মেইন ম্যেনু

লড়াই হবে লাঙ্গল-আনারসে

ওসমান পরিবারের পক্ষেও বিএনপি-জামায়াত!

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র আওয়ামী লীগ সমর্থক ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের তীর ছুড়ে আসা সেই ওসমান পরিবারের পক্ষে এবার মাঠে নেমেছে সরকার বিরোধীরা।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে সরকার সমর্থক প্রার্থী ওসমান পরিবারের সন্তান সেলিম ওসমানকে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছে বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

গত ১৬ জুন বন্দরের সোমবাড়িয়া বাজার এলাকায় সেলিম ওসমানের নির্বাচনী সভায় প্রকাশ্যে লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়েছেন মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি সেলিম ওসমানকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এরপর গত ২১ জুন নগরীর পুরান বন্দর এলাকায় নির্বাচনী সভায় সেলিম ওসমানকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন বন্দর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার জামায়াত নেতা খোকা মোল্লা। একই মঞ্চে লাঙ্গল প্রতীককে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে নেতাকর্মী ও ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছেন বন্দর থানা ছাত্রদল নেতা হুমায়ন মোল্লা, বন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফ মোল্লা, বিএনপি সমর্থক শহীদ মোল্লা, আরিফ মোল্লা প্রমুখ।

সভামঞ্চে জামায়াত ও বিএনপির এসব নেতা উন্নয়নের স্বার্থে সেলিম ওসমানকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সেলিম ওসমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) এস এম আকরামকে প্রতিবন্ধী হিসেবে আখ্যা দেন।

জাতীয় পার্টির পাশাপাশি ইতোমধ্যেই সেলিম ওসমানকে সমর্থন জানিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, নগর বিএনপির একাংশ ও জামায়াত নেতারা। এছাড়া এতোদিন যারা মেয়র আইভীর পক্ষে ওসমান পরিবারের বিরোধীতা করে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অগ্নিঝরা বক্তব্য দিয়েছেন তারাও এখন সেলিম ওসমানের নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন।

যদিও সেলিম ওসমানের পক্ষে নির্বাচনী মিশনে আগেই মাঠে নেমেছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী। যাকে সবাই জানেন যে কোনো নির্বাচনে গেইম মেকার হিসেবে। নগরীর গোগনগর এলাকায় এই মোহাম্মদ আলীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমানকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন দেওয়ানও।

শুধু তাই নয়, গত ২০ জুন বিকেলে আলীটেক গুদারাঘাট এলাকায় সেলিম ওসমানের হাতে হাত রেখে সমর্থন জানিয়েছেন আইভীপন্থি হিসেবে চিহ্নিত জেলা ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের নেতা অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন।

এর আগে সেলিম ওসমান তার নির্বাচনে প্রথম চমক দেখান ১৮ জুন। ওইদিন বিকেলে শহরের শীতলক্ষ্যা এলাকায় মহাগরের ১৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সভা মঞ্চে উপস্থিত হন। সভায় ওসমান পরিবারের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহানুভূতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমান পরিবার ও নাসিম ওসমানকে নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন এরপর আর কিছু বলার থাকে না। শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী কোনো দলকে নয় ওসমান পরিবারকে দিয়েছেন। আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থা রেখে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি তাদের শেখ হাসিনার নির্দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অনেকে দলের ভেতরে ভেতরে থেকে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।’ এ অপপ্রচারে কান না দেয়ার আহ্বান জানান কাউন্সিলর মুন্না।

এদিকে, নির্বাচনী বিধি নিষেধের কারণে প্রথম দিকে আকরামের পক্ষে মাঠে না নামলেও গত রোববার বন্দরের মদনগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পরোক্ষ প্রচারণা চালান মেয়র আইভী। একই ভাবে প্রচারণায় এমপির অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেলিম ওসমানের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে না নামলেও ভেতরে ভেতরে কাজ করে যাচ্ছেন এমপি শামীম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকা।

মূলত, নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের উপনির্বাচনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াইটা হবে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছোট ভাই সেলিম ওসমান আর স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আকরামের মধ্যে।

বাকি দুই প্রার্থী বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতালীগের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মামুন সিরাজুল মজিদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের প্রভাবশালী সদস্য এমপি শামীম ওসমান এতদিন ধরে বিভিন্ন সভা সমাবেশে ও নির্বাচনী প্রচারণায় তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে এসেছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থক আইভীকে জামায়াত-বিএনপিপন্থি হিসেবে চিহ্নিত করা শামীম ওসমানের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মনে করছিলেন আইভী সমর্থকরা। এবার নাসিম ওসমানের আসনে সেলিম ওসমানের পক্ষে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে নামায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ এপ্রিল ভারতের একটি হাসপাতালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম নাসিম ওসমান মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৬ জুন ভোটগ্রহণ হবে।






মন্তব্য চালু নেই