মেইন ম্যেনু

জামায়াতের নায়েবে আমীরকে অব্যাহতি!

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আতাউর রহমানকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করায় রাজশাহী মহানগরের সাবেক এই আমীরের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জামায়াতের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলটির আগামী দিনের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ নিয়ে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ ও দ্বন্দ্বের কারণেই আতাউর রহমানকে নায়েবে আমীরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে তার রুকনিয়াত (সদস্যপদ) বহাল আছে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য হিসেবেও তাকে বহাল রাখা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এক বিবৃতিতে দাবি করেন, আতাউর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। যদিও নায়েবে আমীরের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিবৃতিতে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও বহিষ্কারের তথ্য প্রচার করা হলেও সেটিকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন মুজিবুর রহমান।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান একে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন। তার দাবি, অতীতে জামায়াতের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে, ভবিষ্যতেও হতে পারে। মওলানা আতাউরকে বহিষ্কার করার কথা ভুল ও মিথ্যা। যদিও এ প্রতিবেদকের প্রশ্নে আতাউরের অব্যাহতির প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।

গত ডিসেম্বর মাসে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে নায়েবে আমীর হিসেবে মনোনীত হন রাজশাহী মহানগরের সাবেক আমীর আতাউর রহমান। সরাসরি মহানগর থেকে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন না করার পরও তাকে নায়েবে আমীর করেছিলেন দলের আমির মকবুল আহমাদ।

ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে ঢাকা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতার ভাষ্য, ‘আতাউর রহমানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা ভুল-ত্রুটি নিয়ে জামায়াতে কেউই মুখ খুলবে না। দলে তার আত্মত্যাগ স্মরণযোগ্য। এক্ষেত্রে শুধু দলের নায়েবে আমীর পদ থেকে তাকে সরানো হয়েছে।’

সূত্রের দাবি, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং সবশেষ মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধেও একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার সংবাদ প্রকাশের পর আতাউর রহমানের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ পরিচয়টিকে সামনে আনতে চাইছিল জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব। তিনি সম্পর্কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের শ্বশুর। ড. শফিক বর্তমানে কারাগারে আছেন। আতাউর রহমানও মহাজোট সরকারের আগের শাসনামলে কারাগারে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন।

জামায়াতের ঢাকা মহানগরের একাধিক সূত্র জানায়, জামায়াতের ইতিহাসে এমন নজির বিরল। এবারই প্রথম দায়িত্ব দেওয়ার আড়াই মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় কোনও নেতাকে সরিয়ে দিলেন নীতিনির্ধারকরা।

দলটির একটি সূত্রের ভাষ্য, আশির দশকে নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুর রহিমকে মতবিরোধের কারণে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন গোলাম আযম। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাচ্চুকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে একটি সূত্রের দাবি।সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন।






মন্তব্য চালু নেই