাম্প্রতি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা আলমগীর বলেন, ‘তিনি সারা বছর আমলা থেকে এখন রাজনৈতিক উপদেষ্টা হয়েছেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন কিভাবে মানুষের আশা আকাঙ্খাতে ধুলিসাৎ করা হয়েছে তা এইচটি ইমামের কথায় স্পষ্ট হয়েছে। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘এইচটি ইমাম ছাত্রলীগের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন। ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, বাড়ি, জমি, ব্যবসা, এমনকি ঢাকার ফুটপাতে পর্যন্ত চাঁদাবাজি করছে। এই হচ্ছে তাদের গণতন্ত্র। এভাবে হাজারও উদাহরণ দেওয়া যাবে।’

আওয়ামী লীগ আবারো বাকশাল কায়েম করতে চায়, অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘তারা উন্নয়নের জন্য নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের কথা বলে। ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাকে পুঁজি করে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। কারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাদের এই ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’

১৫ আগষ্টে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ১৫ আগষ্টের জন্য অনেককেই দায়ী করেন। ওই সময়ে রক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। সেদিন এ বাহিনী কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলো? ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ কোনো মিছিল করেছিলো? প্রতিবাদ না করে পালিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু একজন প্রতিবাদ করেছিলেন, তিনি কাদের সিদ্দিকী। সেজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘অনেকে হতাশার কথা বলেন। আমি বলি, হতাশার কিছু নেই। এই ধরনের ফ্যাসিবাদি ও স্বৈরাচারি সরকার কখনো ঠিকে থাকেনি। এটা ইতিহাস। বিএনপির কিছু ভুল থাকতে পারে, কিন্তু জনগণের কোনো ভুল নেই। তারা এর জবাব দেবেই দেবে।’
আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রো ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, বিশিষ্ট চলচিত্র ব্যক্তিত্ব চাষী নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সংগঠনের সদস্য সচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেন।






মন্তব্য চালু নেই