মেইন ম্যেনু

হাইকোর্টের রুল

কোন কর্তৃত্ব বলে নিজাম হাজারী এখনো এমপি

কোন কর্তৃত্ব বলে স্বপদে বহাল আছেন সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার আসনটি কেন শূন্য ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রোববার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রুলে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইজিপি, সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী, প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক, সিনিয়র জেল সুপার চট্টগ্রাম, নির্বাচন কমিশন সচিবসহ দশ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে ফেনীর স্থানীয় যুবলীগ নেতা শাখাওয়াত হোসেন ভুইয়া নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। তার পক্ষে রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। নিজাম হাজারী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একটি মামলার দণ্ডের বিষয়টি গোপন করেন।

২০০০ সালে চট্টগ্রামের একটি আদালতে অস্ত্র আইনের মামলায় নিজাম হাজারীর ১০ বছর সাজা হয়েছিল। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার দুই বছর ১০ মাস আগেই কারাগার থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
একাধিক আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই জালিয়াতির ঘটনা সত্য হলে নিজাম হাজারীকে আবার কারাগারে ফিরে যেতে হবে। জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলাও হতে পারে।

সূত্র জানায়, ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের ১৯(ক) ধারায় ১০ বছর এবং ১৯(চ) ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড হয় নিজাম হাজারীর। উভয় দণ্ড একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে বলা হয়। অর্থাৎ ১০ বছর সাজা ভোগ করবেন নিজাম হাজারী। এই আদেশের বিরুদ্ধে নিজাম হাজারী হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেন। উচ্চ আদালত তার সাজা বহাল রাখেন। সর্বশেষ তিনি রিভিউ আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেন।

সূত্র জানায়, নিজাম হাজারী ১৯৯২ সালের ২২ মার্চ হাজতে যান। হাজতে যাওয়ার দু’দিন পর (২৪ মার্চ ১৯৯২) তাকে আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেয়া হয়। ওই বছরের ২৮ জুলাই তিনি জামিন পান। কিন্তু তার আটকাদেশ বাতিল হয় ওই বছরের ১৫ আগস্ট এবং ওই দিনই তিনি কারাগার থেকে ছাড়া পান। এই হিসাবে নিজাম হাজারী হাজতে ছিলেন ১৯৯২ সালের ২২ মার্চ থেকে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত মোট চার মাস ২৪ দিন।

কোনো মামলায় সাজার আদেশ হওয়ার আগে কারাগারে থাকা সময়কে হাজতবাস এবং সাজা ঘোষণার পরের সময়কে কয়েদ খাটা বলা হয়। নথিপত্রে দেখা যায়, পলাতক থাকা অবস্থায়ই ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট ওই মামলায় নিজাম হাজারীকে সাজা দেন ট্রাইব্যুনাল। ২০০০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাকে ওই দিনই কারাগারে পাঠানো হয়।

২০০৫ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। অর্থাৎ, কয়েদি হিসেবে তিনি কারাভোগ করেন পাঁচ বছর দুই মাস ১৭ দিন। এই হিসাবে নিজাম হাজারী সাজা ভোগ করেছেন পাঁচ বছর সাত মাস ২১ দিন। তাকে সাজা রেয়াত (মাফ) দেয়া হয়েছে এক বছর ছয় মাস ১৭ দিন। কারাগারে সর্বনিম্ন নয় মাসে বছর ধরা হয়। তবে কত মাসে বছর হবে, তা নির্ধারিত হয় কয়েদির আচরণের ওপর ভিত্তি করে।

কারাগারে ঢোকা ও মুক্তি পাওয়ার সময় ধরে নিজাম হাজারী চার মাস ২৪ দিন হাজতবাস করেছেন। কিন্তু তার কয়েদি রেজিস্টারের তথ্য হলো, তিনি তিন বছর দুই মাস ২৫ দিন হাজত খেটেছেন।

সূত্র জানায়, নিজাম হাজারীর হাজতি রেজিস্টারের তথ্য কয়েদি রেজিস্টারে স্থানান্তরের সময় তার হাজতবাসের সময় বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই