মেইন ম্যেনু

ছাত্রলীগের উপর বিএনপির হামলার পরই সংঘর্ষ

বিএনপির উষ্কানির কারণে গতকাল বুধবার বকশিবাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা শুনেছি গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের একটি কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচি চলার সময় বিএনপির দশ-পনেরজন সন্ত্রাসী তাদের উপর সশস্ত্র হামলা করে। তখন সংঘর্ষ বেঁধে যায়।’

বৃহস্পিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমণ্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যলয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

হানিফ বলেন, ‘বিএনপির কর্মীরা ছাত্রলীগের কর্মীদের কর্মসূচিতে মিছিল নিয়ে গিয়ে শ্লোগান দিয়ে হামলা চালায়। তাদের উপর চড়াও হয়। তখনই এই সংঘর্ষ হয়। আমরা কখনো এ ধরনের ঘটনার সমর্থন জানাই না।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল বিএনপির সন্ত্রাসীরা যেভাবে রাজপথে সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে। বেগম জিয়ার গাড়িবহরকে যেভাবে সশস্ত্রভাবে নিয়ে গিয়েছে। এরপর আর বলার অপেক্ষা রাখে ওই সন্ত্রাসীবাহিনীর সাথে কেউ আগ বাড়িয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে? এটা বিশ্বাস যোগ্যও নয়।’

এসময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘সারাদেশ থেকে ১০/১৫ হাজার ক্যাডার এনে বিএনপি এ হামলা চালায়। গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে তারা (বিএনপি) এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।’

৫ জানুয়ারি একইস্থানে বিএনপির কর্মসূচি সম্পর্কে হানিফ বলেন, ‘অন্য দল কি কর্মসূচি দিয়েছে তা আমাদের জানার বিষয় না। তবে বিএনপি যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সন্ত্রাসী তৎপরতা, জনগণের জানমাল নষ্ট করার চেষ্টা করে তবে তা কঠোর হস্তে দমন করবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে হানিফ বলেন, ‘এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন। না হলে এদেশের অনেক মানুষ আছে যারা আপনাদের উপর হামলা করতে পারে। গতকালের পরণতি আপনাদের ভাগ্যেও ঘটতে পারে।’

খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘গতকাল বেগম জিয়া যে মামলায় হাজিরা দিয়েছিলেন সেটা করেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আওয়ামী লীগ সরকার নয়। এ মামলা শুরু হওয়ার পর তিনি আদালতে হাজিরা দিতে আগ্রহী ছিলেন না। ৪২ বার তিনি হাজিরা থেকে অনুপস্থিত ছিলেন। তাতে জনগণের মনে প্রশ্ন উঠছে তিনি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কি না!’

তিনি বলেন, ‘গতকালের আগের দিনও আমরা দেখেছি আইনজীবীবেদের কোট পরে আদালতে হট্টগোল সৃষ্টি করেছে তারা।’

হানিফ বলেন, ‘খালেদা জিয়া নিজেও জানেন তিনি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট্রের টাকা আত্মসাত করেছেন। মামলার তদন্তকারীদের কাছে এর প্রমাণও আছে। এর ফলে তার শাস্তি হবে জেনে মামলার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতেই দশ-পনের হাজার সশস্ত্র ক্যাডার নিয়ে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছেন। যাতে তিনি আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেন।’

এ সময় তিনি সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাসের উপর হামলার ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি গতকালের হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন, গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। কর্তৃপক্ষের কাছে ১০ দিন আগে আবেদন করে ওইদিন (৫ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় সমাবেশ করার অনুমতি পাওয়া গেছে। এছাড়াও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান, আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই