মেইন ম্যেনু

কুষ্টিয়ার আ.লীগে অশান্তি বাড়ছে

কুষ্টিয়া জেলার চারটি আসনেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে নয়, অন্তর্দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন কারণে দলটির নেতারা পরস্পরের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দিন দিন অশান্তি বাড়ছে। নেতৃত্বের লড়াইয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম। দলের অভ্যন্তরে গ্রুপিং, কোন্দল আর ক্ষমতার লড়াইয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

বিশেষ দিবস ছাড়া সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে যান না নেতারা। সিনিয়র নেতাদের বেশিরভাগই নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন দলীয় কার্যক্রম থেকে।

যারা সক্রিয় আছেন তারাও টিআর, কাবিখা, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ভাগাভাগিতে ব্যস্ত। ২০০৪ সালের পর থেকে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সম্মেলনই করতে পারেনি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ। ফলে জেলার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব ছাড়াও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও তা প্রকট আকার ধারণ করছে। বহুমুখী সঙ্কট-সংঘাত সাংগঠনিকভাবে কুষ্টিয়ার আওয়ামী লীগকে দুর্বল করছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ প্রায় দুই বছর আগে শুরু হলে আজও দলই গোছাতে পারেনি জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন ইস্যুতে শহরে শোডাউন ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে জেলা কমিটির কার্যক্রম।

গত ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের দিন অসম্পূর্ণ জেলা কমিটিগুলোর কাউন্সিল ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে শেষ করতে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত সময়ের তিন মাস পার হলেও কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ মেয়াদোত্তীর্ণ অনেক ইউনিয়ন এমনকি ৬ উপজেলায় কাউন্সিল করতে পারেনি। ফলে অগোছালো ও সমন্বয়হীনতার মধ্যেই চলছে সরকারি দলটির কার্যক্রম।

এক সময় কুষ্টিয়া কাঁপানো আওয়ামী লীগ ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। আর বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের রাজপথে দেখা পাওয়া ভার।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১৫ এপ্রিল সর্বশেষ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ সদর আসন থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন খন্দকার রশীদুজ্জামান দুদু।

২০১০ সালে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান দুদু। এরপর এমপির অবর্তমানে তার স্ত্রী আর জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা দিয়ে দলীয়সহ সরকারি উন্নয়নমূলক কাজকর্ম করা হতো। তিনিই ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সভাপতি ও সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার রশীদুজ্জামান দুদু মৃত্যুবরণ করেন।

সহ-সভাপতির দীর্ঘ তালিকার সাতজনের মধ্যে খন্দকার জুলফিকার আলী আরজুকে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালনের বদলে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য দলের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের।

এ বিষয়ে দলের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য জানান, সভানেত্রী শেখ হাসিনা মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। যেসব সঙ্কট রয়েছে তা অচিরেই দূর হয়ে যাবে। একটা বড় দলে এ ধরনের সঙ্কট থাকতেই পারে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বায়েজিদ আককাস, দৌলতপুর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাড. সরোয়ার জাহান বাদশা এবং উপজেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনের সঙ্গে কুষ্টিয়া-১ আসনের সাবেক এমপি আফাজ উদ্দিন আহমেদের বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছে।

এদের মধ্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বায়েজিদ আককাস চলেন ভিন্নধারায়।

অ্যাড. বায়েজিদ আককাস বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এদেশকে এগিয়ে নিতে হলে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর ঐক্য এখন জরুরি। সাবেক সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের বহুমুখী সঙ্কট-সংঘাত, তার বৈঠকখানায় বোমা হামলা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ বরাবরই তুঙ্গে।

কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওই আসনে বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত এমপি প্রার্থী মাহবুব-উল-আলম হানিফের দ্বন্দ্ব এক সময় প্রকাশ্য থাকলেও এখন তা অন্তর্মুখী।

দলের অসময়ে ওই আসনে আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি মাহবুব-উল-আলম হানিফ এখন জাতীয় নেতা। ফলে একই নির্বাচনী এলাকায় মহাজোটের দুজন জাতীয় নেতার বাড়ি হওয়ায় প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের পর এ দ্বন্দ্ব মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।






মন্তব্য চালু নেই