মেইন ম্যেনু

‘কী মধু আছে খালেদার মামলায়’

‘খালেদা জিয়ার মামলায় কী এমন মধু আছে যে, সরকার তাড়াতাড়ি এই মামলার কার্যক্রম শেষ করতে চায়। এ মামলা নিয়ে তাড়াহুড়ো করার তো কিছু নেই। মামলা মামলার গতিতে চলবে। সরকারের চলে যাওয়ার সময় এসেছে, তাই মামলা দ্রুত শেষ করে সরকার খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দিতে চাইছে।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া হাজিরা দিতে গেলে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতকে উদ্দেশ করে এ কথা বলেন।

রোববার দুপুরে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে অবস্থিত বিশেষ জজ বাসুদেব রায়ের আদালতে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল মামলার শুনানি চলছিল। তখন খন্দকার মাহবুব হোসেন সরকারের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকারের ইশারায় শুনানির জন্য ঘন ঘন তারিখ ফেলা হয়। তাই একটি মামলার কার্যক্রমের জন্য ৪৭ বার তারিখ পড়েছে। ভিআইপি মামলার ক্ষেত্রে ঘন ঘন তারিখ ফেলা হয় না। কিন্তু খালেদার মামলার ক্ষেত্রে এ কাজ করা হয়েছে। সরকার আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না। তাই খালেদার মামলা শেষ করার জন্য উঠেপড়ে লাগছে।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা আছে বিধায় খালেদা জিয়া হাজির হয়েছেন। কিন্তু এই আদালতের প্রতি আস্থা নেই বিধায় আদালত পরিবর্তনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিচারকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেও আপিল বিভাগে একটি রিট করা আছে। সেটির শুনানি চলমান রয়েছে। তাই এ মামলার কার্যক্রম চলতে পারে না।

এর আগে খালেদা জিয়া বেলা ১১টার দিকে আদালতে উপস্থিত হন। খালেদার আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন।

দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন কাজল মাহবুব হোসেনকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, মিথ্যা অজুহাতে এ মামলার কার্যক্রম পেছানো হচ্ছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বিচারক ও আদালত পরিবর্তন করার আবেদন সংক্রান্তও কোনো কাগজপত্রও আদালতে জমা দেননি।

কাজল আরো বলেন, এ মামলার ৪৭টি তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। খালেদা জিয়া মাত্র ছয়বার হাজিরা দিয়েছেন। তাই এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করা হোক। তাদের আদালতের প্রতি আস্থা নেই। বিচারকের প্রতি আস্থা নেই। তারা কোথায় যেতে চায়। সে সংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিল করে আদালত পরিবর্তন করতে পারে। এমনকি বিচারক পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু এভাবে মামলার সাক্ষী বারবার এসে ফিরে যাচ্ছে। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল লেগে যায়।

পরে বিশেষ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায় উভয় পক্ষকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আদালতে সবাই আইনের ভাষায় কথা বলবেন। একে অপরকে কটাক্ষ করে কথা বলবেন না। পরবর্তীতে এ দিকগুলো বিবেচনায় আনবেন সবাই।’

সবশেষে আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৪ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেন।






মন্তব্য চালু নেই