মেইন ম্যেনু

চাঁদাবাজ হিসেবে আটক, ছাত্রলীগ হিসেবে মুক্তি

ছাত্রলীগের চাপে এবং প্রশাসনের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি করে হাতেনাতে আটক হয়েও পার পেয়ে গেলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মী।

রোববার বিকেলে তাদের আটক করা হয়। ‘মামলার প্রস্ততি’ নিতে নিতে সময় পার করে রাত দুইটার সময় প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।

প্রক্টর তপন কুমার সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলেন, ‘হল প্রাধ্যক্ষের জিম্মায় তাদেরকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে।’

পুলিশ সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী সাভার উপজেলা চোয়ারম্যানের হানিফ পরিবহন আটকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রথমে তারা সাভার কাউন্টার পরে পরিবহনের মূল কাউন্টারে গিয়ে যখন ব্যর্থ হয়, তখন তারা এ গাড়ি আটক করে। পুলিশ এসময় তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের গেট থেকে গ্রেপ্তার করে।

এই ১৩ শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে সাংগঠনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, জাবি শাখা ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুর রহিম জুয়েলের মামার প্রাইভেট কারের সঙ্গে সিরাজগঞ্জে হানিফের একটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। পরে এ ঘটনা ভাগ্নে জুয়েলকে জানালে গতকাল রোববার বিকেলে ১৪-১৫ জন নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ ডেইরি গেটে হানিফের তিনটি গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা দাবি করে। এসময় আটকে রাখা গাড়ির সুপারভাইজার মনির ও কাশেমকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার এবং সেখানে থাকা ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

আটক হওয়া নেতাকর্মীরা হলেন- আব্দুর রহিম জুয়েল (সাংবাদিকতা বিভাগ, ৪১তম ব্যাচ), মাহবুব আলম ও মেহেদি (আইআইটি, ৪১তম ব্যাচ), মুহিত ( পরিসংখ্যান, ৪১তম ব্যাচ), তানভির ও তালহা (গণিত, ৪২তম ব্যাচ), জাভেদ, বেলাল ও ইসমাইল (অর্থনীতি, ৪২তম ব্যাচ), রবিউল, শিফাত আল রাহা ও আজিম (নগর অঞ্চল ও পরিকল্পনা, ৪২তম ব্যাচ), অনিক সাহা (ভূতত্ত্ব, ৪২তম ব্যাচ)। এছাড়া বনি আলম সবুজ নামে একজনকে আটক করে পরে গোপালগঞ্জবাসী পরিচয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আটক হওয়া নেতাকর্মীদের ছাড়াতে প্রক্টরিয়াল বডি, এমএইচ হলের প্রাধ্যক্ষ, জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ওই হলের নেতা, তানভির, দিপু সাভার মডেল থানায় যান।

এ ব্যাপারে সাভার সার্কেল এসপি রাসেল শেখ বলেন, ‘বাস আটকে যাত্রীদের হয়রানি করার অভিযোগে ১৩ ছাত্রকে আটক করা হয়েছে।’

তবে আটকৃতরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হওয়া সত্ত্বেও পুলিশের এই এএসপি বিষয়টি বারবার এড়িয়ে গেছেন বলেও অনেকে অভিযোগ করেন। তিনি এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন বলেও জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং হল শাখার নজরের বাইরে এ ঘটনা ঘটায় ছাত্রলীগ এর দায়ভার নেবে না। তবে আটককৃত জুয়েলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে এর প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে সংগঠন থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রশাসন তাদেরকে রাতেই মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে।’

মীর মশাররফ হলের প্রাধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘তাদেরকে ছাড়ানো হয়েছে আমার জিম্মায়, তারা ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবে না।’






মন্তব্য চালু নেই